
শেষ আপডেট: 21 March 2024 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল বিশ্ব কি আর সন্তান চাইছে না?
ল্যানসেটের সাম্প্রতিক সমীক্ষা চিন্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফার্টিলিটি রেট যেভাবে কমছে তাতে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৭ শতাংশ দেশেই জন্মহার তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। নবজাতকদের জন্ম আর হবে না, ফলে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়বে। কমবে কমবয়সিদের সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে যা বড় ধাক্কা দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
শেষ দশ বছরে ভারতেও কমেছে ফার্টিলিটি রেট। দ্য জেনারেল ফার্টিলিটি রেট (GFR) অনুসারে দেশে জন্মহার কমেছে ২০ শতাংশ। ১৫-৪৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে বেড়েছে নানা সমস্যা। ইদানীং কালে ওবেসিটি, পিসিওএসের সমস্যা ভুগছেন কমবয়সি মেয়েরা। তাছাড়া কেরিয়ার সামলাতে গিয়ে বেশি বয়সে বিয়ে, সন্তান নিতে চাইছেন না অনেক দম্পতিই। দেখা গেছে, দেশের গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক সন্তান উৎপাদনের হার কমেছে ২০.২ শতাংশ আর শহরে জিএফআর কমেছে ১৫.৬ শতাংশ।
কেন কমছে ফার্টিলিটি রেট?
এক জন প্রজননক্ষম বয়সের মহিলা (সব বয়সের সাম্প্রতিক জন্মহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে) মোট ক’টি সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম, তা আমরা মোট জন্মহার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট বা টিএফআর) থেকে বুঝতে পারি। সমীক্ষা বলছে, ১৯৫০-৫২ সালেও দেখা গেছে, এক এক পরিবারে মেয়েরা পাঁচ থেকে সাত জন সন্তানের জন্ম দিত, কখনও তারও বেশি। সেই সংখ্যাই কমতে শুরু করে পরবর্তী কালে। সমাজের পরিকাঠামো বদলায়। এখন মেয়েরা কেরিয়ার নিয়েই বেশি চিন্তিত। গর্ভবতী হওয়া মানেই চাকরিতে সমস্যা, চাকরি ছাড়লে আর্থিক চাপ, সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে হলে ভাল শিক্ষা দিতে হবে তারও খরচ অনেক, সন্তানের দেখাশোনার খরচও কম নয়--এইসব ঝক্কি নিতে রাজি হচ্ছেন না কমবয়সিরা।
গত বছর টোকিয়োর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি নামক একটি সরকারি সংস্থার ২০২১ সালের সমীক্ষার ফলাফল জন্মহারের অনুপাত সম্পর্কে যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। সমীক্ষা অনুসারে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সি ১৭.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ১৪.৬ শতাংশ মহিলা বলছেন যে, তাঁদের বিয়ে করার কোনও ইচ্ছে নেই। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভিবাসনে কড়াকড়ি এবং পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা ইত্যাদি কারণে বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে। এ সবের ফলে পূর্বানুমানের চেয়ে দ্রুত হারে কমছে জন্মহার।
মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে করা, পড়াশোনার প্রতি বাড়তি তাঁদের আগ্রহ এবং বাজারে গর্ভনিরোধকের ব্যাপক প্রাপ্তি— এই সব বিষয়ের উপর কিন্তু জিএফআর এর ওঠানামা অনেকটা নির্ভর করে। ভারতের ক্ষেত্রে মোট সন্তান উৎপাদনের হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) হল ২। ২০২১-এর সমীক্ষা অনুযায়ী চিন এবং তাইওয়ানের প্রজননের হার সবচেয়ে কম। মহিলা-পিছু শিশু জন্মের সংখ্যা ১.০৭। জন্মহারে পতনের ফলেই চিন গত বছর তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনে ঘোষণা করে, যে কোনও দম্পতি তিনটি সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়াও প্রথম বার তাদের জন্মহারে পতন লক্ষ করেছিল।