
শেষ আপডেট: 28 September 2020 18:30
এবারের আইপিএল এক অন্য বার্তা বহন করছে। এই নিয়ে আইপিএলের ১৩তম আসর, এর আগে কোনওবার এত আনন্দ হয়নি, যা এবার দেখে হচ্ছে।
আমি বরাবর মনে করে এসেছি ক্রিকেট তখনই সুন্দর যখন ওই খেলাটায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি থাকবে। একটা খেলা হল, অথচ নুন্যতম প্রতিরোধটুকু হলো না, সেই খেলা দেখে আনন্দ লাগে না।
রবিবার ও সোমবার দুটি দিন এমন দুটি খেলা দেখলাম, মন ভরে গিয়েছে। রাতে ঘুমের মধ্যে কেমন একটা রেশ থাকে, যেন মনে হয় এখনও কেউ বোলারকে গ্যালারিতে পাঠাচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক বিশেষজ্ঞই হাহুতাশ করেন এটা ভেবে যে প্রতিভা নেই, তারা হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু এবারের এই বিনোদনের ক্রিকেট থেকে আমাদের প্রাপ্তির ভাঁড়ার পূর্ণ হতে চলেছে।
আইপিএলের সবে দশদিন পূর্ণ হল। তার মধ্যেই এত প্রতিভা উঠে এল, আমার মনে হয় এই আসর বাকিগুলিকে ছাপিয়ে যাবে। তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে খেলছে, এই আইপিএলের ক্যাচলাইন হতে পারে, ইয়ং ক্রিকেট লিগ!
কাকে ছেড়ে কার কথা বলব। শুভমান গিল, সঞ্জু স্যামসন, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, রাহুল তেওটিয়া, দেবদূত পাল্লিকাল, কিংবা সোমবারের রাতের ট্র্যাজিক নায়ক ঈশান কিশান। যে ভঙ্গিমায় এই তরুণরা ব্যাটিং করছেন, দেখে দারুণ লাগছে। কেন আইপিএলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট লিগ বলা হচ্ছে, তার প্রমাণ আমরা প্রতিদিন পাচ্ছি। কী সুন্দর একটা জুনিয়র ও সিনিয়রদের সহাবস্থান।
আমার সবচেয়ে অবাক লাগছে দলের জুনিয়রদের মধ্যে কোনও ভয়-ডর নেই। আমাদের সময়ে বিদেশে খেলতে গেলেই একটা ভয় লাগত। তারওপর বিদেশী বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান মানেই সে ভয়ঙ্কর, এমন একটা বিষয় ছিল। কিন্তু আইপিএলে বিদেশীদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছে দেশের জুনিয়র উঠতি তারকারা। সেই কারণেই তাদের মধ্যে কোনও জড়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। উইকেটে আসছে, সাবলিলভাবে বিশ্বের সেরা বোলারদের মারছে।
সোমবার দুবাইয়ের ম্যাচে ঈশান কিশানের খেলা দেখে আমি মুগ্ধ। ছোটখাটো উচ্চতা, কিন্তু বুক সমান বলগুলোকে পুল করছে, কিংবা ফ্লিক করছে। কখনও মনেই হচ্ছে না টেস্ট খেলেনি, কিংবা কোনও আম্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নেই। এগুলিই প্রাপ্তি এবারের টুর্নামেন্টে। এটাও দেখছি কোনও সিনিয়র তারকা সেই ভাবে খেলতে পারছে না। কিয়েরন পোলার্ড, কিংবা এবি ডি’ভিলিয়ার্সরা তো খেলবেই, তাদের অভিজ্ঞতা সমুদ্রসমান, কিন্তু যাদের দেখে আমরা তাকিয়ে ছিলাম, কোহলি, রোহিত, ধোনিদের কোথায় সেই খেলা, কোথায় সেই ফর্ম।
টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেট মানেই ব্যাটসম্যানদের দাপট। তবুও কিছু বোলারদের দেখে ভাল লাগছে। যেমন মুম্বই বনাম ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে নভদীপ সাইনির বোলিং দেখলাম। সুপার ওভারে তো বটেই, নির্ধারিত ওভারের শেষ ওভারেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে গেল ছেলেটি। এটাই এই ধরনের ক্রিকেটের সার্থকতা।
আমার তো মনে হচ্ছে, দুটি ম্যাচে পরপর দুশো রান হয়েছে, আরও হবে এবারে। শেষ ওভার কিংবা সুপার ওভারে খেলা গড়িয়ে চলেছে, তাও দুশো রান তাড়া করে। শেষ পাঁচ ওভারে খেলার গতিপথই বদলে চলেছে, আর সেই কাজে সারথির ভূমিকায় দেশের তরুণরা। দেশের ক্রিকেটের নয়া প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে এই কার্যক্রম দারুণ প্রশংসনীয়, সন্দেহ নেই।