শেষ আপডেট: 18 April 2020 09:17
গোটা এপ্রিল মাস জুড়েই গৃহবন্দি থাকবে সারা দেশ। ‘গৃহবন্দি’ এই শব্দবন্ধের আড়ালে হাজার হাজার স্বভূমিতে ফিরতে না পারা অভিবাসী শ্রমিকদের দেশের নানা স্থানে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে পড়ার যন্ত্রণা, মাইলের পর মাইল সপরিবারে হেঁটে ফিরেও স্থানীয়দের আপত্তিতে নিজের গৃহে প্রবেশের অনধিকার কিংবা অগুন্তি গৃহহীনের নিরাপত্তাহীনতা কতটা গুরুত্ব পায় তা সত্যিই অজানা। করোনা আক্রান্ত উন্নত বিশ্বের থেকে ধার করা মাসাধিক কাল লকডাউনের এই নীতি নিঃসন্দেহে কার্যকরী, কিন্তু ১৩০ কোটির এদেশে শুধু লকডাউন কি যথেষ্ট? সার্বিক অর্থনীতির আগামী গতিপ্রকৃতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানাজনে মতামত দিচ্ছেন কিন্তু এই লকডাউনের প্রত্যাঘাত দেশের কোন অংশের মানুষকে গভীর আঁধারে ঠেলে দিল? শ্রেণি ও জাতে বহুধা বিভক্ত এদেশে তাঁদের অবস্থান কোন সারিতে?
উন্নত বিশ্বের যে অভিজ্ঞতা থেকে আমরা লকডাউনের পথে হাঁটলাম তাদের সঙ্গে আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির বিপুল ফারাক। এদেশের সমাজ ও অর্থনীতির সিংহভাগই অসংগঠিত, ফলে তার শ্রম থেকে ঋণের বাজার সব ক্ষেত্রেই এর ছায়া বিদ্যমান। যে নির্মাণশিল্প আমাদের দেশের কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদান রাখে তার পুরোটাই প্রায় অসংগঠিত। অনুরূপ চিত্র দেখা যায় কৃষিক্ষেত্রেও যা আজও মোট কর্মসংস্থানের অর্ধেকেরও বেশি দখল করে আছে। অধিকাংশ বড় জোত বা বাজার-কেন্দ্রিক কৃষি উৎপাদন প্রভূতভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া পরিষেবা ক্ষেত্রেও কাজের নানা রকমফের থাকলেও সুযোগ-সুবিধার নিরিখে কর্মসংস্থান মূলত অসংগঠিত বা চুক্তিভিত্তিক। তদুপরি আমাদের সমাজজীবনও তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি লৌকিকতা বর্জিত, ফলে যেকোনও ধার্মিক, সাংস্কৃতিক বা সামজিক প্রয়োজনে সমাগম বেশি হয়। ফলে উন্নত দেশসমূহের লকডাউনের সঙ্গে আমদের দেশের লকডাউনের পরিণতির ফারাক থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় লকডাউনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র হয়ে উঠল এদেশে করোনার এপিসেন্টার, পনেরো লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের ধারাবি বস্তি থেকে তা সামাজিক সংক্রমণের স্তরে-- যা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন জাগে, এ অভাগা দেশে লকডাউন কতটা সফল সংক্রমণ প্রতিরোধে?
