দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিন আশা ছিল তিনি আবারও সুস্থ জীবনে ফিরবেন। তাঁর স্ত্রী-ও মনে করতেন, একদিন তাঁর স্বামী ফিরে আসবেন তাঁদের মধ্যে। কিন্তু শেষমেশ সেই লড়াইয়ে জিততে পারলেন না জন পিয়েরে অ্যাডামস (Adams)। সেনেগাল (Senegal) জাত ফরাসী ফুটবলারের জীবনদীপ নিভে গেল ৩৯ বছর কোমায় থাকার পরে। বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
১৯৮২ সালের মার্চ মাসে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী পিয়েরে অ্যাডামস। তখন চেতনানাশক ওষুধ ভুল দেওয়ায় তাঁর আর চেতনা আসেনি।
সেনেগালে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার ফ্রান্সের ক্লাব নিসের হয়ে খেলেছেন ১৪০টির বেশি ম্যাচ। এমনকি প্যারিস স্য জ্যঁ (পিএসজি)-র হয়ে খেলেছেন তিনি। মেসিদের ক্লাবেত তরফ থেকে এদিন এক শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে।
পিয়েরে অ্যাডামসের সম্মানে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মোনাকোর বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে কর্মসূচি রাখার কথা জানিয়েছে আরেক ক্লাব নিস। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ২২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এছাড়া নিসের হয়ে খেলেছেন ৮৪টি ম্যাচ।
প্রায় ৩৯ বছর আগে অনুশীলনে হাঁটুর পেশির ইনজুরিতে পড়েছিলেন অ্যাডামস। সেদিন লিয়ন শহরের হাসপাতালের বেশিরভাগ কর্মী হরতাল পালন করছিলেন।
তবু অ্যাডামসের অস্তোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেদিন একইসময় অ্যাডামস এবং আরও সাতজন রোগীর দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের অ্যানেস্থেটিস্ট। তাই অ্যাডামসের দায়িত্ব দেওয়া হয় এক শিক্ষানবিশের কাঁধে। তিনিই সেদিন ভুলটি করেছিলেন।
পরে সেই শিক্ষানবিশ বলেছিলেন, ‘‘আমাকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছিল, আমি সে কাজের উপযুক্ত ছিলাম না। বাকি জীবনে আমার ওপর দিয়েও ঝড় বয়ে যায়।’’
সেই শিক্ষানবিশের হাত দিয়ে অ্যাডামসের চিকিৎসায় একাধিক ভুল হয়। যে কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও ব্রেইন ড্যামেজ হয় অ্যাডামসের।
এই অপরাধের দায়ে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৭৫০ ইউরো জরিমানা করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির ১৫ মাস পর ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয় অ্যাডামসকে। তারপর থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত নিসে নিজেদের বাড়িতে স্ত্রীর দেখভালে ছিলেন এ ফুটবলার।