আজকের সেমিফাইনাল শুধু ম্যাচ নয়, দুই প্রজন্মের মুখোমুখি দাঁড়ানো। শরীর জোকোভিচকে শেষবারের মতো লড়াইয়ের সুযোগ দেবে? নাকি সিনারের আগুনে-ফর্ম আবারও ইতিহাসকে বর্তমানের কাছে নতজানু করবে?

নোভাক জোকোভিচ বনাম ইয়ানিক সিনার
শেষ আপডেট: 30 January 2026 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। কথাটা ইদানীং হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic)। ৩৮ বছরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের (Australian Open 2026) আরও একটা সেমিফাইনাল। সামনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner)। প্রশ্নটা তাই শুধু ম্যাচ জেতার নয়—সূক্ষ্ম নজরে এই লড়াই আসলে বয়স বনাম তারুণ্যের, অভিজ্ঞতা বনাম ফিটনেসের!
জোকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ভালোবাসার ময়দান
মেলবোর্ন পার্কে জোকোভিচ মানেই বর্ণময় চরিত্র। ১০ বার ট্রফি জেতা কোর্টে তাঁর সবচেয়ে জমকালো সাফল্য। এবারের টুর্নামেন্টেও ভাগ্য মুখ ফেরায়নি। চতুর্থ রাউন্ডে ইয়াকুব মেনসিক (Jakub Mensik) এবং তার পরের রাউন্ডে লোরেঞ্জো মুসেত্তি (Lorenzo Musetti)—দুটোই ওয়াকওভার। বিশেষ করে মুসেত্তির বিরুদ্ধে দুই সেট পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ না খেলে এগিয়ে যাওয়া—শারীরিক শক্তি বাঁচানোর দিক থেকে বড় সুবিধা। যা সিনারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এতকিছুর পরেও আসল সওয়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না—এখন প্রতিটি ম্যাচে শরীর কি আগের মতো সঙ্গ দিচ্ছে জোকোভিচের? ওয়াকওভারের অ্যাডভান্টেজ নিতে কতটা প্রস্তুত তিনি?
সামনে পুরনো সমস্যা
সমস্যাটা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইয়ানিক সিনার। ২০২৩ সালের নিতো এটিপি ফাইনালসের (Nitto ATP Finals) পর থেকে আর একবারও তাঁকে হারাতে পারেননি জোকোভিচ। হার্ড কোর্ট, ক্লে, ঘাস—সব জায়গাতেই ইতালীয় তারকার নিপাট আধিপত্য। শেষ পাঁচ মোলাকাতে সার্বিয়ান খেলোয়াড় মাত্র একবার তাঁকে চার সেটে টেনে নিয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ, আজ জিততে গেলে জোকোভিচকে সাম্প্রতিক ইতিহাস ভাঙার চেষ্টাও চালাতে হবে।
‘আমি কাউকে তাড়া করছি না’—জোকোভিচের জবাব
মুসেত্তির বিরুদ্ধে জয়ের পর সাংবাদিকরা যখন ‘সিনকারাজ’ যুগের কথা তোলেন, জোকোভিচ একপ্রকার চটেই যান। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মাঝের ১৫ বছরটা ভুলে যাওয়া অসম্মানজনক। আমি কাউকে তাড়া করছি না।’কথায় কথায় উঠে আসে রজার ফেডেরার (Roger Federer) ও রাফায়েল নাদালের (Rafael Nadal) নাম—একদা কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। তবে সিনার ও কার্লোস আলকারাজের (Carlos Alcaraz) এখনকার দাপটও স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি ছুড়ে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জও, ‘তাতে কি আমি সাদা পতাকা তুলব? না। শেষ পয়েন্ট পর্যন্ত লড়ব।’
এই কথাগুলোই হয়তো আগুন জ্বালাতে পারে—যেটা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা হলেও নিভু নিভু!
সিনারের কাজও সহজ নয়
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ানিক সিনারের পথ একেবারে মসৃণ নয়। তৃতীয় রাউন্ডে এলিয়ট স্পিজিরির (Eliot Spizzirri) বিরুদ্ধে চরম গরমে ক্র্যাম্প। এক্সট্রিম হিট পলিসির (Extreme Heat Policy) বিরতি ফিরতে সাহায্য করে। তবু কোয়ার্টার ফাইনালে বেন শেলটনকে (Ben Shelton) হারিয়ে মেলবোর্নে টানা ১৯ ম্যাচ জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন তিনি। জোকোভিচকে নিয়ে বক্তব্যও সম্মানজনক—‘ওঁর সঙ্গে খেললে মানুষ আর খেলোয়াড়—দুটো হিসেবেই উন্নতি হয়। এই বয়সেও যেভাবে খেলছেন, সেটা শেখার মতো।’
সেমিফাইনালে নাটক
প্রথম সেমিফাইনালে আপাতত লড়ছেন আলকারাজ-জেরেভ (Alexander Zverev)। সেও এক অসমাপ্ত হিসেব। ২২ বছরে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছোঁয়ার স্বপ্ন আলকারাজের। জেরেভের সামনে আবার তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের ক্ষত। হেড-টু-হেড ৬–৬! যে কোনও রেজাল্ট বেরিয়ে আসতে পারে।
শেষ প্রশ্ন
সব মিলিয়ে আজকের সেমিফাইনাল শুধু ম্যাচ নয়, দুই প্রজন্মের মুখোমুখি দাঁড়ানো। শরীর জোকোভিচকে শেষবারের মতো লড়াইয়ের সুযোগ দেবে? নাকি সিনারের আগুনে-ফর্ম আবারও ইতিহাসকে বর্তমানের কাছে নতজানু করবে?
উত্তর মিলবে কোর্টেই।