সংকটের নানা ক্ষেত্র
রবিশস্য পুরোটা খেত থেকে তুলে নেওয়ার আগেই ঘোষিত হয় ২১ দিনের প্রস্তুতিহীন লকডাউন, যা আরও ১৯ দিন বর্ধিত হয়েছে। ইতিমধ্যে লক্ষ-অযুত অভিবাসী শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হয় পদব্রজে নয় ভিড় ঠাসাঠাসি বাসে করে ফিরতে মরিয়া ছিলেন। বিপুল অনিশ্চয়তা নিয়ে যারা রয়ে গিয়েছেন তারাও গৃহবন্দি, ফলে উৎপাদন উত্তর যে বিপুল কর্মকাণ্ডে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় তাও অনিশ্চিত। এক্ষেত্রে একথা স্মরণযোগ্য যে এই অভিবাসী শ্রমিকদের সিংহভাগই দলিত, আদিবাসী ও বহুজন সমাজের অন্তর্ভুক্ত। ‘জন সাহস’ নামক একটি অসরকারি সংস্থার করা সমীক্ষায় দেখা যায় যে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত অভিবাসী শ্রমিকদের ৪২ ভাগেরই কোনও রেশন কার্ড নেই। এই শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশেরই একসপ্তাহের বেশি খাবারের খরচ বহন করার মত আর্থিক সঙ্গতি নেই। গত আদমসুমারি (২০১১) অনুযায়ী, দেশে ৪৫০ মিলিয়ন অভিবাসী শ্রমিক আছেন, যা মোট শ্রমিকের ৩৭ শতাংশ। এদের ৫৫ শতাংশের দৈনিক আয় গড়ে ২০০-৪০০ টাকা। লকডাউনের অব্যবহিত পরেই এই ৪৫ কোটি মানুষ কাজ হারিয়ে দরিদ্রতর হবেন, অনাহারের করাল ছায়া আজ দেশের কয়েক কোটি পরিবারে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিন্যাসে তলানিতে থাকা এদের জন্য অপেক্ষা করে কীটনাশক ছড়িয়ে জীবাণুমুক্ত করার নির্মম পরিহাস! তাই কি শারীরিক দূরত্বের বদলে সামাজিক দূরত্বের নিদান?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, উত্তরপ্রদেশে পর্যাপ্ত শ্রমিকের (যারা অধিকাংশই অভিবাসী) অভাবে জমি থেকে গম মজুত করা প্রবল অসুবিধার সম্মুখীন। অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে যারা ফেরত এসেছেন এবং একবার রেল/সড়ক যোগাযোগ শুরু হলেই যারা ফেরত আসার জন্য মরিয়া তাদের সম্মিলিত প্রভাবে স্থানীয় শ্রমের বাজারে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে অস্থিতি তৈরি হবে। এই অভিবাসী শ্রমিককুলের একটা বড় অংশ এবার হয়তো বাড়তি আয়ের আশা ছেড়ে নিজের অঞ্চলেই কাজ খুঁজবেন, ফলে করোনা-পরবর্তী গ্রামীণ জীবনের সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়বে, প্রশ্ন হল এর সময়সীমা কত? খারিপ মরসুম আসন্ন, যে দেশে তিন-পঞ্চমাংশ জমি সেচহীন, সেখানে বর্ষাকালীন চাষের গুরুত্ব উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে, বিশেষ করে বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় কৃষিশ্রমিকের যোগান এবং উৎপাদন পরবর্তী বাজার নিয়ে সংশয় নতুন করে চাষ করার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে ঋণাত্মক প্রভাব ফেলবে। অভিবাসী শ্রমিককুলের পুরোটা গ্রামে ফিরলে স্থানীয় ক্ষেত্রে খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা বাড়বে অথচ স্থানীয় এলাকায় কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলে তা এক নতুনতর সমস্যার উদ্রেক করবে। না, অর্থনীতির কোনও মডেলই কার্যকরী নয় এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে এর সময়সীমা নির্ধারণে, সত্যিই এক অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের এতদিনের লব্ধ জ্ঞানভাণ্ডার। আশঙ্কা জাগে, মহামারী প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা দুর্ভিক্ষকে আহ্বান করছি না তো? মহামারীর পর তাহলে কি খাদ্য সংকট? আর কে না জানে এধরনের সংকটে লাখে-অযুতে প্রাণ যায় গরিবগুরবোদেরই।
