এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ছি ছি পড়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন ওই মহিলা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।

ভাইরাল ভিডিওর ওই অংশ
শেষ আপডেট: 15 September 2025 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনে ধূমপান করা বারণ, এই নিয়ে অনেকরকম ভাবে প্রচার চালিয়ে চলেছে ভারতীয় রেল। বেশিরভাগ আগুন লাগা সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ঘটার পরও যে মানুষের টনক বিশেষ নড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিও।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফোন কানে কথা বলছেন এক মহিলা, তাঁর হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট। এবং ট্রেনের যে কামরাতে তিনি সফর করতে করতে ধূমপান করছেন তা থ্রি টায়ার এসি কামরা।
মহিলার নাম বা তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন, কোথাকার বাসিন্দা তা জানা যায়নি। ভিডিওটি কোন ট্রেনে তোলা হয়েছে, সেই নিয়েও কোনও তথ্য সামনে আসেনি। (ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি ‘দ্য ওয়াল’)
কথা বলতে বলতে হঠাৎ যখন ওই মহিলা খেয়াল করেন যে তাঁর ভিডিও করা হচ্ছে, প্রথমে তিনি একটু ভয়ে ভয়েই বলে ওঠেন, ‘ভিডিও বানাচ্ছেন আপনি আমার? এটা ঠিক হছে না।’ তারপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রেলওয়ের কর্মীকেও তিনি বলেন, ‘ওঁকে বলুন আমার ভিডিও যেন না বানান, যা করেছেন সেটা যেন ডিলিট করে দেন।’
তখন যিনি ভিডিও করছেন তিনি সজোরে বলে ওঠেন, ‘আপনি যা করছেন সেটা কিন্তু বেআইনি।’ মহিলা উল্টে বলেন, ‘আমি আপনাকে কিছু ভুলভাল বলিনি।’ তখন তাঁকে বলা হয়, ‘বাইরে গিয়েও যদি সিগারেট খান, সেটারও অনুমতি নেই।’
তখনই যেন মহিলার রাগের আগুনে ঘি পড়ে। রেগেমেগে বলে ওঠেন, ‘তোমার থেকে তো নিয়ে খাচ্ছি না। সম্মান দিয়েই বলছি, আমার এই ভিডিও ডিলিট করে দেবে।’
তারপরই হঠাৎ, আপনি থেকে তুমি এবং শেষে তুই-তোকারিতে নেমে আসেন ওই মহিলা। বলেন, ‘বাইরে চলে যাচ্ছি আমি। এটা তোর ট্রেন নয়।’
ইতিমধ্যে আশপাশের লোকরাও তখন ভিডিওর পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন। চাপের মুখে আঙুল তুলে কথা চিৎকার করতে শুরু করে দেন। পাশের লোকটিও ধমকে ওঠেন, ‘ট্রেনের মধ্যে আপনি ধূমপান করছেন কেন? এটা তো এমনিতেই এসি কম্পার্টমেন্ট।’
তারপরেই তেড়েমেড়ে মহিলা বলে ওঠেন, ‘এক কাজ কর, যাকে ডাকার ডেকে আন। কাকে ডাকবি? পুলিশকে তো? ডাক।
এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ছি ছি পড়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন ওই মহিলা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। কেউ তো স্পষ্ট বলেছেন, ‘নেশায় না থাকলে এভাবে কথা বলা যায় না।’ কিন্তু এই ঘটনায় যে কেউই ওই মহিলাকে সাপোর্ট করছে না, তা সোশ্যাল মিডিয়াতেই স্পষ্ট।
কিন্তু তারপর এই ঘটনায় কী হল, আদৌ ওই মহি;লার কোনও শাস্তি হল কিনা, যা আর জানা যায়নি।
প্রসঙ্গৎ, রেলওয়ে আইনের ১৬৭ ধারা বলছে, ট্রেনে ধূমপান করা অপরাধ। সহযাত্রীরা অভিযোগ জানালে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এই নিয়ে রেলওয়ে বোর্ডের 'জিরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে। যা বলে, রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী এবং টিকিট পরীক্ষকরা ট্রেনে এরকম কোনও প্রমাণ পেলে শাস্তি দিতে পারেন। ট্রেনের টয়লেট এমনকী স্টেশন চত্বরেও ধূমপান করা যায় না।
আগেও রেলওয়েতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি ঘটেছে। পরে জানা গিয়েছে, ট্রেনে ধূমপান বা দাহ্য পদার্থ থাকার কারণেই দুর্ঘটনাগুলি ঘটেছিল। সেই কারণেই ট্রেনে ধূমপান নিষিদ্ধ।