
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 December 2024 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিঙ্গেল বেলস, এটি এমন একটি নাম, একটি সুর, যা ক্রিসমাস উদযাপনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বরফে ঢাকা প্রকৃতি, ঘণ্টার আওয়াজ, আর ছুটির আনন্দমুখর পরিবেশ—গানটি শুনলেই মনে হয় যেন আমরা একটি আনন্দদায়ক স্লেই রাইডে আছি। তবে জানেন কি? এই জনপ্রিয় গানটির জন্ম ক্রিসমাসের জন্য নয়! এর পিছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।
১৮৫৭ সালে আমেরিকান জেমস লর্ড পিয়ারপন্ট গানটি রচনা করেছিলেন। তখন এর নাম ছিল 'ওয়ান হর্স ওপেন স্লেই'। এটি প্রথম গাওয়া হয় সাভান্না, জর্জিয়ার একটি অনুষ্ঠানতে, যেখানে পিয়ারপন্ট থাকতেন। গানটি তৈরি হয়েছিল শীতকালীন স্লেই রেসিং উদযাপনের জন্য। গানটি আজকের দিনে ক্রিসমাসের সঙ্গে যুক্ত হলেও প্রথমে এটি ক্রিসমাস গান ছিল না। ঘণ্টার শব্দ বোঝাতে গানের লিরিক্সে 'জিংগল' শব্দটি যুক্ত করা হয়। তবে মজার বিষয়, এটি প্রথমে থ্যাংকসগিভিং-এর জন্য গাওয়া হয়েছিল।
যদিও শুরুতে গানটি থ্যাংকসগিভিং-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, সময়ের সঙ্গে এটি ক্রিসমাসের গান হিসেবে জনপ্রিয় হতে থাকে। এর সুর এবং লিরিক্স বরফে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্য ও উৎসবের আনন্দের কথা মনে করিয়ে দেয়। গানের কোরাস অংশ, বিশেষত 'জিংগল অল দ্য ওয়ে!', খুব দ্রুত শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুতে জিঙ্গেল বেলস ধীরে ধীরে ক্রিসমাসের গান হিসেবে প্রাধান্য পেতে থাকে। ঘণ্টার শব্দ এবং উচ্ছ্বল সুর গানটিকে আরও বেশি উৎসবমুখর করে তোলে। জিঙ্গেল বেলসের সুর ও লিরিক্স এতটাই আকর্ষণীয় যে এটি বিভিন্ন শিল্পী বিভিন্নভাবে গেয়েছেন। বিং ক্রসবি, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা এবং দ্য বিটলস-এর মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা এই গানের অসংখ্য সংস্করণ তৈরি করেছেন। জ্যাজ, পপ, রক—প্রায় সব ধরনের সংগীত ধারায় গানটি গাওয়া হয়েছে। এটি শুধু গান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অনেক জনপ্রিয় ক্রিসমাস চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
আজ জিঙ্গেল বেলস শুধুমাত্র একটি গান নয়, এটি ক্রিসমাসের আনন্দ, উৎসব এবং একতাবোধের প্রতীক। বছরের পর বছর, গানটি মানুষের মনে শীতের ছুটির আনন্দের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ছোটবেলা থেকে শুরু করে বড় হওয়া পর্যন্ত, জিঙ্গেল বেলস যেন আমাদের শৈশবের ক্রিসমাস উদযাপনকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। তাই, যখনই গানটি শোনা হয়, মনে হয় আমরা সবাই একসঙ্গে সেই বরফ ঢাকা পথে স্লেই রাইডে আছি, ঘণ্টার আওয়াজ আর হাসির মধুর সুরে মুগ্ধ হয়ে।