শহরাঞ্চলে নানা অসংগঠিত ক্ষেত্রে যে বিপুল কর্মচ্যুতি হয়েছে লকডাউনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের একটা অংশ ইতিমধ্যেই অন্য কাজ খুঁজতে শুরু করেছে। যেমন এই সময় ফল, মাছ ও সবজিবিক্রেতাদের একটা বড় অংশ অন্য পেশায় কাজ হারিয়ে এটাকেই সাময়িক পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ধাপে ধাপে লকডাউন উঠে গেলেই যে এরা তাদের পুরোনো কাজ ফিরে পাবেন তাও নয়। কারণ অর্থনীতির গতি শ্লথতর, বিশ্বায়নের অশ্বমেধ ঘোড়া আজ চক্রব্যুহের আবর্তে অভিমুন্য। বিশেষ করে শপিং মল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ফার্স্ট ফুড সেন্টার, নিরাপত্তারক্ষী, গাড়ির ড্রাইভার, পরিবহণ ও পর্যটন, স্বনিযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়ে শুধু বিপর্যস্তই নন, তাদের সামনে সরকারি রেশন ছাড়া ক্ষুণ্ণিবৃত্তির আর কোনও সুযোগ কবে আসবে তা সত্যিই অজানা। আগামী কতদিনে এই শহর ও গঞ্জগুলি প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে তা ঠাহর করা মুশকিল, কিন্তু ততদিনে শহরে থাকা অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিযুক্ত পরিবারগুলোর বেঁচে থাকাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ফলে লকডাউনের পরেই এক অভুতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি আমরা। বৃহৎ শিল্পের আজ নাভিশ্বাস অবস্থা, সরকারও প্রায় তথৈবচ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায় দেউলিয়া তাই আগামীতে সরকার তার নাগরিকদের প্রতি কতটা সহমর্মী হবে তা অবশ্যই প্রশ্নযোগ্য। করোনা মোকাবিলায় গোটা বাজারব্যবস্থাই বিপর্যস্ত, ফলে যে পেশা যত বাজার সম্পৃক্ত তার সংকট তত বেশি। তবে, এতদিন অর্থনীতিতে বাজারের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হত, আগামীর নতুন পাঠ্যবিষয় হতে পারে সরকারি ব্যর্থতা যা আজ প্রতি পলে অনুভূত হচ্ছে গোটা পৃথিবী জুড়ে।
তাই এদেশে তখনই লকডাউন সফল হবে যদি এই অসংখ্য নিম্নবিত্তের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেওয়া যায়, যা করে কেরল আজ করোনা মোকাবিলায় উদাহরণ। কেরল এটা করতে পারল কারণ সেখানকার রাজ্য সরকার করোনা মোকাবিলায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে আর বিপ্রতীপে সারা দেশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ ১৫ হাজার কোটি টাকা-- ফারাক বুঝতে পণ্ডিত হতে হয় না। খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে লকডাউনের সাফল্য পেতে গেলে যা জরুরি ছিল তা হল নিবিড় পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সঙ্গরোধ ও চিকিৎসা। সম্প্রতি ছোট্ট দেশ ভিয়েতনাম এই পথ ধরেই করোনা মোকাবিলায় সাফল্য পেয়েছে। দেশের মধ্যে সাফল্যের দুই উদাহরণ কেরল বা রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলাও এ পথের প্রদর্শক। ফলে দেশ জুড়ে এই অতি জরুরি স্বাস্থ্যপরীক্ষা ছাড়া লকডাউন কতটা সফল হয় তা আর কিছুদিন বাদেই অনুভূত হবে।
করোনার শিক্ষা
করোনা ভাইরাসের এই নতুন অবতারের জন্য পরিবেশ ধ্বংস ও দূষণ কতটা দায়ী বা আদৌ দায়ী কি না তা আগামীর গবেষণা জানান দেবে। কিন্তু পৃথিবীর একটা বড় অংশে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিরতি থাকায় প্রকৃতি তার পুরোনো রূপ অনেকটা ফিরে পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে যা জানা যাচ্ছে বিগত তিন সপ্তাহে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে নতুন রোগী ভর্তির হার নিম্নতম, এমনকি মৃত্যুর হারও যথেষ্ট কম যা বিভিন্ন শ্মশানঘাটের তথ্য যাচাই করলেই জানা যাবে। মননহীন বিশ্বায়ন যা প্রকৃতিকে ঠেলে দিয়েছে সর্বনাশের খাদে, বিপন্ন করে তুলেছে মানবজাতির অস্তিত্ব-– করোনা কি আমাদের এবার একবার লাগামহীন ভোগবাদী মরীচিকার পশ্চাদ্ধাবনের বদলে গভীর আত্মবিশ্লেষণের দিকে আমাদের প্রলুব্ধ করবে?
