দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ বছর আগে তিনি ভারতকে গর্বিত করেছিলেন। সেইসময়কার প্রজন্ম এখনও ভোলেনি অঞ্জু ববি জর্জকে, যাঁর সেই চোয়াল চাপা লড়াই ও লাফ স্মৃতির মনিকোঠায় আজও উজ্জ্বল।
২০০৩ সালের প্যারিসে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতীয় হিসাবে ইতিহাস গড়েছিলেন কেরলের ওই অলিম্পিয়ান। এতদিন বাদে দেশের ওই প্রাক্তন অলিম্পিয়ান জানিয়েছেন সেদিনের ওই লড়াই তিনি জিতেছিলেন একটি কিডনি নিয়েই। নিজেই টুইট করে সেই ঘটনা লিখেছেন, ট্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজেজুকে।
আইএএএফ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স ফাইনালে (মোনাকো ২০০৫) স্বর্ণপদক বিজয়ী লং জাম্প তারকা অ্যাথলিট জানিয়েছেন যে, তাঁর ব্যথানাশক ওষুধের প্রতিও অ্যালার্জি ছিল। এই ধরনের সমস্যা কাটিয়ে তিনি দিনের পর দিন দেশের হয়ে সাফল্য নিয়ে এসেছিলেন।
অঞ্জু টুইট করেছেন, ‘‘বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, আমি সেই ভাগ্যবান মানুষদের মধ্যে রয়েছি যাঁরা একটি কিডনির সাহায্য নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্তরে পৌঁছেছিল। এমনকি ব্যথানাশক ওষুধে আমার যেমন অ্যালার্জি ছিল। দৌড় শুরু করার সময় আমার সামনের পা ঠিকমতো কাজ করত না। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমি সাফল্য অর্জন করেছিলাম।’’
https://twitter.com/KirenRijiju/status/1335810555647422465
আমরা কি একে কোচের জাদু বলতে পারি? অঞ্জু জানিয়েছেন যে, ‘‘এই মহামারির যুগে বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য তিনি একথা প্রকাশ করেছেন। মারাত্মক ভাইরাসের কারণে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারছেন না। অনেক প্রতিযোগিতাও বাতিল হয়ে গেছে।’’
তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, “সাধারণের মতামত হল আমার দেহ সুগঠিত। তবে সত্যটি হল আমি সমস্ত অসুবিধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করেছি। আশা করি, আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নেওয়া ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করবে।” অঞ্জু আরও জানিয়েছেন যে, ২০০৩ সালের প্যারিসে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের মাত্র ২০ দিন আগে জার্মানির চিকিৎসকরা তাঁকে ছ’মাস বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা শোনেননি, কারণ দেশের হয়ে পদক জয় তাঁর লক্ষ্য ছিল।
বাংলার সোমা বিশ্বাসদের একসময়ের নামী সতীর্থ অঞ্জু ববি আরও বলেছেন, ‘‘প্যারিস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ তখন মাত্র ২০ দিন বাকি ছিল। তবে আমি সমস্ত প্রতিকূলতাকে পরাস্ত করে পদক জিততে সক্ষম হয়েছি।’’ আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করার আগে ২০০১ সালে অঞ্জুকে বেঙ্গালুরুতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়েছিল। পরীক্ষা ধরা পড়েছিলেন একটি কিডনির খবর।
অঞ্জু বলেন, “এমন খবর মর্মাহত করে আমাকে। তবে ববি (স্বামী) আমাকে আমার কেরিয়ার অব্যাহত রাখতে এবং সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেছিলেন যে, আমার যদি কোনও সমস্যা হয় তবে তিনি তাঁর একটি কিডনি দেবেন।”
অঞ্জু আরও জানিয়েছেন, ‘‘স্বাস্থ্যের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি যথেষ্ট পরিপক্ক হয়ে উঠেছেন।’’ অঞ্জু যুক্ত করেন, ‘‘আমি যদি আমার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জনসমক্ষে প্রকাশ করতাম তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হত।” তাঁর এই টুইটের জবাবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন— “অঞ্জু তাঁর কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য্য ও দায়বদ্ধতা দিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।’’