সব মিলিয়ে বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। একদিকে প্রাক্তন চ্যাম্পিয়নদের ক্ষোভ, অন্য পাশে নিলসেন–রোজম্যানদের যুক্তি—‘নতুন প্রজন্মের দাবা দর্শকের জন্য নতুনভাবে উপস্থাপন দরকার।’

নাকামুরা
শেষ আপডেট: 7 October 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবার বোর্ডে লড়াই জেতার পর প্রতিপক্ষ ডি গুকেশের (D. Gukesh) ‘রাজা’-র ঘুঁটি দর্শকের দিকে ছুড়ে উল্লাস দেখান হিকারু নাকামুরা (Hikaru Nakamura)। এই কাণ্ডে দাবা দুনিয়া কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত। কেউ বলছেন, এতে ‘গেল গেল’ রব তোলার কিছু নেই। সবই পূর্বপরিকল্পিত, ‘শো’-এর অংশ। আবার বিরোধীপক্ষ একেই খেলার প্রতি অশ্রদ্ধা বলে দেগে দিতে চেয়েছে।
বিতর্কের আগুন যতই ছড়াক না কেন, বিতর্কিত দাবাড়ু নাকামুরা পেলেন অপ্রত্যাশিত সমর্থন। ম্যাগনাস কার্লসেনের (Magnus Carlsen) কোচ পিটার হাইন নিলসেন (Peter Heine Nielsen) গুকেশের বদলে তাঁরই পাশে দাঁড়ালেন। সোজাসাপটা বললেন, ‘এতে অন্তত দাবা একটা খেলার মতো দেখাচ্ছে!’
ঘটনাটা ‘চেকমেট: ইউএসএ বনাম ইন্ডিয়া’ (Checkmate: USA vs India) প্রদর্শনী ম্যাচের। নাকামুরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশকে (D Gukesh) হারিয়ে তাঁর ‘কিং’ দর্শকদের দিকে ছুড়ে দেন। মুহূর্তেই ভাইরাল ভিডিও, বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়ও। প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্রামনিক (Vladimir Kramnik) টুইট করেন, ‘এটা শুধু অশালীনতা নয়, আধুনিক দাবার অবক্ষয়ের লক্ষণ!’ ফিডে–সিইও ইমিল সুটোভস্কিওর (Emil Sutovsky) মন্তব্য, ‘যে-ই হোক না কেন, কোনও শীর্ষ খেলোয়াড় এমনটা করতে পারেন না!’
যদিও তাঁদের সুরে সুর মেলালেন না নিলসেন। সম্পূর্ণ অন্য রাস্তায় হাঁটলেন। ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করে লিখলেন, ‘আমাদের মতো বয়স্ক, রক্ষণশীল দাবাড়ুরা হয়তো এটা সহজে মেনে নিতে পারব না। কিন্তু অন্তত এটুকু বুঝতেই হবে—এতে দাবা একখানা ‘স্পোর্টিং ইভেন্ট’ হয়ে উঠছে। দর্শকরা জড়িত, সতীর্থরা পাশে, জয় মানে উদযাপন—খেলার প্রাণ তো এটাই!’
যদিও অনেক ভারতীয় দাবাপ্রেমী নিলসেনের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। কেউ কেউ তাঁকে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘ভারতীয় খেলোয়াড়দের প্রতি পশ্চিমের এই বিদ্বেষই নাকামুরাকে এমনটা ঘটাতে সাহস জোগায়!’ জবাবে নিলসেন স্মরণ করালেন নিজের অতীত—‘চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময় আমি বিশ্বনাথন আনন্দের (Viswanathan Anand) কোচ ছিলাম। ভারতীয় দাবায় আমার অবদান কারও চেয়ে কম নয়। একটু শ্রদ্ধা দেখান!’
দাবা ইউটিউবার ও আমেরিকান দলের সদস্য লেভি রোজম্যান (Levy Rozman) জানিয়েছেন, নাকামুরার ওই ‘কিং’ ছোড়া আসলে পুরোপুরি পরিকল্পিত ছিল। বলেন, ‘আয়োজকরা আগেই জানিয়ে দেন—জিতলে আলাদা স্টাইলে সেলিব্রেট করো। কেউ ভাঙবে রাজা, কেউ ছুড়বে দর্শকের দিকে। এটা ছিল বিনোদনের অংশ, অসম্মানের নয়!’
সব মিলিয়ে বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। একদিকে প্রাক্তন চ্যাম্পিয়নদের ক্ষোভ, অন্য পাশে নিলসেন–রোজম্যানদের যুক্তি—‘নতুন প্রজন্মের দাবা দর্শকের জন্য নতুনভাবে উপস্থাপন দরকার।’ যদিও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রোমাঞ্চের নামে কতদূর যাওয়া যায়? দাবার মতো সংযমী খেলায় এমন প্রদর্শন কি সত্যিই ‘স্পোর্টসম্যানশিপে’র উদাহরণ? নাকি এক নতুন যুগের ‘ব্র্যান্ডিং শো’?