সবচেয়ে বড় কথা, চন্দ্রগ্রহণ দেখতে আলাদা কোনও চশমা বা সুরক্ষা দরকার নেই। খালি চোখেই এই চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। শহরের আলোর ভিড় এড়িয়ে অন্ধকার জায়গা থেকে আকাশে তাকালেই ধরা দেবে প্রকৃতির এই বিস্ময়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 September 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার গভীর রাতে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (Full Lunar Eclipse)। অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারবে ভারত-সহ বিশ্বের বহু দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদের আকাশযাত্রা ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়, আর তখনই রূপ নেবে ‘রক্তচাঁদে’ (Blood Moon)।
চাঁদ নিজে কোনও আলো দেয় না, সূর্যের আলো প্রতিফলিত করেই সে জ্বলে ওঠে। কিন্তু যখন পৃথিবী চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়, তখন সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছতে পারে না। পৃথিবীর ছায়া ঢেকে দেয় চাঁদকে, আর তৈরি হয় চন্দ্রগ্রহণ (Full Lunar Eclipse)। তবে চাঁদ একেবারে অন্ধকার হয়ে যায় না। লালচে আভায় ভরে ওঠে তার চেহারা। এর কারণ, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। লাল রশ্মি সহজে ছড়িয়ে না গিয়ে চাঁদে পৌঁছয়, আর নীল আলো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ফলে আকাশে ভেসে ওঠে গাঢ় লালচে চাঁদ, যাকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’।
সবচেয়ে বড় কথা, চন্দ্রগ্রহণ দেখতে আলাদা কোনও চশমা বা সুরক্ষা দরকার নেই। খালি চোখেই এই চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। শহরের আলোর ভিড় এড়িয়ে অন্ধকার জায়গা থেকে আকাশে তাকালেই ধরা দেবে প্রকৃতির এই বিস্ময়।
ভারতে সময় অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা থেকে শুরু হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকেও এই দৃশ্য চোখে পড়বে।আন্তর্জাতিক সময় (ইউটিসি) অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টে ২৫ মিনিটে শুরু হবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য। সেই সময় ভারতে রাত ৮টা ৫৮ মিনিট। এরপর ধাপে ধাপে চলতে চলতে গ্রহণ শেষ হবে আন্তর্জাতিক সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে, অর্থাৎ ভারতের ঘড়িতে তখন ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টো ২৫ মিনিট।
প্রায় ৮২ মিনিট ধরে চলবে এই পূর্ণগ্রাস, যা শেষ হবে রাত ১২টা ২২ মিনিটে। এই সময়টুকুই আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’।
ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের অধিকর্তা সন্দীপকুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদের লাল রূপ দেখার সুযোগ বিরল। তাঁর সংস্থা এ সময় হাজার হাজার ছবি তুলবে চাঁদের। তিনি আরও জানিয়েছেন, চাঁদের পৃষ্ঠে ক্রমাগত উল্কা পতন ঘটছে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় চাঁদের উজ্জ্বলতার কারণে তা চোখে ধরা পড়ে না। তবে পূর্ণগ্রাসের সময়ে যদি তা ধরা যায়, তাহলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।