
শেষ আপডেট: 8 March 2024 19:01
মাঝেমধ্যে খুব কষ্ট নয়, অব্যক্ত যন্ত্রণায় বুকটা ফেটে যায়। নিজের মনই মানতে চায় না। মনে পড়ে শুধু অতীতের কথা। আমরা খেলা ছেড়েছি বছর সাত-আটেক হয়ে গেল। তখনও কলকাতা ডার্বি মানে ছিল ঘটি-বাঙালের লড়াই। এখনও হয়তো তাই আছে। কিন্তু সেটি সীমাবদ্ধ লাখো লাখো দর্শকদের মধ্যে। ফুটবলারদের মধ্যে সেই লড়াই আর নেই।
মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দলে সেরকম বাংলার ফুটবলার আর কোথায়! দুই দলের মধ্যে শুভাশিস, দীপেন্দুরা একমাত্র বাংলার প্রতিনিধি। বাকিরা সব বিদেশি, নয় ভিনরাজ্যের তারকা। আগে বলা হতো, ডার্বি থেকে বঙ্গতারকা উঠে আসে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই বাংলার ফুটবলার কমছে। কয়েকবছর আগেও দুই প্রধানের গোলরক্ষকের ভূমিকা পালন করত বাংলার ছেলেরা, এখন সেটিও নেই। দু’দলেই পাঞ্জাব তনয় লাস্ট লাইন অব ডিফেন্ডার।
এগুলো আমাদের মতো বাংলার প্রাক্তন ফুটবলারদের কষ্ট দেয়, এগুলো কাউকে বোঝানো যাবে না। ডার্বির জন্য আমরা বাংলার ফুটবলাররা চেয়ে থাকতাম, আর এখন বাংলার ফুটবলারই নেই। এই ঘটনা আমাদের কাছে হতাশার। এই নিয়ে কারও কোনও দায় নেই।
এবার আসি রবিবার আইএসএলের ডার্বি প্রসঙ্গে। সেখানে এগিয়ে নামছে মোহনবাগান। তারা সবদিক থেকে এগিয়ে। কোচ হাবাস থেকে শুরু করে কামিন্স, কাউকো ও দিমিত্রি পেত্রাতোসদের পাল্লা ভারী। ইস্টবেঙ্গল কোচ কুয়াদ্রাতের থেকে হাবাসের গেম রিডিং অনেক বেশি ভাল। তিনি দলটিকে কম সময়ের মধ্যে দারুণ তৈরি করে দিয়েছেন।
এমনকী ক্লেটন সিলভা ও দিমিত্রির মধ্যে গুণগত লড়াইয়ে আমি এগিয়ে রাখব মোহনবাগান ফরোয়ার্ডকেই। কিন্তু আবারও বলব, ডার্বি ম্যাচে আগাম কোনও ঘোষণা চলে না। সেখানে আগে থেকে বলে কোনও কাজ হয় না। তাই আমি সবার শেষে বলব, রবিবারের ম্যাচ ফিফটি-ফিফটি। গত ম্যাচেই যেমন ইস্টবেঙ্গল দুই গোলে এগিয়ে ছিল। সেই পরিস্থিতিতে মোহন শিবির দুটি গোল করে খেলা ২-২ করে দেয়। পেত্রাতোসের গোলই ম্যাচকে ড্র করে দিয়েছে।