
শেষ আপডেট: 18 June 2021 14:29
(প্রধান শিক্ষক, যাদবপুর বিদ্যাপীঠ)
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল নির্ধারণের জন্য শুক্রবার যে মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়েছে তা হয়তো সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে না। কিন্তু এর বিকল্পও কিছু ছিল না। পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশের জন্য এটাই ছিল একমাত্র উপায়।
তবে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, মেধা তালিকার বিষয়টি। প্রত্যেক বছর মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে। এবছর যেহেতু পরীক্ষাই হল না তাই আমি মনে করি, মেধাতালিকা প্রকাশ করা সঠিক কাজ হবে না।
কারণ, মূল্যায়ন করা হচ্ছে স্কুলের নেওয়া আগের পরীক্ষাগুলোর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। বোর্ডের নেওয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে নয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। একই সঙ্গে অভিভাবক এবং শিক্ষক মহাশয়রাও পড়ুয়াদের পাশে থেকে তাদের ভাল রেজাল্টের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। তার কোনওটাই এবার বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।
এটাও খেয়াল রাখা দরকার, স্কুল স্তরের পরীক্ষায় অনেকেই ভাল ফল করেনি। অনেক স্কুল বেশ কড়াকড়ি করে স্কুলের পরীক্ষায়। সেই সব স্কুলের পড়ুয়ারা বেশিরভাগই বোর্ডের পরীক্ষায় খুব ভালে রেজাল্ট করে। এবার তো সেই মেধা প্রকাশের সুযোগটাই নেই। তাই মেধাতালিকা প্রকাশ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অবিচার করাই হবে।
উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের ক্ষেত্রে আর একটা বিষয় দেখা গিয়েছে। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, মাধ্যমিকের তুলনায় উচ্চমাধ্যমিকে ভাল ফল করে প্রায় ২০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী। তারাও এবার সে সুযোগ যেহেতু পাচ্ছে না সে কারণেও মেধাতালিকা প্রকাশ করা ঠিক নয়।
আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্কুল এখনও বোর্ডের কাছে স্কুল পরীক্ষার নম্বর পাঠায়নি। শুক্রবার মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার একটা সুযোগ ওই সব স্কুলের কাছে থাকছে। আমি আশা করব কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক মহাশয় যেন অসততার আশ্রয় না নেন। কিন্তু সুযোগ যেহেতু থাকছে, তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মূল্যায়ন পদ্ধতি যাদের পছন্দ হবে না সেই ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আপাতত সবাই উঁচু ক্লাসে উঠে যাবে। পরীক্ষা দিলে তখন আগের মার্কশিট বাতিল হয়ে যাবে।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)