
শেষ আপডেট: 12 February 2024 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফের নীচে কুলকুল করে বইছে মহাসাগর। যাকে একসময় ‘ডেথ স্টার’ বলেছিল নাসা, তারই অন্দরে প্রাণের বিকাশ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই চাঁদ মৃত নয়, বরং জীবন্ত। এর কঠিন পাথুরে মাটি, বরফাচ্ছন্ন পৃষ্ঠদেশের নীচে অন্তঃসলিলা হয়ে বয়ে চলেছে বিশাল মহাসাগর। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে তার ব্যপ্তি। বরফের কঠিন খোলস যদি খসে যায়, তাহলেই জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে সেই সাগর।
পৃথিবীর আত্মজা চাঁদ নয় কিন্তু। এই চাঁদ শনির। আমাদের সৌরমণ্ডলের গ্রহ-উপগ্রহদের মধ্যে শনি খুবই রহস্যময়। এর উপগ্রহের সংখ্যাও কম নয়। শনির নয় নয় করেও ১৪৫টা উপগ্রহ থুরি চাঁদ। তার মধ্যেই একটি হল মিমাস। এই চাঁদের সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায়নি এতদিন। রুক্ষ, বরফে ঢাকা, এবড়োখেবড়ো পাথুরে গহ্বরে ভরা মিমাসকে নিয়ে এত বেশি মাথা ঘামানো হয়নি। কিন্তু নাসার ক্যাসিনি ভিযানে শনি গ্রহ ও এর বলয়ে ঘুরপাক খেতে থাকা ১৪৬টি চাঁদের কয়েকটিকে কাছ থেকে দেখার পরে সব ধারণা বদলে যায়। শনির এনসেলাডাস উপগ্রহ নিয়ে যখন হইচই হচ্ছে, তখন আড়ালেই ছিল মিমাস। এবার স্যাটেলাইটের নজর পড়েছে মিমাসের দিকে। আর কাছ থেকে মিমাসকে দেখেই চমকে উঠেছেন নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা।
১৭৮৯ সালে ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ উইলিয়াম হার্শেল শনি গ্রহের পাশে একটি ছোট্ট বিন্দুর মতো মিমাসকে আবিষ্কার করেন। ১৯৮০ সালে নাসার স্যাটেলাইট ভয়েজার প্রথমবার মহাকাশ থেকে মিমাসের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠায়। তারপর থেকে মিমাস কিছুটা অন্তরালেই ছিল। মিমাসের বুকে বড় বড় রুক্ষ গহ্বর দেখে একেও বাকিদের মতো নির্জীব উপগ্রহ বলেই মনে করেছিল নাসা। তাই নাম হয়েছিল ‘ডেথ স্টার’। কিন্তু এখন ধারণা বদেলছে।
নাসার বিজ্ঞানী ভ্যালেরি লেইনি বলছেন, "সৌরজগতের যেখানে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে বলে কল্পনাও করিনি আমরা, সেখানেই মহাসাগর থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সত্যিই বিস্ময়কর।" এই আবিষ্কারের পরে মনে করা হচ্ছে মিমাসেও বাসযোগ্য পরিবেশ থাকলেও খাকতে পারে। সেখানে প্রাণের বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। মিমাসের বরফপৃষ্ঠ থেকে ১২-১৯ মাইল নীচে রয়েছে মহাসাগর। আশ্চর্যজনকভাবে তা অন্তঃসলিলা হয়েই বয়ে চলেছে। এই সাগরের জলে আণুবীক্ষনিক জীব জন্মাতে পারে কিনা তার খোঁজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শনির উপগ্রহ খোঁজার জন্য শিফ্ট অ্যান্ড স্ট্যাক কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বলয়ঘেরা গ্রহটির চারপাশের পরিমণ্ডলে আরও নিবিড় ভাবে চোখ রেখেছেন গবেষকেরা। শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসেও জলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনির উপগ্রহ ‘এনসেলাডাস’-এর দক্ষিণ মেরু থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বেরিয়ে আসার ছবি তুলেছে ‘ক্যাসিনি’ মহাকাশযান। তা অনেকটা ‘জলের ফোয়ারা’র মতো উঠে আসছে। যার মধ্যে মিশে থাকতে দেখা গিয়েছে টুকরো টুকরো বরফের কণা। অন্দরে তরল জলের মহাসাগর না-থাকলে, বিপুল পরিমাণে ওই জলীয় বাষ্প বেরিয়ে আসা সম্ভব হত না।