
বৈভব সূর্যবংশী
শেষ আপডেট: 29 April 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মনে হচ্ছে যেন অনেক আগেই দিওয়ালি (Diwali) চলে এসেছে!’
সমস্তিপুরের বাড়িতে বসে যখন কথাটা বললেন সঞ্জীব সূর্যবংশী (Sanjeev Suryavanshi), তখন তিনি জয়পুর (Jaipur) থেকে বারোশো কিলোমিটার দূরে। দিওয়ালি আসতে মাস ছয়েক বাকি। তবু সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে যে অপ্রত্যাশিত মরুঝড় বয়ে আনলেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi), তাতে এই অকাল দীপাবলি নিয়ে এতটুকু মন:ক্ষুণ্ণ নন সঞ্জীব। ছেলের গর্বে গরীয়ান পিতা তখন পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের ভিড়ে, উচ্ছ্বাসে বাক্য হারিয়ে ফেলেছেন। রাস্তায় দেদার বাজি পুড়িয়ে চলেছেন বৈভবের বন্ধুরা।
প্রকট শব্দ আর হুল্লোড়ের ঘনঘটা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন সঞ্জীব। জানালেন সন্তানের বেড়ে ওঠার কথা। গোড়াতেই খোলসা করলেন, পৃথ্বী শ, অভিষেক শর্মা, শুভমান গিলদের সঙ্গে বৈভবের এক জায়গায় মিল রয়েছে। তাঁদের বাবাদের মতো তিনিও নাকি ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংসারের পাকচক্র আর সাংসারিক দায়বদ্ধতার চাপে আর হয়ে উঠতে পারেননি। নিজের সুষুপ্ত আকাঙ্ক্ষাই সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি স্তরে ঢেলে দিয়েছেন সঞ্জীব। নিংড়ে দিয়েছেন নিজেকে। তার জন্য ব্যক্তিগত সখ-আহ্লাদ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে বিসর্জন দিতে হয়েছে। আজকের শতরান সেই হতাশা মুছে দিয়েছে।
বর্ডার-গাভাসকার ট্রফি চলাকালীনই সঞ্জীব সূর্যবংশী জানতে পারেন, শুভমান গিলের বাবা লখীন্দর গিল নাকি ছেলের ব্যাটিং টেকনিক আরও ধারালো করতে সিমেন্টের পিচে প্র্যাকটিস করাতেন। কথাটা কানে আসামাত্র কালবিলম্ব করেননি। নিজের বাড়ির পেছনে সঞ্জীব বানিয়ে ফেলেন একই রকম সিমেন্টের পিচ। সেখানেই চলে প্রস্তুতি। ৩৫ বলে এই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি কি তারই ফসল?
পুরো কৃতিত্ব যদিও নিজেকে দিতে নারাজ সঞ্জীব৷ তুলে ধরলেন আরও দুজনের নাম৷ দুজনেই ক্রিকেট কিংবদন্তি। একজন ভিভিএস লক্ষ্মণ (VVS Laxman)। অন্যজন রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid)। লক্ষ্মণের কাছে বেঙ্গালুরুর এনসিএ-তে শিক্ষালাভ। রাহুল তাকে আরও শানিত করেন রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাম্পে। এই নিয়ে বলতে গিয়ে সঞ্জীবের মন্তব্য, ‘গত দু’বছর ধরে লক্ষ্মণ স্যার বৈভবের উপর কঠোর নজর রাখেন। আর এখন রাহুল স্যার ওকে নিজের ছত্রচ্ছায়ায় এনেছেন।’
তাই অল্প সময়ে বৈভবের দ্রুত সাফল্য অর্জনের সিংহভাগ কৃতিত্ব রাজস্থান শিবিরকে দিতে চান সঞ্জীব। বলেন, ‘আমার ছেলে প্রচুর পরিশ্রম করেছে, এটা সত্যি। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালসের টিম ম্যানেজমেন্ট, বিশেষ করে রাহুল দ্রাবিড়, বিক্রম রাঠোর, জুবিন বারুচা যেভাবে খেটেছেন, তারই ফল বৈভবের এই ইনিংস।’
বাবা বলছেন আবেগের কথা। ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের কথা। পর্দার আড়ালে থাকা অজানা গল্পের কথা। কিন্তু ‘ক্রিকেটার বৈভব'কে আরও নিবিড়ভাবে দেখেছেন যিনি, সেই বিক্রম রাঠোর, রাজস্থানের ব্যাটিং কোচ, জানালেন আচমকা চর্চায় উঠে আসা কিশোরের টেকনিকের খুঁটিনাটি। বিক্রমের কথায়, ‘বৈভব স্পেশাল। আলাদা। ওর ডাউনসুইং অনবদ্য। যে কারণে শট মারার আগে প্রভূত শক্তি কাজে লাগাতে পারে। আজ নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে বৈভব। এই ইনিংস নিয়ে অনন্তকাল কথা চলতে পারে।’
একটি শতরানেই ভারতীয় ক্রিকেটের লোককথায় জায়গা করে নিয়েছেন বৈভব৷ লোককথা মুখে মুখে ফেরে। বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ১৪ বছরেই সেই কিংবদন্তির গৌরব অর্জন করেছেন।