Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

সংজ্ঞা বদলে পাহাড় 'বাঁচানো' বনাম উন্নয়ন, এই টানাপড়েনে কোন দিকে যাচ্ছে আরাবল্লীর ভবিষ্যৎ?

সংজ্ঞা বদলে আরাবল্লীতে উন্নয়ন আর পরিবেশ রক্ষার সংঘাত। এই টানাপোড়েনে দেশের প্রাচীনতম পর্বতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, সে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

সংজ্ঞা বদলে পাহাড় 'বাঁচানো' বনাম উন্নয়ন, এই টানাপড়েনে কোন দিকে যাচ্ছে আরাবল্লীর ভবিষ্যৎ?

আরাবল্লী (সংগৃহীত ছবি)

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 31 December 2025 10:34

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ভারতের পরিবেশগত মেরুদণ্ড বলা হয় আরাবল্লী পর্বতকে। বিশ্বের প্রাচীনতম পর্বতমালাগুলির অন্যতম। শুধু পাহাড় নয়, এটা ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার, মরুকরণের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল, উত্তর ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রক। দিল্লি–এনসিআরের বাতাস থেকে রাজস্থান–হরিয়ানার কৃষিভূমি-সব কিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই পাহাড়। ঠিক সেই আরাবল্লীকে ঘিরেই এখন আইনি ও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। সরকার পাহাড়ের ‘সংজ্ঞা’ বদলেছে। আর সেই বদল ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের নামে কি আরাবল্লীকে খনির জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে?

সংজ্ঞা বদল কেন, আর আপত্তির উৎস কোথায়?

সরকারি যুক্তি শুনতে সরল। রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাত ও দিল্লি-চার রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা আরাবল্লীকে চার রকমভাবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছিল। কোথাও পাহাড়, কোথাও উঁচু জমি, কোথাও আবার বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত। এই অসামঞ্জস্যের সুযোগ নিয়েই অবৈধ খনন চলেছে-এমনই সরকারের দাবি। সেই ‘বিভ্রান্তি’ কাটাতে কেন্দ্র একটি একক সংজ্ঞা প্রস্তাব করে- আশপাশের জমির তুলনায় ১০০ মিটার বা তার বেশি উঁচু ভূমিরূপই আরাবল্লীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সমস্যা শুরু এখানেই। পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীদের মতে, এই সংজ্ঞা কার্যকর হলে আরাবল্লীর প্রায় ৯১ শতাংশ এলাকা-যা ঢেউখেলানো, ধীরে উঁচু–নীচু—সংজ্ঞার বাইরে পড়ে যাবে। অর্থাৎ আইনত সেই অঞ্চলগুলিতে খননের পথ খুলে যাবে। সরকার অবশ্য এই ৯১ শতাংশ সংখ্যাটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে (যা Forest Survey of India–র একটি সমীক্ষা থেকে এসেছে বলে দাবি) কিন্তু বিকল্প কোনও পরিসংখ্যান এখনও সামনে আনেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কতটা এলাকা খননের জন্য উন্মুক্ত হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

২০ নভেম্বর দেশের শীর্ষ আলালত পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞা গ্রহণ করে। আর তার পর থেকে শুরু প্রবল প্রতিবাদ।

কেন আরাবল্লী ‘স্পর্শকাতর’: পরিবেশগত ঝুঁকির অঙ্ক

আরাবল্লীর গুরুত্ব শুধু পাহাড় হিসেবে নয়। এটি উত্তর ভারতের একটি প্রাকৃতিক ‘বাফার’। পশ্চিমের থর মরুভূমির বিস্তার ঠেকাতে এই পর্বতমালা কার্যত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ভূগর্ভস্থ জল, নদীর উৎস রক্ষা, জীববৈচিত্র্য-সবই নির্ভরশীত এই পাহাড়ের উপর। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ব্যাপক খনন হলে দিল্লি–এনসিআর অঞ্চলের বায়ুদূষণ আরও ভয়াবহ আকার নেবে। ইতিমধ্যেই যেখানে শীত এলেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী, সেখানে আরাবল্লী ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষের বাঁচা দায় হয়ে যেতে পারে।

বাস্তব উদাহরণও আছে। হরিয়ানার চরখি দাদরি ও ভিওয়ানিতে বৈধ খনন গত এক দশকে পাহাড় প্রায় সমতল করে দিয়েছে। তার ফল—মহেন্দ্রগড়ে তীব্র জলসংকট। রাজস্থান ও গুজরাতে খননের জেরে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমেছে, শুকিয়ে গেছে সোটারাভি ও কাসাবতীর মতো নদী। তৈরি হয়েছে ‘হোয়াইট হিলস’খনিজ বর্জ্যের সাদা পাহাড়, যেখানে আর কোনও গাছ জন্মায় না।

এটা শুধু পরিবেশের গল্প নয়, মানুষের গল্পও

বিস্ফোরণের দুর্ঘটনা, সিলিকোসিস, চর্মরোগ, ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া, আরাবল্লীজুড়ে বসবাসকারী গ্রামগুলির দৈনন্দিন বাস্তবতা ক্রমশ নরকসম হয়ে উঠছে।

সুপ্রিম কোর্টের ইউ-টার্ন: স্থগিতাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবল জনমত ও বৈজ্ঞানিক মহলের চাপের মুখে অবশেষে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নিজেই তাদের ২০ নভেম্বরের আদেশ স্থগিত রাখে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, নতুন কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি ফের খতিয়ে দেখা হবে। আদালতের ভাষায়, ‘কমিটির সুপারিশ ও আদালতের আগের নির্দেশ আপাতত কার্যকর থাকবে না।’

এই স্থগিতাদেশের তাৎপর্য বিশাল। কারণ, এর ফলে আপাতত আরাবল্লীতে নতুন সংজ্ঞার ভিত্তিতে খননের দরজা বন্ধ থাকছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পরিবেশগত ভারসাম্য না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আগেও বহুবার সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে আরাবল্লীতে ‘সাসটেইনেবল মাইনিং’ নিশ্চিত করতে। এবারও সেই লড়াইয়েরই আরেক অধ্যায়।

রাজনীতি, উন্নয়ন আর ভবিষ্যতের প্রশ্ন

এই ইস্যু রাজনৈতিক রং-ও নিয়েছে। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী সংজ্ঞা বদলকে সরাসরি ‘আরাবল্লীর মৃত্যুদণ্ড’ বলে আক্রমণ করেন। প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ এই সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ‘মারাত্মক প্রভাবশালী’ বলে উল্লেখ করেন।

সরকারের অবশ্য পাল্টা যুক্তি, দেশের কৌশলগত খনিজ সম্পদ (তামা, রুপো, সোনা, টাংস্টেন, লিথিয়াম, রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস) তুলতে নিয়ন্ত্রিত খনন প্রয়োজন। প্রশ্নটা তাই দ্বন্দ্বের, 'উন্নয়ন বনাম সংরক্ষণ'।

আসল সমস্যা, পরিবেশ আইন নিয়ে। অনেকেই বলছেন, কাগজে–কলমে নিয়ম আছে, কিন্তু বাস্তবে অবৈধ খনন রুখতে প্রশাসনিক সদিচ্ছা, নজরদারি ও শাস্তির অভাব স্পষ্ট। যত দিন না সেই ফাঁক ভরাট হচ্ছে, তত দিন সংজ্ঞা বদল শুধু নতুন বিপদের রাস্তা খুলবে।

এখন ভারতের উন্নয়ন–দর্শন কি প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে এগোবে, নাকি স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনবে? সেটাই দেখার।


```