Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

‘বাবাও জানান ক্রিকেটে আমার জায়গা নেই’, লিঙ্গবদলের সংকটকে ফের বে-আব্রু করলেন অনয়া বাঙ্গার

এখন ব্রিটেনে থাকেন অনয়া। একসময় দেশের হয়ে ক্লাব স্তরে খেলেছেন। তখন ছিলেন আরিয়ান (Aryan Bangar)। যশস্বী জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটের এখনকার চর্চিত তারকাদের সতীর্থ।

‘বাবাও জানান ক্রিকেটে আমার জায়গা নেই’, লিঙ্গবদলের সংকটকে ফের বে-আব্রু করলেন অনয়া বাঙ্গার

অনয়া বাঙ্গার

শেষ আপডেট: 19 April 2025 12:43

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু বিষাক্ত পৌরুষ আর মানসিক সংকীরণতায় ভরা দুনিয়া নয়। বিরোধিতা এসেছিল, প্রশ্ন উঠেছিল পরিবার থেকেও। রূপান্তরকামী ক্রিকেটার অনয়া বাঙ্গার (Anaya Bangar), যার আরেকটি পরিচয় তিনি সঞ্জয় বাঙ্গারের (Sanjay Bangar) কন্যা, জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-ই একদিন মুখের উপর বলেছিলেন, ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর জায়গা নেই!

এখন ব্রিটেনে থাকেন অনয়া। একসময় দেশের হয়ে ক্লাব স্তরে খেলেছেন। তখন ছিলেন আরিয়ান (Aryan Bangar)। যশস্বী জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটের এখনকার চর্চিত তারকাদের সতীর্থ। কিন্তু কারও কাছেই মনের গোপন কথা—তিনি ছেলে থেকে মেয়ে হতে চান, শরীর-মনের অন্তরতম সত্তায় যে তিনি মেয়েই—সেটা খুলে বলতে পারেননি। যখন বলেছেন, সেই সময় কী পরিমাণ বিদ্রুপ, কটূক্তি সইতে হয়েছে, ক্রিকেটাররাও তাঁকে পণ্য মনে করে কোন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়েছেন, একটি সাক্ষাৎকারে সমস্তকিছু অকপটে মেলে ধরেছেন অনয়া।

কিন্তু এসবের আড়ালে অনুচ্চারিত রয়ে গিয়েছিল বাবার ও পরিবারের প্রসঙ্গ। যে ইস্যু নিয়ে সঞ্চালক প্রশ্ন করার পর অনয়া সাফ জানিয়েও দেন, ‘এই নিয়ে আমি কথা বলতে রাজি নই।‘ তারপর যখন তাঁকে মনে করানো হয়, আগেও বাবা, প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের বিষয়ে তিনি সরব হয়েছেন এবং সেই ভিডিও ইউটিউবে রয়েওছে, তখন কিছুটা হলেও সুর নরম হয় অনয়ার। বলেন, ‘ভিডিওর কথা আমার জানা। বাবা শুধু একটা সত্যিকারের সহজ তথ্য জানিয়েছিলেন যে, ক্রিকেটে আমার আর কোনও জায়গা নেই। তাই আমায় নিজেকে একটা অবস্থান নিতেই হত। কিন্তু এসব করতে গিয়েই মনে আত্মহত্যার চিন্তা বাসা বাঁধে। মনে হত সারা দুনিয়া আমার উলটো দিকে। আমি আরেক দিকে। হরমোন থেরাপি করে মেয়ে হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে কেউ আমার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। এই সিস্টেমে আমার কোনও স্থান নেই। এমনকি বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারটুকুও আমি হারিয়েছি।‘

গত বছরই হরমোনাল ট্রান্সফরমেশন এবং জেন্ডার রিঅ্যাফার্মিং সার্জারির আদ্যোপান্ত জার্নির কথা শেয়ার করেছিলেন অনয়া বাঙ্গার। কিন্তু তার জন্য রূপান্তরণের আগে-পিছে বাইশ গজে তাঁকে কোন কোন অসুবিধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার কিছুই সামনে আনেননি। এখন দেশ ছেড়ে সাগরপাড়ে ম্যাঞ্চেস্টারে থাকেন অনয়া। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে জীবনের বিচিত্র পাকদণ্ডী নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সঞ্চালকের সওয়াল ছিল, ‘কখন বুঝতে পারেন আপনি ভুল লিঙ্গের বলয়ে ঢুকে পড়েছেন?’

জবাবে অনয়ার উত্তর, ‘যখন আমার বয়স আট কি নয় বছর, তখন মায়ের জামাকাপড় বসতে ভাল লাগত। তারপর আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর আপন মনেই বলতাম—আমি মেয়ে। মেয়ে হতে চাই।‘

যদিও এই লুকনো ইচ্ছে এবং চেপে থাকা সত্তার বিষয়টি কারও কাছে ফাঁস করেননি তিনি। আনয়ার কথায়, ‘মুশির খান, সরফরাজ খান, যশস্বী জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছি। কিন্তু  নিজের বাবা পরিচিত ক্রিকেটার হওয়ায় নিজের গোপন আকাঙ্ক্ষার কথা কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারিনি। তা ছাড়া ক্রিকেটের দুনিয়াও নিরাপত্তাহীনতা ও বিষাক্ত পৌরুষে (Toxic Masculinity) ভরা।‘

কেন সতীর্থ ক্রিকেটারদের থেকে কোনও সমর্থন পাননি? এই বিষয়ে বলতে গিয়ে অনয়া বলেন, ‘সবাই খারাপ এমনটা নয়। কেউ কেউ পাশে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে হেনস্তাও করেছিল। এমন বেশ কিছু ক্রিকেটারের নাম করতে পারি, যারা আমায় নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিল। বিষ হয়ে ঝরে পড়েছিল খিস্তিখেউড়ও। যখন দেশে ছিলাম, একজন বয়স্ক ক্রিকেটারকে আমার পরিস্থিতির কথা খোলামেলা বলার পর উনি গাড়িতে শোয়ার প্রস্তাব দেন!’

বাবা সঞ্জয়ের মতো অনয়ারও ইসলাম জিমখানা ক্লাবে ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়। ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তারপর ব্রিটেনে চলে আসার পর লেস্টারশায়ারের একটি ক্লাবের হয়ে খেলতে নামেন। কিন্তু ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আইসিসি জানিয়ে দেয়, রূপান্তরকামী ক্রিকেটাররা আর ময়দানে অংশ নিতে পারবেন না। তৎকালীন সিইও জফ অ্যালাডাইস ঘোষণা করেন, ‘ইনক্লুসিভিটি বা সর্বজনীনতা যে কোনও খেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা মহিলা ক্রিকেটের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।‘ তারপর থেকে আপাতত ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অনয়া বাঙ্গার।


```