গত প্রায় চার দশক ধরে ভুবনময় প্রভুত্ব করছে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি, যার পরিণামে দেশে দেশে ভেঙে পড়েছে সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রমরমিয়ে প্রসার ঘটেছে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায়। উচ্চ ব্যয়ের এই সব প্রতিষ্ঠানে সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণিরই অধিকার রয়েছে পরিষেবা নেওয়ার। আর ক্রমাগত দুর্বল করা হয়েছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে, কিন্তু এই সংকটে সেই ভেঙে পড়া পরিকাঠামোই ভরসা ১৩০ কোটি দেশবাসীর। বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রগুলো এর আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের সময়ও হাত গুটিয়ে নিয়েছিল, সুতরাং করোনায় তারা যে খোলের ভিতরে ঢুকে যাবে তা আর আশ্চর্য কী! করোনা-পরবর্তী সময়ে নিশ্চয়ই নীতি-নির্ধারকদের ওপর চাপ আসবে স্বাস্থ্যনীতি বদলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই জোরদার করা আমজনতার স্বার্থে। স্মরণে রাখা কর্তব্য যে, এ পোড়া দেশে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হয় জাতীয় আয়ের মাত্র ১.৬৭ শতাংশ। এই প্রসঙ্গেই চলে আসে বেঙ্গল কেমিক্যালের অপরিহার্যতা, আমরা কি পারব না এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে দেশবাসীর মালিকানায় রাখতে? এই সংকটে আরও তীব্রভাবে প্রকটিত হল সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থায় (রেল, সড়ক, ফোন, ইন্টারনেট) সরকারি সংস্থার অবদান। তাই ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে ঢালাও বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই দেশ ও জাতিকে বাঁচাবার একমাত্র পথ।
এই মহামারী নতুন করে সহনাগরিকের প্রতি দায়বদ্ধতার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে আপামর মানবজাতির প্রতি। এ শুধু নিজে ভাল ও সুস্থ থাকা নয়, এ মারণরোগ পড়শিকে সুস্থ রাখার দায়ও বহন করে এনেছে যা একমাত্র সহমর্মিতা ও স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব। রাষ্ট্র বা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা এর মোকাবিলা করা বাতুলতার নামান্তরমাত্র, তা বুঝেই অসংখ্য ব্যক্তিগত/ যৌথ উদ্যোগ সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশ জুড়ে। পরস্পরকে বেঁধে রাখার এই প্রয়াস করোনা-উত্তর মানুষকে নিশ্চিতভাবে ভালতর থাকার আশা জাগাবে।
করোনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে এ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সংবিধান প্রণেতাদের হাতে তার অপরিহার্যতা বুঝিয়ে দিল। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, ওড়িশা-– একের পর এক রাজ্য দিল্লির দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেরাই অগ্রিম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রয়োজনমতো। রাজ্যগুলির সংবিধান প্রদত্ত স্বাধিকার করোনা মোকাবিলায় শুধু বাড়তি দায়িত্বই দেয়নি, দিয়েছে বিপর্যয়ের সময় নিজের সম্পদকে কাজে লাগিয়েই তাকে মোকাবিলা করার আত্মবিশ্বাস। রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতার যে দাবি ক্লিশে হয়ে গিয়েছিল তা কি আবার নতুন ভাষা খুঁজে পাবে?
করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়েই এত দিনের ধ্যানধারণার ক্ষেত্রে কার্যকরী পরিবর্তন আনবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর করোনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিবাদের জেরে তাঁর রাজ্যকে স্বাধীন ঘোষণা করেছেন। ব্রাজিলে প্রেসিডেন্টকে ঠুঁটো করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পথে। অন্যদিকে ভুবনায়নের গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও মানুষের নজর থাকবে দেশীয় ব্যবস্থার প্রতি, কারণ মহামারীর প্রকোপ বিশ্বব্যাপী হলেও তার সমাধান লুকিয়ে আছে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার ওপর। ফলে করোনা-উত্তর সময় আমাদের নিয়ে যাবে নতুনতর পথে সর্বব্যাপী কল্যাণের লক্ষ্যে।
লেখক বগুলার শ্রীকৃষ্ণ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)