'জলসা' শুধু বিগ বি-র ব্যক্তিগত পরিসর নয়, বরং আভিজাত্য এবং ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতার দীর্ঘ শিল্পযাত্রার এক জীবন্ত প্রতীক।

শেষ আপডেট: 19 January 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের ইতিহাসে কিছু ঠিকানা শুধু বাড়ি নয়, তারা হয়ে ওঠে এক-একটা অধ্যায়। অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ তেমনই এক ঠিকানা। এটি শুধু বিগ বি-র ব্যক্তিগত পরিসর নয়, বরং আভিজাত্য এবং ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতার দীর্ঘ শিল্পযাত্রার এক জীবন্ত প্রতীক। মুম্বইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় অবস্থিত এই বাংলো আজ বিশ্বজুড়ে অনুরাগীদের কাছে এক পরিচিত ল্যান্ডমার্ক।
.jpeg)
দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে বচ্চন পরিবারের তিন প্রজন্ম এই বাড়িতে বসবাস করছে। অমিতাভ বচ্চন, তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী জয়া বচ্চন, পুত্র অভিষেক বচ্চন, পুত্রবধূ ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন এবং নাতনি আরাধ্যা - সবাইকে নিয়ে সুখী পরিবারের আদর্শ চিত্র। ঐশ্বর্যার পোস্ট থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চনের ব্লগ ও ছবি, সব মিলিয়ে অনুরাগীরা এই ঐতিহাসিক বাড়ির অন্দরমহলের এক ঝলক দেখতে পান।
.jpeg)
‘জলসা’ শুধু বচ্চন পরিবারের শান্তির নীড় নয়, এটি শিল্প, চিত্রকলা ও নান্দনিকতার সমাহার। বাড়ির অন্দরে রয়েছে বহু বিখ্যাত শিল্পীর চিত্রকলা ও শিল্পকর্ম। সাজসজ্জার প্রতিটি উপাদানেই বাড়িটিতে রয়েছে এক স্বপ্নিল আবেদন। বিশেষভাবে নজর কাড়ে শিল্পী মঞ্জিত বাওয়ার আঁকা গরুর চিত্র, যা বসার ঘরের দেওয়ালে শোভা পায় - ভারতীয় শিল্পভাবনার এক অনন্য নিদর্শন।

‘জলসা’-র ইতিহাস আরও একধাপ রোমাঞ্চকর। খ্যাতনামা পরিচালক রমেশ সিপ্পি ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘সাত্তে পে সাত্তা’-য় অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই বাংলো উপহার দেন। এ শুধু বলিউডের এক স্মরণীয় মুহূর্তই নয়, বরং অমিতাভ বচ্চনের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে ওঠে ‘জলসা’।
.jpeg)
‘জলসা’-র সামনে পৌঁছলেই নজরে পড়ে বিশাল কাঠের ফটক। পর্যটক ও অনুরাগীদের কাছে এই ফটকই ছবি তোলার অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা। ফটক পেরিয়ে সবুজ পাম গাছ ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা ড্রাইভওয়ে নিয়ে যায় বাড়ির দৃষ্টিনন্দন অন্দরমহলের দিকে। প্রতি রবিবার এখানে জমায়েত হন অগণিত ভক্ত। ফটকের কাছে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিতাভ বচ্চন তাঁদের অভিবাদন জানান।
.jpeg)
বাড়ির অন্দরসজ্জায় ঢুকলেই চোখে পড়ে রাজকীয় আভিজাত্য। ড্রয়িং রুমে রয়েছে পুরনো দিনের উঁচু উঁচু খিলান, সমৃদ্ধ আর্ট কালেকশন, পিতলের ভিন্টেজ ভাস্কর্য, ঝাড়বাতি, মার্বেলের মেঝে ও তুর্কি কার্পেট। রুপোর ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড, নানারকম শোপিস ও নান্দনিক চিত্রকলা বচ্চন পরিবারের শিল্পরুচির সাক্ষ্য দেয়।
.jpeg)
এই ঘরটি তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ও অন্তরঙ্গ। মুঘল ও পারস্য স্থাপত্যশৈলীর অনুপ্রেরণায় তৈরি ডোম-আকৃতির নকশা, হলুদ আলো আর কাঠের প্যানেলিং ঘরটিকে করে তোলে আরামদায়ক। সবুজ লুমিনাস চেয়ার ও নীয়ন কুশন, সঙ্গে পারিবারিক ছবি ও আধুনিক শিল্পকর্ম - সব মিলিয়ে এটি বিশ্রাম ও আড্ডার আদর্শ জায়গা।

‘জলসা’-র জিমে রয়েছে আধুনিক ফিটনেস যন্ত্র, তবে তার সাজসজ্জায় রয়েছে ভিন্টেজ ছোঁয়া। অমিতাভ বচ্চন এখানে প্রায়ই শরীরচর্চা করেন, অনেক সময় নাতি অগস্ত্য নন্দার সঙ্গেও। এছাড়াও রয়েছে একটি রেকর্ডিং রুম, যেখানে তিনি ডাবিংয়ের কাজ করেন এবং পরিবার মিলে মাঝেমধ্যে মিউজিক জ্যাম সেশনও হয়।

বাড়ির পিছনের অংশে বিস্তৃত সবুজ উঠোন, ট্রপিক্যাল গাছপালায় ভরা। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আরাধ্যার খেলার জায়গা কিংবা নব্যা নন্দার গ্র্যাজুয়েশন সেলিব্রেশন - সবই হয়েছে এখানে। ডাইনিংয়ের বাইরে লাগোয়া বারান্দাটি নিঃসঙ্গ বিকেলে চা খাওয়ার জন্য আদর্শ।
.jpeg)
‘জলসা’-র আর এক বিশেষ আকর্ষণ সাদা মার্বেলের মন্দির। দেব-দেবীর মূর্তি, সূক্ষ্ম খোদাই আর শুভ্র পরিবেশ এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি তৈরি করে। চারপাশে সবুজ ঘাস ও গাছপালা মন্দিরটিকে আরও শান্তিময় করে তোলে।