ভাইফোঁটার সঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি হল যম ও যমুনার কাহিনি। শোনা যায়, সূর্যদেবের পুত্র যম ও কন্যা যমুনা ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যায়। পরে একদিন যম হঠাৎ দিদি যমুনার বাড়ি আসে। দিদি ভাইকে পেয়ে খুব খুশি হয়ে তাকে আপ্যায়ন করেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 October 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইফোঁটা- শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক মিষ্টি সম্পর্কের ছবি। স্নেহ ভালবাসায় ভরা ফোঁটা ভাইদের কপালে এঁকে দেয় দিদিরা (Bhai Phota 2025)। সারা ভারতজুড়ে এই দিনটি পালিত হয় ভাই-বোনের স্নেহ, আশীর্বাদ ও রক্ষার প্রতীক হিসেবে। কোথাও একে বলে 'ভাইদুজ', কোথাও 'ভাইটিকা', আবার কোথাও 'ভাতৃ দ্বিতীয়া'- নাম আলাদা হলেও মনের আবেগ একটাই। এই উৎসব শুধু পারিবারিক নয়, এটি ভালবাসা ও সম্পর্কের গভীরতার এক চিরন্তন উদযাপন। কিন্তু জানেন কি, কীভাবে শুরু হয়েছিল এই ভাইফোঁটার প্রথা (Bhai Phota Celebration)? রয়েছে বেশ কিছু পুরোনো কাহিনি ও পৌরাণিক বিশ্বাস।
প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয় ভাইফোঁটা বা ভাতৃদ্বিতীয়া। এ বছর তিথিটি শুরু হয়েছে ২২ অক্টোবর রাত ৮টা ১৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৩ অক্টোবর রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে। এই দিনেই বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ভাইফোঁটার (Bhai Phota 2025) সঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি হল যম ও যমুনার কাহিনি। শোনা যায়, সূর্যদেবের পুত্র যম ও কন্যা যমুনা ছোটবেলায় আলাদা হয়ে যায়। পরে একদিন যম হঠাৎ দিদি যমুনার বাড়ি আসে। দিদি ভাইকে পেয়ে খুব খুশি হয়ে তাকে আপ্যায়ন করেন। যম এত খুশি হন যে, দিদিকে একটি বর দিতে চান। তখন যমুনা বলেন, “এই দিনটি যেন ভাই-বোনেরা প্রতি বছর একসঙ্গে উদযাপন করে।” সেই দিন থেকেই ভাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটার প্রচলন।
আরও একটি জনপ্রিয় কাহিনি আছে লক্ষ্মী ও নারায়ণকে ঘিরে। একবার বিষ্ণু ভগবান বালিকে বর দিতে গিয়ে নিজেই তাঁর কাছে বন্দি হয়ে যান। বিষ্ণু ছাড়া গোটা ব্রহ্মাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। তখন দেবী লক্ষ্মী এক কৌশলে বালিকে ভাই বানান এবং তাঁকে ফোঁটা দেন কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে। উপহার হিসেবে তিনি স্বামী নারায়ণকে ফেরত চান। সেই ঘটনাই ভাইফোঁটা উৎসবের সূচনা বলে মনে করা হয়।
আরও একটি কাহিনি রয়েছে কৃষ্ণ ও সুভদ্রাকে কেন্দ্র করে। নরকাসুর বধের পর কৃষ্ণ দ্বারকায় ফিরে আসলে বোন সুভদ্রা ভাইয়ের কপালে বিজয়ের তিলক দেন ও মিষ্টি খাওয়ান। সেই থেকেই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেওয়ার রীতি শুরু হয়।
যে কাহিনিই ধরা হোক, ভাইফোঁটা আজও প্রতিটি ঘরে ভাই-বোনের ভালবাসার প্রতীক। এ দিন বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে, আর ভাইরা প্রতিশ্রুতি দেয়- আজীবন দিদি বা বোনকে রক্ষা করবে। যুগ বদলালেও ভাইফোঁটার এই ভালবাসা আর বন্ধনের মানে আজও অপরিবর্তিত।