এক সময় বলিউডের ভীষণ প্রিয় মুখ ছিলেন রিমি সেন। মিষ্টি দেখতে এই অভিনেত্রী ২০০০-এর দশকের শুরুতে আমির খানের সঙ্গে একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচিতি পান। এখন তিনি কোথায়?

শেষ আপডেট: 21 January 2026 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় বলিউডের ভীষণ প্রিয় মুখ ছিলেন রিমি সেন। মিষ্টি দেখতে এই অভিনেত্রী ২০০০-এর দশকের শুরুতে আমির খানের সঙ্গে একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তারপর একের পর এক হিট ছবি - হাঙ্গামা, ধুম, গোলমাল, ফির হেরা ফেরি, জনি গদ্দার - তালিকা বেশ দীর্ঘ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য বহু হিন্দি ছবির অভিনেত্রীর মতোই রিমি সেনের পর্দায় উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। শেষমেশ আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে যান তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শিরোনামে রিমি সেন। তবে এবার কোনও সিনেমা নয়, কারণটাই সম্পূর্ণ অন্য।
.jpeg)
সিনেমা থেকে পুরোপুরি সরে গিয়ে বর্তমানে দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রিমি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে দুবাই তাঁকে আপন করে নিয়েছে এবং কীভাবে তিনি এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক রিয়েল এস্টেট বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন।
.jpeg)
রিমি বলেন, ''এখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশই প্রবাসী, বাকিরা এমিরাতি। দুবাই সবাইকে আপন করে নেয়। এখানে যেমন মসজিদ আছে, তেমনই মন্দিরও আছে। সকলের কথা ভেবেই পরিকল্পনা করা হয়। শহরের মূল লক্ষ্যই হল কীভাবে মানুষের জীবনকে আরও ভাল, সহজ এবং আরামদায়ক করে তোলা যায়।”
.jpeg)
ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের দেশে এই বিষয়টা তেমন দেখা যায় না। এখানে সরকার রাতারাতি নীতি বদলে ফেলে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও জটিল হয়ে ওঠে। হাজার হাজার কর, নানা জটিলতা, ফলে দেশটা আর আগের মতো ব্যবসাবান্ধব নেই।”

রিমি আরও জানান, দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজার এত মসৃণভাবে চলে কারণ এখানে শৃঙ্খলা ও নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। “এখানে আপনাকে শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্ট ও এজেন্সির মাধ্যমেই কাজ করতে হয়। ডেভেলপাররা তাঁদের কাজ করেন, এজেন্সিরা তাদের অংশ সামলায় - সবকিছুর জন্য একটা স্পষ্ট সিস্টেম রয়েছে,” বলেন তিনি।

ভারত ও দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য নিয়েও মুখ খুলেছেন রিমি সেন। তাঁর কথায়, দুবাইয়ে এজেন্টদের আর্থিক পরামর্শদাতার সমান সম্মান দেওয়া হয়। “ভারতে যদি আপনি দু’মাসের ব্রোকারেজ চান, মানুষ এমনভাবে তাকান যেন আপনি কোনও অপরাধ করে ফেলেছেন,” মন্তব্য তাঁর।
.webp)
প্রায় দু’বছর আগে নেটিজেনদের আলোচনায় এসেছিলেন রিমি সেন। ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। নেটদুনিয়ায় অনেকে দাবি করেন, অভিনেত্রী নাকি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, “যদি মানুষ মনে করে আমি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছি, আর সেটা যদি ইতিবাচকভাবে নেয়, তাহলে সেটা আমার জন্য ভাল। প্লাস্টিক সার্জারি না করিয়েও মানুষ আমাকে নিয়ে কথা বলছে। আমি শুধু ফিলার, বোটক্স আর PRP ট্রিটমেন্ট করিয়েছি - এর বাইরে কিছুই নয়।”
.jpeg)
ট্রোলদের উদ্দেশে রিমি আরও বলেন, “হতে পারে মানুষ আমার সাম্প্রতিক ছবিতে দেখেছে যে আমার ত্বক ভাল লাগছে। এই ধরনের ট্রিটমেন্ট আর নিয়ম মেনে চললে যে কেউ ভাল দেখতে পারে। কিন্তু যদি মনে হয় আমি যা করেছি সেটা খারাপ, তাহলে আমাকে বলুন কীভাবে ঠিক করা যায় - আমি আমার ডাক্তারদের জানাব, তাঁরা কোথায় ভুল করছেন।”

রিমি সেনকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালে তিগমাংশু ধুলিয়ার অ্যাকশন ছবি শাগির্দ-এ। তারপর দীর্ঘদিন রুপোলি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, এবার নতুন পরিচয়ে, দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে ফের আলোচনায় প্রাক্তন বলিউড অভিনেত্রী।