
ওয়াই ক্রোমোজোম কমছে আশঙ্কাজনকভাবে।
শেষ আপডেট: 28 August 2024 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুষ জাতিই নাকি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে পৃথিবী থেকে! এমনটাই বলছে 'প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সে'-এর একটি রিপোর্ট। তাদের মতে, একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে এই বিলুপ্তির আভাস। না, পুরুষদের উপর কোনও বিপর্যয় নেমে আসার কারণে এমনটা ঘটবে না, এর পিছনে দায়ী ক্রোমোজোমের পরিবর্তন।
মানুষের শরীরের কোষে যে দুটি ক্রোমোজোম থাকে, এক্স এবং ওয়াই, যা কিনা মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেখানেই ঘটবে বড়সড় পরিবর্তন। ওয়াই ক্রোমোজোমই নাকি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। এই ওয়াই ক্রোমোজোমই পুরুষের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। ওয়াই ক্রোমোজোম নাকি হ্রাস পাচ্ছে ক্রমশ। হ্রাস পেতে পেতে এই ক্রোমোজোম মিলিয়ে গেলেই বিশ্বে আর পুরুষ প্রজাতির অস্তিত্ব থাকবে না।
জীববিজ্ঞানের জগতে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মহিলাদের ক্ষেত্রে দু’টি এক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে থাকে একটি এক্স এবং একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। মানুষের ক্ষেত্রেও তাই। এখন এই এক্স ক্রোমোজামে অন্তত ৯০০টি জিন থাকে, যা নারী যৌন পরিচয় নির্মাণে কাজ করে। অন্যদিকে, ওয়াই ক্রোমোজোমে থাকে মাত্র ৫৫টি জিন, যা এমব্রায়ো তথা ভ্রূণে পুরুষ বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ওয়াই ক্রোমোজোমের সংখ্যাই ধীরে ধীরে কমে আসছে।
মেলবোর্নের জিন-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেনিফার গ্রেভস এই গবেষণার ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, গত প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন বছর ধরে মানুষ এবং প্লাটিপাস, উভয় ক্ষেত্রেই ওয়াই ক্রোমোজোমে ৫৫ থেকে ৯০০ সক্রিয় জিন হারিয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ সংখ্যার হিসাবে প্রতি ১ মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ বছরে বছরে প্রায় পাঁচটি। ফলে, এই হারে জিন হারানো চলতে থাকলে, আগামী ১১ মিলিয়ন বছরে শেষ ৫৫টি জিনও হারিয়ে যাবে।
তাঁর কথায়, 'বেশিরভাগ ওয়াই ক্রোমোজোম পুনরাবৃত্তিমূলক ‘জাঙ্ক ডিএনএ’ দিয়ে গঠিত, যা কিনা অশক্ত ও দুর্বল গঠনের। এই কারণেই ওয়াই ক্রোমোজোম ক্রমশ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পিছিয়ে পড়ছে। এভাবে চললে আগামীদিনে ওয়াই ক্রোমোজেমের অস্তিত্বই আর থাকবে না।
এভাবে ওয়াই ক্রোমোজোম একেবারে হারিয়ে গেলে কী হবে, তা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা এমন দু'টি ইঁদুরের বংশ বিশ্লেষণ করেন, যেগুলি ইতিমধ্যেই তাদের ওয়াই ক্রোমোজোম হারিয়েছে এবং পথিবীতে এখনও টিকে আছে। হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী আসাতো কুরোইওয়ার নেতৃত্বে চলা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ইঁদুরের দল বেশ গর্ব করেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওয়াই ক্রোমোজোম বিলুপ্ত হওয়ার আগেই তারা একটি নতুন ক্রোমোজোম তৈরি করেছিল, যা পুরুষ ইঁদুরের জন্মের জন্য প্রয়োজনীয়।
মানুষের ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটে গেলে ভাল, নইলে ভবিষ্যতের দুনিয়া শাসন করবে প্রমীলা বাহিনীই। আবার জিন বিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে নতুন কোনও লিঙ্গও। তবে এমনটা হতে ঢের দেরি আছে। ১১ মিলিয়ন বছর মানে এক কোটি বছরেরও বেশি সময় পরে এমনটা হতে পারে। এই নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।