শেষ আপডেট: 24 February 2020 16:08
ফার্সি ভাষায় 'মার' শব্দের অর্থ 'সাপ', খোর শব্দের অর্থ 'ভক্ষক', দুইয়ে মিলে মারখোর শব্দটি তৈরি হয়েছে, যার অর্থ এই ছাগলেরা সাপ খায়! কিন্তু সম্ভবত তা নয়। এরা সাপ মারতে পারে বলে এদের এমন নাম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কারাকোরাম ও পশ্চিম হিমালয়ে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা ছড়িয়ে আছে আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, ভারতের জম্মু ও কাশ্মী্রের পাহাড়ি এলাকায়। পাকিস্তানের জাতীয় পশু এই 'মারখোর' ছাগল। তবে এটি নির্বিচারে শিকার করার জন্য আজ এটিকে বিপন্ন পশুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রজাতির আর মাত্র ২৫০০টির মতো ছাগল টিকে আছে।[/caption]
আইবেক্স প্রজাতির ছাগল আফ্রিকা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। এর বাঁকানো শিঙই এর পরিচয় বহন করে এবং এর শিঙই এর মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ঘরের শোভা বাড়ানোর জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদের শিকার করে মাথা দরজার ওপরে টাঙিয়ে রাখার চল ছিল। উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে।[/caption]
আঙ্গোরা ছাগল তুরস্ক থেকে মধ্য আনাতোলিয়া অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। মাংস ও উলের জন্য পোষা হয়। প্রত্যেক বছরে কেজি পাঁচেক উল দেয়। খুব শান্ত প্রকৃতির হয় এরা। মানুষের সঙ্গ খুবই পছন্দ করে। তবে এদের খুব খাতির যত্নে রাখতে হয়। পান থেকে চুন খসলে এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।[/caption]
উত্তর-পূর্ব তুরস্কে দেখতে পাওয়া যায় এই আবাজা ছাগল। মজবুত শরীর নিয়ে তিরের বেগে দৌড়াতে পারে। কিন্তু একটু জেদি। নিজেদের মধ্যে লড়াই লেগে গেলে সহজে লড়াই ছাড়তে চায় না। মূলত মাংসে জন্য পালন করা হয়। তবে এ ছাড়াও এদের দুধ দিয়ে তৈরি আবাজা চিজের খ্যাতি আছে।
আলতাই পাহাড়ি ছাগল পাওয়া যায় রাশিয়া,কাজাকস্তান, মঙ্গোলিয়া, চিনের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত থাকা আলতাই পর্বতাঞ্চলে। সাইবেরিয়ার কড়া ঠাণ্ডা সহ্য করে অক্লেষে। মূলত মাংসের জন্য পালন করা হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কিছু পরিমাণে উলও মেলে এদের শরীর থেকে।[/caption]
বিতাল ছাগলদের দেখতে পাওয়া যায় ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে। অনেকে লাহোরী ছাগল বলেও ডাকেন। এদের দূধ ও মাংসের চাহিদা আকাশছোঁয়া। উচ্চতা ও ওজনে বিশ্বের বেশিরভাগ ছাগলের থেকে এগিয়ে। ২০০ কেজি পর্যন্ত ওজন হতে পারে। এই প্রজাতির ছাগলের দাম দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।[/caption]
হল্যান্ড হল ডাচ ল্যান্ডরেস ছাগলটির উৎসভূমি। দুধ ও উলের জন্য পালন করা হলেও সম্প্রতি এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। বিভিন্নভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। ১০০০ টি ছাগলকে সে দেশের ন্যাশনাল পার্কে রাখা হয়েছে।[/caption]
লাল কালাহারি ছাগলের উৎস দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রচুর মাংস পাওয়া যায় বলে পশুপালকদের কাছে খুব চাহিদা এদের। কিন্তু এরা একটু বদরাগী। একটু তোয়াজ করে রাখতে হয়। প্রখর রোদ এড়ানোর জন্য এদের চামড়া অপেক্ষাকৃত পুরু হয়।[/caption]
সুইজারল্যান্ডের ছাগল এই ভালাইস। বর্তমানে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতেও দেখতে পাওয়া যায়। উল ও মাংসের জন্য পালন করা হয়। শরীরে অর্ধেক অংশ সাদা ও অর্ধেক অংশ কালো। যে বৈশিষ্ট্য বিশ্বের অন্য কোনও ছাগলের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না।
কাশ্মীরি ছাগল প্রজাতিটিকে বিভিন্ন ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া কৃত্রিমভাবে প্রজনন করিয়ে তাদের দেশের উপযোগী করে নিয়েছে। কাশ্মীরের গ্রামগুলিতে এই ছাগল পোষা হয়। এর থেকে দুধ মাংস ও উল পাওয়া যায়। প্রবল ঠাণ্ডাও এদের কাবু করতে পারে না।[/caption]
সিরোহি ছাগল ভারতের রাজস্থানে ও পাকিস্তানের কিছু অংশে দেখতে পাওয়া যায় । রাজস্থানের রাকা সম্প্রদায়ের মানুষজন মূলত এদের পালন করেন। লম্বা ও অদ্ভুতদর্শন এই ছাগলের দুধ অতি সুমিষ্ট। এদের চামড়া বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করেন পশুপালকরা।[/caption]