রাজস্থানের তিন ভাইয়ের জীবনে কাঁটাতার হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় বাধা। পাকিস্তানে থাকা বোনকে ১২ বছর ধরে দেখার অপেক্ষায় কাটছে তাঁদের ভাইফোঁটা।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 23 October 2025 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ভাইফোঁটা। ভাইদের দীর্ঘায়ু, সুস্থ জীবন ও সাফল্য চেয়ে ঘরে ঘরে ফোঁটা দেওয়া চলছে সকাল থেকে। বোনেরা কখন আসবে, সকলে মিলে আনন্দ হবে, সেদিকে তাকিয়ে অনেকেই। বহু মানুষের আজ আনন্দের শেষ নেই, লাইন দিয়ে রীতিমতো স্লট বুক করে ফোঁটা নেওয়া চলছে, কারও আবার মনের কোণে জমে থাকা স্মৃতি কত কী উস্কে দিচ্ছে বা আজ হল তাঁর অন্যতম দুঃখের দিন।
এমনই দুর্ভাগ্য দাদা রণ সিং, হাকাম সিং ও গোকাল সিং-য়ের। একমাত্র বোনের সঙ্গে মনের দূরত্ব না থাকলেও শারীরিক দূরত্ব অনেক। তাঁদের আলাদা করেছে কাঁটাতার আর কিছু নিয়মকানন। দাদাদের কাছে আসতে চেয়েও বার বার ব্যর্থ হন। আর প্রায় ১২ বছর ধরে প্রতি রাখি ও ভাইফোঁটা 'অপেক্ষা' করে কেটে যায় চারজনের। আশপাশের বাড়ি থেকে উলুধ্বনি আসে, কাঁসার-ঘণ্টা বাজে কিন্তু তাঁদের দূরত্ব কমে না।
রণ সিং ওই দাদাদের বড়জন। চার ভাইয়ের একমাত্র বোন লাহারি কানওয়ার থাকেন পাকিস্তানের উমরকোটে। বিয়ের পর লাহারি সীমান্তের ওপারে চলে যান। স্বভাবতই বাড়তে থাকে দূরত্ব, শুধু ভূগোলের নয়, রাজনীতি ও নথিপত্রের জটিলতারও। প্রতি বছর এই সব দিনে রণ তাঁর দুই ভাই বসে থাকেন আশায়। কিন্তু সেই আশা সীমান্তের প্রাচীরের গায়ে থেমে যায়। তাঁদের আরেক ভাই জেঠু সিং এখনও রয়েছেন পাকিস্তানে তাই শুধুমাত্র তিনি এই শোকের ভাগিদার নন।
বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, রণ সিং মূলত পাকিস্তানের উমরকোটের বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি তাঁর বাবা সাওয়াই সিং ও পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে আসেন এবং বাড়মেরের ইন্দিরা নগরে বসবাস শুরু করেন। বোন লাহারির সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল সেই যাত্রার আগেই। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১২ বছর। প্রতি বছর ভাইফোঁটার খালি কপালের দিকে তাকিয়ে চোখের জল লুকোন রণ সিং।
একবার খুব কাছাকাছি এসেছিল পুনর্মিলনের সম্ভাবনা। লাহার ভিসা পেয়েছিলেন, কিন্তু পাহেলগাম হামলার পর তা বাতিল হয়ে যায়। তারপর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্তের বিধিনিষেধ- সব মিলিয়ে আর দেখা হয়নি তাঁদের।
রণ সিংয়ের পরিবার এখন রাজস্থানে একসঙ্গে থাকলেও, বোনের অনুপস্থিতিতে কোনও উৎসবই পূর্ণতা পায় না। তিনি বলেন, '১২ বছর ধরে আমার হাতে রাখি পড়েনি। আমি শুধু আশা করি, যদি আবার থর এক্সপ্রেস চালু হয়, তাহলে হয়তো এই দূরত্বটা মুছে যাবে। রাখির বন্ধন কখনও ভাঙে না, যত দূরত্বই থাকুক না কেন।'
এমন বিশেষ দিনে তাঁদের একটাই চাওয়া, বোন যেন থাকে দুধে ভাতে। আর তাঁদের যেন প্রাচীর সরিয়ে দ্রুত দেখা হয়।