দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি কঠিন মানুষ, সাধারণত তিনি হাসেন না, গাম্ভীর্যের মধ্যেও তাঁর মনে একজনের জন্য প্রবল ভালবাসা রয়েছে। ইতালি কোচ রবার্তো মানচিনিও খেতাব জয়ের পরে চোখের জল ফেলেছেন। হয়তো আনন্দাশ্রু, কিন্তু সেটি নিয়েও সমানে কথা হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে, মানচিনির মতো মানুষ, যিনি আবেগে ভেসে যান না, তিনি কী করে বাঁধ ভাঙলেন?
ইতালি গত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। সেই দলকে রীতিমতো সাফল্যের রাস্তায় নিয়ে এলেন মানচিনি। ইতালির এই প্রাক্তন তারকা দলের বিন্যাস বদল করে নতুনভাবে দলকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, মানচিনিকে এই সফলতায় সহায়তা করেছেন তাঁর পুরনো বন্ধু জিয়ানুলুকা ভিয়াল্লি। আজুরিদের প্রাক্তন ওই স্ট্রাইকার মানচিনির পাশে যোগ্য. সহায়তা করে গিয়েছেন। এটাই মনে করা হচ্ছে, মানচিনির ফুটবল মস্তিষ্কের পুরোটা তাঁর নয়, সেখানে বেশিরভাগ বুদ্ধি সরবরাহ করেন ভিয়াল্লিই।
যিনি গত তিনবছর আগেও শয্যাশায়ী ছিলেন। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁকে ফের মূলস্রোতে আনার ক্ষেত্রে কাছের বন্ধু মানচিনির অনেক অবদান। দুই বন্ধু ডাগআউটে থেকে ইউরো কাপে সোনা ফলিয়েছেন। কাকে কোন পজিশনে ব্যবহার করলে সফলতা পাওয়া যাবে, সেটি ভিয়াল্লিই জানিয়েছেন মানচিনিকে। সেই সুপুরুষ ভিয়াল্লির সঙ্গে বর্তমান কোচের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেমোথেরাপি করার ফলে মাথার সব চুল উঠে গিয়েছে, কিন্তু মানচিনির সঙ্গে সেই অমলিন বন্ধুত্বে কোনও টোল খায়নি।
যদিও ইতালি ফুটবলকে ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে উদ্ধার করেছেন মানচিনিই। তিনবছর আগে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে চুক্তি করা হয় ২০২০ সাল পর্যন্ত। শর্ত একটাই, ইউরো কাপের বাছাইপর্ব পার করতে হবে দলকে। বাছাইয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই ইউরোর টিকিট নিশ্চিত করে আজ্জুরিরা আর মানচিনি পান ২০২২ পর্যন্ত ইতালির কোচের দায়িত্ব।
এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর পাওয়া ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে আবেগাপ্লুত ইতালির কোচ। টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর যেনো বুঝতেই পারছিলেন না কী করবেন। যাকে সামনে পেয়েছেন পরম আনন্দে তাকেই জড়িয়ে ধরেছেন।
এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনেও মানচিনি ছিলেন আবেগাপ্লুত। জানিয়েছেন, ‘‘অবিশ্বাস্য কিছু অর্জন করতে পেরে ভাল লাগছে, মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। আমার আরও ভাল লাগছে ছেলেদের উচ্ছ্বাস দেখে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত তিন বছরে যা কিছু আমরা করেছি, যতকিছুর ভেতর দিয়ে আমরা গিয়েছি, বিশেষ করে, গত ৫০ দিনে যতটা কঠোর পরিশ্রম আমরা করেছি, এই সবকিছুর কারণেই এমন আবেগের বহিঃপ্রকাশ।’