
সোনার পদক হাতে সারওয়ান সিং
শেষ আপডেট: 28 December 2024 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো : সারওয়ান সিং। নামটা আপনাদের অনেকের কাছেই হয়ত অজানা হতে পারে। কিন্তু, ১৯৫৪ সালে আয়োজিত এশিয়ান গেমসের ১১০ মিটার হার্ডলে তিনি ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কিন্তু, জীবনযুদ্ধে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিলেন। দেশের অন্যতম এই উজ্জ্বল অ্যাথলিটকে একটা সময় না খেতে পেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল। তারপর...। আসুন, তাহলে বাকি গল্পটাও জেনে নেওয়া যাক।
১৯৫৪ সালে প্রথমবার দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সারওয়ান সিং। প্রথমবার প্রায় ১ লাখ সমর্থকের সামনে তিনি স্বপ্নের দৌড় লাগিয়েছিলেন। পথে দশটি হার্ডল তাঁকে টপকাতে হয়েছিল। অবশেষে তিনি দেশের হয়ে সোনার পদক জয় করেছিলেন।
এই টুর্নামেন্টে সারওয়ান সিং শুধুমাত্র দৌড়ননি, কেরিয়ারের একাধিক প্রতিবন্ধকতা টপকেছিলেন তিনি। গোটা পথ অতিক্রম করতে তিনি মোট ১৪.৭ সেকেন্ড নিয়েছিলেন। গলায় ঝুলিয়েছিলেন সোনার পদক। এর থেকে বড় প্রাপ্তি বোধহয় তাঁর জীবনে আর কিছু ছিল না। জাতীয় পতাকা গায়ে জড়াতেই একটা আলাদা অনুভূতি হয়েছিল।
তবে এই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাঁর কপালে অন্য কিছুই লেখা ছিল। পদক তো আর পেটের খিদে মেটাতে পারে না। পরিবারের মুখে ভাত তুলে দেওয়ার জন্য চাকরি খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু, দেশের হয়ে সোনার পদকজয়ী অ্যাথলিটের ভাগ্যে জোটেনি ন্যুনতম মাইনের সরকারি চাকরি।
অবশেষে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপে একটা চাকরি জোটে। কিন্তু, ১৯৭০ সালে অবসর গ্রহণের পর আবারও শুরু হয় আর্থিক দুর্দশা। এই পরিস্থিতিতে একটি ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ে তিনি চালাতে শুরু করেন। এরপর পরিবার এবং বন্ধুদের ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দুরে প্রায় ২০ বছর ট্যাক্সি চালান তিনি।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বয়স। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিটের জন্য ১,৫০০ টাকা পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়। ৭০ বছর বয়সের পর তো হাঁটা-চলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
এই অবস্থায় কার্যত বাধ্য হয়েই নিজের সোনার পদকটি বিক্রি করে দেন। আপাতত তিনি নবতি বৃদ্ধ। আজ হয়ত সারওয়ানের নাম এবং সাফল্য ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। স্বাধীন ভারত হয়ত তাঁকে ভুলেই গিয়েছে।