
শেষ আপডেট: 18 January 2024 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর। সেদিনও এমন বাংলা দলের অনুশীলন ছিল। অভীক চৌধুরী সতীর্থদের বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছিলেন বোন ও প্রাক্তন প্রেমিকাকে। রুবির মোড়ের কাছে ডিভাইডারে অভীকের গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে। বোন ও প্রেমিকার সামান্য চোট লাগলেও অভীকের দুটি পা-ই অকেজো হয়ে যায়।
তারপর নানা চিকিৎসা হলেও সারানো যায়নি অভীকের দুটি পা। সেইসময় চিকিৎসকরা বলে দিয়েছিলেন, আপনার ক্রিকেট জীবন শেষ, আর আপনি কোনওদিন মাঠে ফিরতে পারবেন না। বাংলা দলের সেইসময় তারকা ছিলেন অভীক। তাঁর সেইসময়ের সতীর্থ ছিলেন মনোজ তিওয়ারি, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অনুষ্টুপ মজুমদাররা। যাঁরা বৃহস্পতিবারও ইডেনে ছিলেন।
শুক্রবার থেকে ঘরের মাঠে রঞ্জি ট্রফির তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলা। এদিন দুপুরে প্রস্তুতি সারল দল। কোচ লক্ষ্মীর তালিমে মাঠে ছিলেন মনোজ, সুদীপরা। সেইসময় মাঠে আসেন অভীক, যাঁর পথ দুর্ঘটনায় কেরিয়ারই শেষ হয়ে গিয়েছে। মেট্রো রেলে কাজ করলেও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
পুরনো বন্ধুকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত লক্ষ্মী, মনোজরা। তাঁরা হুইলচেয়ারে করে আসা একদা সতীর্থ অভীককে মাঠে নিয়ে এসে তাঁর কাহিনি শোনেন। দলের ক্রিকেটারদের উদ্দেশে পেপটক দেন ওই প্রাক্তন অলরাউন্ডার। নিজের কঠিন লড়াইয়ের কথা বলেন। স্ত্রী অলকানন্দা পাশে থেকে অভীকের জোর বাড়িয়েছেন বলেই আজ তিনি আবার জীবনের মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন।
বলছিলেন, এই ইডেনে কত ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছি, কিন্তু একটা দুর্ঘটনা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আবার সেই মাঠে ফিরে ভাল লাগছে। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল। সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। এমনকী আমার বন্ধুরা বাংলা দলের টুপিও উপহার দিয়েছে। এটাও আমার কাছে বিশেষ প্রাপ্তি।
বাংলা চারদিনের রঞ্জি ম্যাচে খেলতে নামছে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে। গত দুটি ম্যাচ থেকে বাংলার পয়েন্ট মাত্র চার। প্রথম ম্যাচে এক পয়েন্ট, শেষ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার কারণে তিন পয়েন্ট পেয়েছে।