
শেষ আপডেট: 19 October 2019 10:34
শুরুতেই বলে নেওয়া ভাল, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থনৈতিক তত্ত্বের আমি সমর্থক নই। বরং তাঁর তত্ত্ব সম্পর্কে আমার সমালোচনা এবং বিরোধিতা রয়েছে। তবু বলব, একজন বাঙালি হিসাবে তাঁর নোবেল প্রাপ্তিতে আমি খুশিই হয়েছি। এও বলব, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি কখনওই আধা বাঙালি মনে করিনি, করিও না। বরং তাঁর জীবনচর্চা এবং সংস্কৃতি বোধ থেকে বুঝতে পারি, তিনি একশো শতাংশ খাঁটি বাঙালি। তিনি অন্তত বাঙালি হয়ে হিন্দি উচ্চারণে বাংলাটা বলেন না। বরং নোবেলপ্রাপ্তির পর বিদেশের মাটিতে তিনি যখন বাংলায় তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন তখন ভালই লাগে তা দেখতে। সম্প্রতি নোবেলজয়ী এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ সম্পর্কে বঙ্গ বিজেপির একাংশ যে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন – আমার এই সংক্ষিপ্ত লেখাটির প্রতিপাদ্য তা নিয়েই।
অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থনৈতিক তত্ত্বের সবাই যে সমর্থক হবেন তার কোনও অর্থ নেই। বরং অনেকেই তার বিরোধীও হতে পারেন। একজন নোবেলজয়ীর সব তত্ত্ব যে নির্বিবাদে মাথা পেতে গ্রহণ করতে হবে বিষয়টি এমনও নয়। কাজেই কেউ যদি তত্ত্বগত ভাবে অভিজিৎ বিনায়কের মতকে খারিজ করেত চান তাতে অন্যায়ও কিছু নেই।
বঙ্গ বিজেপির কিছু কিছু নেতা এবং অতি উৎসাহী সমর্থকদের সমস্যাটা অন্য জায়গায়। এঁরা অভিজিতের অর্থনৈতিক তত্ত্বের কোনও তাত্ত্বিক সমালোচনা করছেন না। বা বলা ভাল, তাত্ত্বিক সমালোচনা করার কোনও আগ্রহও প্রকাশ করছেন না। বরং এঁরা অভিজিৎ বিনায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব নিম্নমানের কুরুচিকর আলোচনা করছেন। যে ধরনের আলোচনায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বদলে অপরিণামদর্শী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাই ফুটে উঠছে বেশি।
বঙ্গ বিজেপির নেতারা একটি জায়গায় গোল বাধিয়েছেন। অর্মত্য সেন এবং অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা এক আসনে বসিয়ে ফেলেছেন। এঁদের বোঝা উচিত, অমর্ত্য সেনের মতো অভিজিৎ ঘোষিত বিজেপি বিরোধী নন। অকারণে এবং ব্যক্তিগত অসূয়াবশত অমর্ত্য সেনের মতো তিনি নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন না। বরং অভিজিৎ হচ্ছেন সেই বাঙালি অর্থনীতিবিদ, যিনি মোদী সরকারের কিছু কিছু আর্থিক নীতিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এখন মোদী সরকারের কোনও আর্থিক নীতির যদি তিনি সমালোচনা করেই থাকেন, তার বিরোধিতাও নীতিগত ভাবে হতেই পারে। তার জন্য অভিজিতের ব্যক্তিগত জীবন টেনে এনে মুখরোচক আলোচনা করা শুধু অশালীন নয় নিম্নরুচিরও পরিচায়ক।