
শেষ আপডেট: 2 November 2022 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র ক’দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ (Qatar World Cup 2022)। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ দেখতে কাতারে আসবেন প্রায় বারো লক্ষ মানুষ। এঁদের মধ্যে অনেকেই টিকিট কেটে ফেলেছেন,.কিন্তু এখন মাথা খুঁড়ছেন থাকার জায়গা পাওয়ার জন্য। কারণ পুরো কাতার জুড়েই এখন ‘ঠাঁই নাই’ ‘ঠাঁই নাই রব’।

কাতারের সমস্ত হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা, রিসোর্ট, টেন্ট হাউসগুলির বুকিং প্রায় শেষ। এদের ৮০ শতাংশ রুম বুক করে রেখেছে কাতার সরকার ও কাতার ফুটবল সংস্থা। ফুটবলার, অফিসিয়াল, অতিথি ও রাষ্টপ্রধানদের জন্য। বেশ কিছু নতুন হোটেল ও রিসোর্টের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বুক হয়ে গিয়েছে রুমগুলি। তাই যাঁরা এখনও হোটেল বুক করেননি তাঁদের হাতে কিন্তু বেশি কিছু অপশন নেই। কিছু হোটেলে সামান্য কটি ঘর খালি আছে। ভাড়া কিন্তু আকাশ ছোঁয়া। রাত প্রতি ২০০০ রিয়াল। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা।
রুমের চাহিদা এতটাই যে বিশ্বকাপের টিকিট ও সরকারি আমন্ত্রণপত্র ছাড়া ২০ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাউকে কাতারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অবশ্য এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে আসা টিম, ফিফা ও কাতার সরকারের অতিথি, সংবাদমাধ্যমের লোকজন ও বিশ্বকাপের অফিসিয়ালদের।

রুমের চাহিদা মেটানোর জন্য দোহার গ্র্যান্ড টার্মিনাল বন্দরে এসে নোঙর করেছে তিনটি বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ। তাদের নাম ‘ওয়ার্ল্ড ইউরোপা’, পোয়েসিয়া ও অপেরা। এই তিনটি জাহাজ প্রায় সাত হাজার রুমের যোগান দিয়েছে। ইউরোপার কেবিন ভাড়া রাত পিছু ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পোয়েসিয়া ও অপেরার ভাড়া কিছুটা কম। প্রতি রাতে আপনাকে গুণতে হবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি।
থাকতে পারেন ক্যারাভান ভিলেজেও। একটি ঘেরা জায়গায়, শয়ে শয়ে কারাভান দাঁড়িয়ে আছে। কারাভানগুলি আসলে এক একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ভাড়া শুরু ঘর পিছু ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা থেকে। অবস্থা এতটাই জটিল কাতার সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি ভাড়া দিতে অনুরোধ করেছেন। বাড়ি ভাড়াও দিতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি রুমে থাকার খরচ রাত প্রতি ৯০ হাজার।

থাকার জায়গার অভাবের জন্য, প্রচুর ফ্যান ম্যাচের দিনে দুবাই, রিয়াদ, মাস্কাট থেকে উড়ে এসে, ম্যাচ দেখে দিনের দিন ফিরে যাবেন। এঁদের ২৪ ঘণ্টার ভিসা দিচ্ছে কাতার। এরা সঙ্গে হ্যান্ডব্যাগ ছাড়া অন্যকিছু আনতে পারবেন না। ম্যাচের চার ঘণ্টা আগে কাতারে প্রবেশ করতে ও ম্যাচ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে এঁদের কাতার ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ করেছে কাতার সরকার। এতটাই খারাপ অবস্থা। তাহলে কী করবেন? যাঁরা এখনও থাকার জায়গা খুঁজে পাননি। তাঁদের থাকার আদর্শ জায়গা হতে পারে ফ্যান ভিলেজ।

সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ কাতারের আল রায়ান, হামাদ, রাস লাফান ও উম্ম সৈদ বন্দরে এসে থামে দেশ বিদেশের জাহাজ। বিশ্বের সপ্তম ধনী দেশ কাতার গত বেশ কিছু বছর ধরে সংগ্রহ করে রেখেছে জাহাজের পণ্য বওয়ার কন্টেনার। সেই কন্টেনারগুলি দিয়ে বানিয়ে ফেলেছে একটি অস্থায়ী ফুটবল স্টেডিয়াম। এই বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচ হবে ‘নাইন ফর্টি সেভেন’ স্টেডিয়ামে। নামটা এরকম অদ্ভুত হওয়ার কারণ হল, স্টেডিয়ামটি বানাতে মোট ৯৪৭ টা কন্টেনার লেগেছে।

বিশ্বকাপ দেখতে আসা ফ্যানদের থাকার জন্যেও কাতার ব্যবহার করেছে জাহাজের কন্টেনার। স্টেডিয়ামগুলির আশেপাশে গড়ে উঠেছে অজস্র ফ্যান ভিলেজ। সেই ফ্যান ভিলেজগুলিতে থাকা বাড়িগুলি আসলে জাহাজের এক একটি কন্টেনার। প্রত্যেকটি কন্টেনার লম্বায় ২০ ও চওড়ায় ৮ ফুট। তবে ৪০ ফুট লম্বা কন্টেনারও আছে। কন্টেনারগুলির ভেতরের অংশকে বিলাসবহুল রুমের আদল দেওয়া হয়েছে। এক একটা কন্টেনারে থাকতে পারবেন দু’জন। কন্টেনারগুলি দুই ধরনের। এয়ার-কন্ডিশন লাগানো ও এয়ার-কন্ডিশন ছাড়া। তবে কাতারের তাপমাত্রা এখন ২০ ডিগ্রি। তাই ভারতীয় দর্শকদের এয়ার-কন্ডিশন নাও লাগতে পারে।

কন্টেনারের দেওয়াল কেটে বানানো হয়েছে জানলা দরজা। কন্টেনারের ভেতরে আছে আরামদায়ক দুটি শয্যা। আছে আন্তর্জাতিক মানের বাথরুম, একটি ফ্রিজ ও চা কফি বানানোর ব্যবস্থা। প্রতিদিন দুই বোতল জল, বিছানার চাদর ও তোয়ালে দেওয়া হবে। তবে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা কন্টেনারের বাইরে। প্রতিটি ফ্যান ভিলেজে আছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। দেশ বিদেশের খাবার পাওয়া যাবে সেখানে।
এছাড়াও ফ্যান ভিলেজে আছে জিম, বাস্কেটবল কোর্ট, টেনিস কোর্ট ও অনান্য আমোদপ্রমোদের উপকরণ।

ফ্যান ভিলেজের প্রতিটি কন্টেনারের ভাড়া রাত পিছু ১৭০০০ থেকে শুরু। এত সস্তায় থাকার জায়গা পেয়ে তাই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন হোটেল না পাওয়া ফ্যানের দল। তাই দ্রুত বুক হয়ে যাচ্ছে কুয়েতাইফান আইল্যান্ড, কেবিন ফ্রি জোন, আল খোর, রাওদাত আল জাহানিয়া, সালমা ফার্ম, জাফারানের ফ্যান ভিলেজগুলি। এখনও যদি হোটেল না পেয়ে থাকেন ফ্যান ভিলেজের কন্টেনার বুক করতে পারেন https://www.qatar2022.qa/book/en/fan-villages লিঙ্কটিতে গিয়ে। বুক করার জন্য থাকতে হবে ভ্যালিড টিকিট বা সরকারি আমন্ত্রণপত্র। যাঁরা কাতারে যাচ্ছেন, দ্রুত বুক করে নিন কন্টেনার। নাহলে কিন্তু ঘরে বসেই দেখতে হবে কাতার বিশ্বকাপ।