দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন স্বীকৃতি কজনের ভাগ্যে জোটে! মাঠে পারফরম্যান্স করতে হল না, অথচ তাঁর ওই পুরস্কার বাকিদের থেকে যেন অনেক গুণ এগিয়ে। এমন পুরস্কার পেলে হয়তো মেসি, রোনাল্ডোরাও গর্বিত হতেন।
জুরিখে ফিফা বর্ষসেরা ভার্চুয়াল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ওই তরুণকে যখন দেখাচ্ছিল, সেইসময় সবাই করতালি দিচ্ছেন। কেউ বাকি নেই। মেসি, লেভানদস্কি, রোনাল্ডোরা তো ছিলেনই, উপরন্তু যিনি পুরস্কার প্রাপকের নাম বলছিলেন, সেই প্রাক্তন ডাচ তারকা রুদ গুলিট পর্যন্ত বলছিলেন, ‘‘এখন যার কথা আমি ঘোষণা করব, ওই ছেলেটি আমার নায়ক, আমাদের নায়ক।’’
এর আগেও ফিফা এমন কাজের জন্য পুরস্কার দিয়েছে, কিন্তু এবারের অনুষ্ঠান একেবারেই তাৎপর্য্যে ভরা। কেননা ১৭ বছরের এক ফুটবলার মহাতারকাদের বৃত্তেও আলো করে ছিলেন। মাঠে কারও জীবন বাঁচানোর পুরস্কার হিসেবে ফিফা ফেয়ার প্লে স্বীকৃতি ইতালির মাত্তিয়া অ্যাগনেসকে দিয়েছে ফিফা।
টোগোর ফুটবলার ফ্রাঙ্কোস কোনে প্রায় একইভাবে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের জীবন বাঁচিয়ে ২০১৭ সালে জিতেছিলেন ফেয়ার প্লে পুরস্কার। তার আগেও আরও তিনবার মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে খেলোয়াড়ের জীবন বাঁচানোয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
অ্যাগনেসের আগে ইতালিয়ান হিসেবে সর্বশেষ ফেয়ার প্লে ট্রফিজয়ী পাওলো ডি ক্যানিও। ২০০০ সালে এক ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক চোট পেয়ে মাঠে পড়ে যাওয়ার পর হাত দিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে খেলা থামিয়েছিলেন প্রাক্তন এই স্ট্রাইকার।
অ্যাগনেস হলেন ইতালির উত্তর–পশ্চিমের শহর লিগুরিয়ানের অপেশাদার ক্লাব অসপেদালেত্তির ডিফেন্ডার। গত জানুয়ারিতে কাইরেসের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের জীবন বাঁচানোয় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। এক সংঘর্ষের পর মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন সেই ফুটবলার। অ্যাগনেসের কোনও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কোর্স করা ছিল না।
সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি ছুটে গিয়ে সেই খেলোয়াড়ের বুকে বারবার চাপ দিয়ে তাঁকে হৃৎপিন্ড সচল রাখার চেষ্টা করেন।
মাঠে পরবর্তী চিকিৎসা না আসা পর্যন্ত সেই খেলোয়াড়কে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ওই তরুণ। পরে চিকিৎসা নিয়ে জীবন বেঁচে যায় সেই ফুটবলারের। তাৎক্ষণিক সেই দায়িত্ববোধ আগনেসকে মনোনয়োন এনে দেয় ফিফা ফেয়ার প্লে পুরস্কারের।
এই ট্রফি জয়ের পরে অ্যাগনেস বলেছেন, ‘‘তখনকার পরিস্থিতির গুরুত্ব আমি বুঝতে পেরেছিলাম। তাঁর জীবন বাঁচানোর গুরুত্ব আমার এই পুরস্কারের চেয়েও বেশি।’’
মাত্তিয়া ইন্টার মিলানের সমর্থক। বহুবার ইতালি জাতীয় দলের খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছেন। তিনি মনে করেন সঠিক পথ ধরে থাকলে, সৎ ও অধ্যাবসায় রাখলে সব স্বপ্নই একদিন সফল হয়। যাঁর তিনি জীবন বাঁচিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গেই বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার কখনও মনে হয়নি আমি দারুণ কিছু করে ফেলেছি, এটা কর্তব্য পালন ছাড়া কিছুই নয়।’’