দ্বিতীয় র্যাপিডে চাপের মুখে ভেঙে পড়েন মেসির দেশের গ্র্যান্ডমাস্টার, সুযোগ কাজে লাগান বিদিত। জয়ের পর হাসতে হাসতে তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি এমনভাবে প্রশ্ন করেন—১২ বছর বয়সির বিরুদ্ধে জিততে কেমন লাগছে, আমি জানি না কী বলব! শুধু এটুকুই জানাব, ম্যাচটা মোটেই সহজ ছিল না।’

বিদিত গুজরাতি
শেষ আপডেট: 7 November 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিন, আট দফা লড়াই আর একটানা মানসিক চাপ—সবকিছু সামলে শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য হোঁচট খেতে খেতে বেঁচে গেলেন আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। গোয়ার (Goa) মঞ্চে ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টারের শুরুটাই টানটান। উজবেক–অস্ট্রেলীয় (Uzbek-Australian) গ্র্যান্ডমাস্টার তেমুর কুইবোকারভের (Temur Kuybokarov) বিরুদ্ধে রীতিমতো রুদ্ধশ্বাস হারজিতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবু শেষ পর্যন্ত ব্লিটজে জিতে প্রজ্ঞানন্দ তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করলেন।
প্রথম দুই ক্লাসিক্যাল গেম ড্র। এরপর র্যাপিডে দারুণ ছন্দে ছিলেন কুইবোকারভ। প্রথম গেমে কোনও সুযোগই দেননি ভারতীয় তারকাকে। দ্বিতীয় গেমেও তিনি ৫.০ পজিশন পর্যন্ত এগিয়ে যান—যার অর্থ, প্রজ্ঞানন্দ কার্যত হারের মুখে। কিন্তু হঠাৎ ভুল ঘোড়ার চাল—নাইট গেল f7–এ, আর সেই ফাঁকে প্রজ্ঞানন্দ ‘পারপেচুয়াল চেক’–এর মাধ্যমে ড্র টেনে আনেন।
এরপর শুরু ১০+১০ টাইব্রেকার। প্রথম গেমে প্রজ্ঞানন্দ ভুল করে বসেন, কুইবোকারভ এগিয়ে যান। লড়াই তখন পঞ্চাশ-পঞ্চাশ—বাঁচতে হলে জিততেই হবে ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টারকে। সেখানে প্রতিপক্ষ ঝুঁকি নেওয়ায় প্রজ্ঞানন্দের হাতে অপ্রত্যাশিত সুযোগ। যা তিনি গ্রহণ করেন ঠান্ডা মাথায়। স্কোর সমান!
শেষ পর্যন্ত ৫+৩ ব্লিটজে আর কোনও ভুল হয়নি। ভারতের ২০ বছর বয়সি গ্র্যান্ডমাস্টার পরপর দুটি গেম জিতে ৫-৩ ব্যবধানে ম্যাচ পকেটে তোলেন। কুইবোকারভকে হারিয়ে ওঠেন তৃতীয় রাউন্ডে।
অন্যদিকে আরেক ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিদিত গুজরাতি (Vidit Gujrathi) দ্বিতীয় রাউন্ডে পরাস্ত করেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী, মাত্র ১২ বছরের আর্জেন্তিনীয় প্রতিভা ফাওস্টিনো ওরোকে (Faustino Oro)। দুই ক্লাসিক্যাল গেমেই ওরো প্রায় সমানতালে লড়েছেন। এমনকি প্রথম র্যাপিড গেমেও দুই খেলোয়াড়ের নির্ভুল চাল ছিল ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু দ্বিতীয় র্যাপিডে চাপের মুখে ভেঙে পড়েন মেসির দেশের গ্র্যান্ডমাস্টার, সুযোগ কাজে লাগান বিদিত। জয়ের পর হাসতে হাসতে তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি এমনভাবে প্রশ্ন করেন—১২ বছর বয়সির বিরুদ্ধে জিততে কেমন লাগছে, আমি জানি না কী বলব! শুধু এটুকুই জানাব, ম্যাচটা মোটেই সহজ ছিল না।’
ওরোর প্রতিভা নিয়েও প্রশংসা করেছেন বিদিত। তাঁর কথায়, ‘এই প্রজন্মের খেলোয়াড়রা কম্পিউটার আর বিশ্লেষণের সঙ্গে বড় হচ্ছে। ওর বয়সে এমন বোঝাপড়ার দাবাড়ু খুব কমই দেখা যায়। কিছু দুর্বলতা আছে। কিন্তু উন্নতির ধরন দেখে মনে হয়, ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবে।’
ভারতের বাকি দাবাড়ুদের মধ্যে প্রণব ভি (Pranav V) নরওয়ের (Aryan Tari) আরিয়ান তারিকে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন। এম প্রাণেশ (M Pranesh) জার্মানির দিমিত্রিজ কোলার্সের (Dmitrij Kollars) বিরুদ্ধে দুই র্যাপিডেই জয় নিশ্চিত করেছেন। এসএল নারায়ণন (S L Narayanan) ছয়টি টানা ড্রয়ের পর রাশিয়ান নিকিতা ভিটিউগভকে (Nikita Vitiugov) হারিয়ে পরের রাউন্ডে। যদিও হতাশ করলেন নিহাল সারিন (Nihal Sarin)। গ্রিক (Greece) গ্র্যান্ডমাস্টার স্তামাতিস কুরকুলোস-আর্ডিটিসের (Stamatis Kourkoulos-Arditis) কাছে হেরে ছিটকে গেলেন তরুণ দাবাড়ু।
বুধবারই তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছেন দোম্মারাজু গুকেশ (D Gukesh), অর্জুন এরিগাইসি (Arjun Erigaisi), পেন্টালা হারিকৃষ্ণা (Pentala Harikrishna), দীপ্তায়ন ঘোষ (Diptayan Ghosh) ও কার্তিক ভেঙ্কটারামন (Karthik Venkataraman)।