
শেষ আপডেট: 11 December 2023 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদে জল আছেই! জোর গলায় দাবি করেছেন মার্কিন ন্য়াভাল রিসার্চ ল্য়াবরেটরির (এনআরএল) বিজ্ঞানীরা। চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চাঁদে হাইড্রজেন আছে। এর থেকে অনুমান করা গেছে, তাঁদের পৃষ্ঠদেশে জল জমে আছে।
নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির (জেপিএল) বানানো ‘মুন মিনার্যালোজি ম্যাপার ইনস্ট্রুমেন্ট (এম-থ্রি)’ দিয়েই চাঁদে বরফ হয়ে থাকা জল ও বিভিন্ন খনিজের প্রথম হদিশ পেয়েছিল চন্দ্রযান-১। ২০০৮-এ। সেই সব ছবি আর তথ্যাদি বিশ্লেষণ করার পরেই দাবি করা হয়েছিল যে চাঁদে জল আছে। আর এখন ন্য়াভাল ল্যাবরেটরির অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞানী ডা. ক্যাথেরিন দাবি করেছেন, চাঁদের পৃষ্ঠদেশে পাথরের নীচে চন চন জল জমে আছে।
সৌরবায়ুর আয়নে থাকে হাইড্রজেন। চাঁদে যেহেতু বায়ুমণ্ডল নেই তাই সৌরবায়ুকে আটকানোর ঢালও নেই। অনবরত সৌরবায়ুর ধাক্কা সহ্য করতে হয় চাঁদকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সৌরবায়ু থেকেই হাইড্রজেন আসে চাঁদে। আর অক্সিজেন? বিজ্ঞানীদের দাবি, এর জন্য আমাদের নীলাভ গ্রহ পৃথিবীই দায়ী। পৃথিবীর খোয়ানো অক্সিজেনই পৌঁছেছে চাঁদে। পৃথিবীকে ঘিরে থাকা সুবিশাল চৌম্বক ক্ষেত্র ম্যাগনেটোস্ফিয়ার যেন ফুঁ দিয়ে সেই অক্সিজেন উড়িয়ে দিচ্ছে চাঁদের দিকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একবারে উপরের স্তর থেকে অক্সিজেন চলে যাচ্ছে ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের একটি অংশে। যার নাম ‘ম্যাগনেটোটেল’। গন্তব্য ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মাইল বা ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা চাঁদ আর তার আশপাশের মহাকাশ।

চাঁদের কোথায় জল আছে?
চাঁদে জল থাকার কথা নাসাও বলেছিল। নাসার সোফিয়া অর্থাৎ স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্র্যারেড অ্যাস্ট্রোনমি (SOFIA) একপ্রকার নিশ্চিত করেছে যে চাঁদের ক্লেভিয়াস গহ্বরে হাইড্রজেন ও অক্সিজেন মৌল জোট বেঁধে H2O জলের অণু তৈরি করেছে। চাঁদের পিঠে হাইড্রজেনের খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু এই হাইড্রজেন, অক্সিজেনের সঙ্গে কোন রাসায়নিক ফর্মুলায় জোট বেঁধেছে সেটা জানা যায়নি এতদিন। নাসা জানিয়েছে, ক্লেভিয়াস ক্রেটারে ১২ আউন্স মতো জল জমে আছে। চাঁদের মাটি ও ধূলিকণায় এক ঘনমিটার অবধি জায়গা জুড়ে সেই জলের অণু ছড়িয়ে আছে।
১৯৬৯ সালে নাসার অ্যাপোলো মিশনে জানা গিয়েছিল চাঁদের পিঠ একেবারে রুক্ষ, শুষ্ক। জলের ছিটেফোঁটাও থাকতে পারে না। পরবর্তীতে ‘নাসার লুনার ক্রেটার অবজারভেশন অ্যান্ড সেন্সিং স্যাটেলাইট’ জানান দিয়েছিল, শুষ্ক নয় চাঁদের পিঠ, বরং বরফ জমে আছে চাঁদের মেরুতে। এরপরে নাসার একাধিক চন্দ্র-অভিযানে সে প্রমাণ মিলেছে। ক্যাসিনি মিশন, ডিপ ইমপ্যাক্ট কমেট মিশনে মহাকাশবিজ্ঞানীরা একই কথা বলেছিলেন। ইসরোর প্রথম চন্দ্রযাত্রা তথা চন্দ্রযান-১ মিশন সফল না হলেও, মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেছিলেন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ জমে আছে সেটা ধরা পড়েছিল চন্দ্রযান-১ এর অরবিটারে। বিজ্ঞানীরা এও দাবি করেছিলেন, চাঁদের ম্যান্টলে যে জল আছে তা নাকি তরল অবস্থাতেই আছে। সেই জল শুধু তুলতে পারলেই বিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন মাইলফলক তৈরি হবে। চাঁদের পিঠে থাকার ইচ্ছাটাও বাস্তব হবে মহাকাশচারীদের।