
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 9 February 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাড়ার রণদার চল্লিশেই চালশে। অথচ পর্তুগালের রোনাল্ডো আজও উনচল্লিশের বিদায়লগ্নকে স্মরণীয় করে রাখেন পাখির মতো উড়ে বুলেট হেডারে গোল করে। প্রথম জন বাইসাইকেলের টাল সামলাতে না পেরে গলির মোড়ে গোঁত্তা খান। দ্বিতীয়জন বাইসাইকেল কিকে গোল করে সোল্লাসে জার্সি ছুড়ে ফেলেন।
রোনাল্ডো বিত্তবান তাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী—বিষয়টা কি এতটা সরল? নাকি প্রভূত অর্থ ব্যয় না করেও স্রেফ মেপেজুপে খেলে রোনাল্ডো-প্রতিম ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব? অনেক তত্ত্বতালাশের পর গবেষকরা জানাচ্ছেন, পর্তুগালের ফুটবল তারকা নিজের শরীরকে অটুট রেখেছেন কিছু নির্দিষ্ট ডায়েট বেছে নিয়ে। এমনিতে রোনাল্ডোর স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ অনন্ত। এবং সেটা এতটাই ব্যাপক যে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি, সি আর সেভেনের জন্মদিনের দিন গুগল ট্রেন্ডে আকাশ ছুঁয়েছিল কি-ওয়ার্ড ‘রোনাল্ডোর বয়স’! ১০ ঘণ্টায় ২০ হাজার সার্চ এটা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট: পর্তুগিজ তারকার ফিটনেস নিয়ে আগ্রহ আজও ঠিক কতটা আকাশছোঁয়া!
যদিও নিজের খাবারদাবার নিয়ে কোনওদিনই গুপ্তমন্ত্রের ধার ধারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ডায়েট বাছাইয়ে তিনি বরাবরই কড়া। খাবারের প্লেট সাজানো থাকে কমপ্লেক্স কার্ব, প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাটে। এই তিনের মিশেল ভরপুর যে খাবারে, ডায়াটিশিয়ানদের ভাষায় তার নাম ‘সুপারফুড’। আর সুপারফুডের মধ্যে যে ডিশটি রোনাল্ডোর সবচেয়ে পছন্দের, তার নাম ‘বাকালহাউ আ ব্রাস’। সহজ বাংলায় বললে: কড মাছের একটি প্রিপারেশন। যেখানে মাছের পিসকে টুকরো টুকরো করে (শ্রেডেড পিস) নুন, রসুন, পেঁয়াজ, আলুর টুকরো ও ডিমের ভুজিয়ার সঙ্গে মিক্স করে ধিমে আঁচে রান্না করা হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, এই খাবারটির গুণাগুণ অকল্পনীয়। তার কারণ সিফুড হিসেবে কড মাছের উপযোগিতা প্রশ্নাতীত। তাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩, আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২। যা একই সঙ্গে ফিটনেসকে অটুট রাখে। পাশাপাশি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বয়সের ছাপও পড়তে দেয় না। স্বাস্থ্যবিদদের মধ্যে এই খাবার অনেক দিন ধরেই জনপ্রিয়। যদিও রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধুমাত্র গুণমান সংক্রান্ত নয়। এর মধ্যে মিশে রয়েছে শিকরের টান, নাড়ির সংযোগ। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘বাকালহাউ আ ব্রাস’ তাঁকে ঘরের কথা মনে করায়। বাড়িতে মায়ের হাতে এটা খেয়ে বড় হয়েছেন তিনি। ফলে যখনই এই ডিশ মুখে তোলেন, মায়ের হাতের রান্নার খোশবাই স্মৃতিতে পাক তোলে।
ভারতের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে ফ্রোজেন কড মাছ পাওয়া যায়। যদিও ডায়েটিশিয়ানদের মতে, এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা মরশুমি, স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন হয়, পুষ্টির সমস্ত চাহিদা পূরণ করে এবং নিজেকে সংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রাখে। ভারতের প্রেক্ষাপটে ‘বাকালহাউ আ ব্রাস’ এর কোনও খোপেই টিক দেয় না। তাহলে বিকল্প?
পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, রোনাল্ডোর ঘরোয়া খাবারের বিকল্প আমরা খুব সহজে নিজেদের হেঁশেলে বানিয়ে নিতে পারি। রান্নার আর সব উপায়, উপকরণ একই থাকবে। স্রেফ কড মাছের বদলে বাজার ঘুরে কিনে ফেলতে হবে ভেটকি কিংবা পমফ্রেট। এই তিনটি মাছের কোনওটিতেই নেই উগ্র গন্ধ। বদলে ঠেসে রয়েছে পুষ্টিগুণ। এমনকি কম ক্যালোরির ভেটকিতে কড মাছের চেয়েও বেশি পরিমাণে ওমেগা থ্রি রয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্যবিদদের। পমফ্রেটে প্রোটিন কম থাকলেও কডের তুলনায় বেশি হেলদি ফ্যাট একে উন্নততর বিকল্প করে তুলেছে।
সুতরাং, পাড়ার রণদার কাজটা খুব বেশি কিছু নয়। চালশে ঘুচিয়ে পাড়ার মাঠে বাইসাইকেল কিক মারতে চাইলে গ্যাঁটের কড়ি কিঞ্চিৎ খসাতে হবে। আর রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে রাঁধার প্রাণালীটুকু ডিক্টেট করার সময় গিন্নির মুখঝামটা খানিক সইতে হবে। তাহলেই কেল্লাফতে!