দিল্লিতে মদের চোরাচালানে ব্যবহার হচ্ছিল উট! গাড়ির বদলে মরুভূমির এই প্রাণী দিয়ে মদ পাচারের চেষ্টা করছিল এক চক্র। দিল্লি পুলিশ উদ্ধার করেছে তিনটি উট এবং আটক করেছে পাঁচজনকে।

শেষ আপডেট: 13 September 2025 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উট মানেই রাজস্থানের মরুপ্রান্তরের ছবি চোখে ভেসে ওঠে। কিন্তু সেই মরুভূমির প্রাণী দিল্লির বুকে জড়িয়ে গেল মদের চোরাচালানের সঙ্গে। দক্ষিণ দিল্লির সঙ্গম বিহারের জঙ্গল ঘেঁষা পথে উটের পিঠে করে মদ পাচার করছিল এক চক্র। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি উট উদ্ধার করল দিল্লি পুলিশ। একইসঙ্গে ধরা পড়েছে পাচারচক্রের পাঁচ সদস্য।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ অঙ্কিত চৌহান জানান, চোরা কারবারিরা ইচ্ছে করেই উট বেছে নিয়েছিল। তাঁর কথায়, 'চারচাকা বা দু’চাকা গাড়ি সহজেই চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু উট শব্দ করে না, রাস্তা লাগে না। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে একেবারে নিরিবিলিতে হেঁটে যাওয়া যায়।' ফলে পুলিশের চোখ এড়িয়ে দিল্লিতে মদ ঢোকানোই ছিল পাচারকারীদের কৌশল।
দক্ষিণ জেলার অ্যান্টি অটো থেফট স্কোয়াড (AATS) বিশেষ সূত্রের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালায়। রাত বাড়তেই সঙ্গমবিহারের জঙ্গলে সন্দেহজনক কার্টন বোঝাই উট ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পুলিশের জালে ধরা পড়ে পাচারকারীরা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪২ কার্টন ভর্তি ১,৯৯০ কোয়ার্টার বোতল মদ এবং ২৪ বোতল বিয়ার।
ধৃতদের নাম বিনোদ ভাদানা (৪৮), সুনীল ভাদানা (৩৮), রাহুল (২২), অজয় (২৫) এবং সৌরভ (২৬)। পুলিশ জানিয়েছে, উটগুলোর মালিক বিনোদ এবং সুনীলই।
অঙ্কিত চৌহান জানান, বাড়তি নজরদারির জেরে দিল্লির সীমান্ত দিয়ে গাড়িতে করে মদ আনা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই চক্রটি উট ব্যবহার শুরু করে। তাঁর কথায়, 'চেকপোস্টে গাড়ি সহজেই আটকানো যায়। কিন্তু উট বনপথ ধরে নিরিবিলিতে ঢুকে পড়তে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে, এটা ইচ্ছে করেই করা হয়েছিল।'
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া উটগুলো দ্রুত পশু কল্যাণ দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই অভিনব কৌশল ভেস্তে যাওয়ায় এখন পাচারকারীদের জালে আরও কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।