দ্য ওয়াল ব্যুরো : এ এক অন্যরকম কাহিনি, যে গল্প শুনলে মন ব্যাথাতুর হয়ে ওঠে, যে ঘটনা মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
ফুটবল সব পারে, বিদীর্ণ মন ফুরফুরে করতে পারে, অচঞ্চল মনকে শান্ত করতে পারে। অনাহারে থাকা মানুষ ভুলে যায় খিদের কথা। আবার ফুটবলই ফেরাতে পারে জীবন। আর ফুটবলের মহাতারকারা হলেন একেকজন জ্যোতিষ্ক। যাঁরা অন্ধকার আকাশে ‘পূর্ণিমার চাঁদ’ হয়ে ঝলসাতে পারে।
এরকমই এক উজ্জ্বল মহানক্ষত্র হলেন ইতালির বিশ্বকাপার ফ্রান্সেসকো টোট্টি। যিনি আবার রোমারও কিংবদন্তি। টোট্টি সম্প্রতি এমন এক হৃদয় জয় করা কাজ করেছেন, যেটি নিয়ে বিশ্ব ফুটবল তাঁকে নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দিয়েছে।
ইলেনিয়া মাতিয়ির। ১৯ বছরের এই তরুণী রোমের লাৎসিও মহিলা দলের ফুটবলার, তার চেয়েও বড় বিষয়, ওই মেয়েটি রোমা দলের অন্ধ ফ্যান। রোমা যেখানে খেলবে, সেখানেই চলে যাবে ইলেনিয়া। গত ডিসেম্বর মাসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ইলেনিয়া মাথায় এতটাই গুরুতরভাবে আঘাত পান যে কোমায় চলে যান। চিকিৎসকরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেদিন রাতে ইলেনিয়ার সঙ্গী বন্ধুটি অবশ্য ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
ইলেনিয়া বেঁচে গেলেও হাসপাতালে ছিলেন কোমাচ্ছন্ন। বাঁচার সম্ভাবনা দিন দিন কমছিল। প্রাণচঞ্চল এই ইতালীয় মেয়েটির বাবা-মা অবশ্য আশা ছাড়েননি। রোমার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার জন্য প্রতিদিন হাসপাতালের বেডের পাশে রোমার থিমসঙ্ শোনাতেন। তাতে কাজ হতো না, কিন্তু যদি কিছু হয়, এই আশাতেই বাজাতেন তাঁরা।
শেষমেশ একমাত্র মেয়ের জন্য তাঁরা দরবার করেন রোমার কিংবদন্তি টোট্টির সঙ্গে। তাঁকে পুরো বিষয়টি বলেন। এবং তিনি রাজিও হয়ে যান সঙ্গে সঙ্গে। ঠিক হয় ইলেনিয়াকে মোবাইলে ভিডিও বার্তায় কথা বলবেন। সেই ভিডিও বার্তায় টোট্টির কন্ঠস্বর শুনে নয় মাস কোমায় থাকা মেয়েটি সাড়া দেন, মুখে খেলে যায় সেই পুরনো মিস্টি হাসির ঝলক। ভক্তকে শুভকামনা জানিয়ে ইতালি মহাতারকা বলেন, ‘‘হাল ছেড়ো না ইলেনিয়া। আমরা জানি তুমি পারবে, আবারও সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে আমাদের মাঝে। আমরা সবাই তোমার সঙ্গেই আছি।’’
সেই দেখে বাবা-মা-র চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। চিকিৎসকরা এই জন্য ঈশ্বরের কাছে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। যদিও ইলেনিয়ার পরিবারের কাছে স্বয়ং ঈশ্বর হলেন টোট্টি। এই নীল চোখের নায়ক কথাও দিয়েছেন একদিন হাসপাতালে ইলেনিয়ার সঙ্গে দেখাও করতে যাবেন। প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি ইলেনিয়ার বাবা-মা। ‘‘ফ্রান্সেসকো, তোমার অসাধারণ কণ্ঠস্বর, আবেগের বার্তা, ইলেনিয়ার প্রতি তোমার ভালোবাসা আবারও ওকে জাগিয়ে তুলেছে। ওর মুখে আবারও ওই হাসি ফিরে এসেছে। ওর চোখেমুখে আবারও ফিরে এসেছে সেই দ্যুতি। তোমায় ধন্যবাদ।’’