ভূত চতুর্দশীতে ঘরে ঘরে চৌদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হয়। জানুন কোন কাজগুলো এদিন করা একেবারেই বারণ, যা বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আনে।

ভূত চতুর্দশী
শেষ আপডেট: 19 October 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর একদিন পরেই কালীপূজা ও দীপাবলি। তার আগের রাত অর্থাৎ অমাবস্যার ঠিক আগের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হচ্ছে বাঙালির লোকাচার ও বিশ্বাসের উৎসব ভূত চতুর্দশী। এই দিনে ভয় নয়, বরং শুভ শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে অন্ধকারকে জয় করার প্রস্তুতি চলে ঘরে ঘরে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নরকাসুর রাজা প্রতি বছর এই তিথিতে ভূত-প্রেতদের নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। তাঁদের উপস্থিতিতে স্বর্গ ও নরকের দুয়ার খুলে যায়। তাই প্রদীপ জ্বালিয়ে মানুষ অন্ধকার দূর করে এবং অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে দেয়।
সুস্থতা ও সমৃদ্ধির আহ্বান জানাতে এদিন ঘরে ঘরে রান্না হয় চোদ্দ রকম শাক। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে এই তিথিটি 'নরক চতুর্দশী' নামে পরিচিত। অন্ধকার ও অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে আলো এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে জয়গান, সেই জয়ই চোদ্দ প্রদীপের আলোর মধ্য দিয়ে আজও স্মরণ করা হয়।
ভূত চতুর্দশীতে যে কাজগুলি করা একেবারেই বারণ
ভূত চতুর্দশীর দিন নেগেটিভ শক্তির প্রভাব বেশি থাকে বলে মনে করা হয়। তাই এই দিনে কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ তা জীবনে দুর্ভোগ ও কালো ছায়া নিয়ে আসতে পারে:
১. সন্ধ্যার পর ঝাঁড়ু নয়: ভূত চতুর্দশীর দিন বাড়ির প্রতিটি কোণ পরিষ্কার রাখা উচিত। তবে সন্ধ্যার পর ভুলেও ঝাঁড়ু দিতে নিষেধ করা হয়, কারণ এতে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন।
২. শ্মশান-কবরস্থান এড়িয়ে চলুন: এদিন শ্মশান বা কবরস্থানের ধারে-কাছেও যেতে নিষেধ করা হয়। মনে করা হয়, এসব জায়গায় নেগেটিভ শক্তি বেশি থাকে, যা জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে।
৩. ভাঙা কাঁচের জিনিস নয়: বাড়িতে ভাঙা বা ফেটে যাওয়া কাঁচের জিনিস, বিশেষত ভাঙা আয়না রাখা বা তাতে মুখ দেখা উচিত নয়। এগুলি অশুভ শক্তির লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
৪. দুধ দেওয়া বারণ: ভূত চতুর্দশী এবং কালীপুজোর দিন সন্ধ্যার পর দুধ বা দুধ জাতীয় কোনও জিনিস কাউকে দিতে বারণ করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে বাড়ি থেকে পজিটিভ শক্তি কমতে থাকে এবং নেগেটিভ এনার্জি বাড়ে।
৫. চুল খোলা নয়: ভূত চতুর্দশীর রাতে মহিলারা চুল খুলে ঘুমাবেন না, কারণ এতে নেগেটিভ শক্তি ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে।
৬. আলো জ্বালিয়ে রাখুন: ভূত চতুর্দশীতে ঘরে সর্বদা আলো জ্বালিয়ে রাখা উচিত। কোথাও যেন কোনও অন্ধকার না থাকে। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়।