দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌম্যদীপ রায়ের (Soumyadeep Roy) বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু আদালতেও গেলেন মণিকা বাত্রা (Manika Batra)। ভারতের নামী তারকা ফেডারেশনের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) মামলা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমার কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাকে জাতীয় দলে বিবেচিত করা হয়নি, আমি বিচারাধীন বলে। অথচ কোচ হিসেবে সৌম্যদীপকে রাখা হয় কী করে?
মণিকা বাংলার নামী তারকার বিপক্ষে গড়াপেটার অভিযোগ তুলেছিলেন। মণিকা বলেছিলেন, এশীয় টেবল টেনিসে সৌম্যদীপের ছাত্রী সুতীর্থার বিরুদ্ধে ম্যাচ ছাড়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেশন একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছে। তাঁদের ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।
তার মধ্যে সর্বভারতীয় টেবল টেনিস ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মণিকা। আইনজীবী রেখা পল্লীর অধীনে সোমবার মামলার শুনানি হয়েছে। সৌম্যদীপের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন মনিকা। এরপরও ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দলে রাখা হয়েছে বাংলার কোচকে। কিন্তু জাতীয় শিবিরে যোগ না দেওয়ায় মনিকাকে দলে রাখা হয়নি।
টোকিও অলিম্পিকে সিঙ্গলস ম্যাচে কোচ সৌম্যদীপের থেকে কোনও পরামর্শ নেননি তিনি। যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই। এই ঘটনার পর জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে টেনিসের সর্বাধিক নিয়ামক সংস্থা। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহিলা টিটি তারকা যোগ দেননি। কারণ হিসেবে মনিকা জানান, পুনেতে ব্যক্তিগত কোচের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করায় সোনিপথে জাতীয় শিবিরে যোগ দিতে পারেননি তিনি। কিন্তু তাঁর যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় টেনিস ফেডারেশন।
দিল্লি হাইকোর্ট বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তারা মধ্যবর্তী অবস্থান নিয়েছে, এমনকি মণিকার অভিযোগকে খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে। এমনকি তারা কেন্দ্র সরকারকেও বিষয়টি দেখতে অনুরোধ করেছে।
মণিকার আইনজীবী পরিষ্কার বলেছেন, একজন কোচের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত আদালতের। তিনি যেহেতু একটি কেন্দ্রীয় সংস্থায় কর্মরত, তাই তাঁর বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। এমনকি মণিকা একজন নামী তারকা, তিনি শুধুশুধু একজন কোচের নামে এমন অভিযোগ জানাতে যাবেনই বা কেন?
এমনকি আসন্ন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মণিকাকে দলে রাখা যায় কিনা পারফরম্যান্সের বিচারে, সেটিও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।