Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ট্রেনের খবর হলেই ছোটেন রেললাইনে! ৩৪ বছর ধরে 'বেপরোয়া'দের প্রাণ বাঁচানোর কারিগর এই ডাবওয়ালা

হাওড়ার রামরাজাতলার রেলস্টেশনে ওভারব্রিজ থাকলেও তাড়াহুড়োর কারণে অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। তাই ট্রেনের টাইম হলেই লাঠি হাতে চলে আসেন লক্ষ্মীদা। নিজের বেচাকেনা ফেলে ছুটে যান খালি পায়েই।

ট্রেনের খবর হলেই ছোটেন রেললাইনে! ৩৪ বছর ধরে 'বেপরোয়া'দের প্রাণ বাঁচানোর কারিগর এই ডাবওয়ালা

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল

শেষ আপডেট: 19 June 2025 17:11

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেললাইনে অবাধ যাতায়াত সাধারণ মানুষের। ট্রেন আসার ঘোষণা শুনলেও ভ্রূক্ষেপ করেন না অনেকেই। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকেই। তাই সেই সমস্ত 'বেপরোয়া' মানুষদের প্রাণ বাঁচাতে নিজেই এগিয়ে এসেছেন লক্ষ্মীদা। ট্রেনের সময় হলেই লাঠি হাতে চলে আসেন রেললাইনের কাছে (Ramrajatala Station Story)। পথচারীদের সরিয়ে দেন। পেশায় একজন ডাব বিক্রেতা (Green Coconut Seller) এই ব্যক্তি, তাঁর তৎপরতায় গত ৩৪ বছরে একজনও রেললাইনে কাটা পড়েনি।

হাওড়ার (Howrah) রামরাজাতলার রেলস্টেশনে ওভারব্রিজ থাকলেও তাড়াহুড়োর কারণে অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। তাই ট্রেনের টাইম হলেই লাঠি হাতে চলে আসেন লক্ষ্মীদা। নিজের বেচাকেনা ফেলে ছুটে যান খালি পায়েই। এক-দু'দিন নয়, ৩৪ বছর ধরে একটানা এই কাজ করছেন তিনি। নেপথ্যে রয়েছে এক করুণ কাহিনি।

রামরাজাতলা স্টেশনের (Ramrajatala Station) পাশেই একটি ছোট দোকানে ডাব বেচেন লক্ষ্মীদা। জানা যায়, ১৯৯১ সালের একদিন নিজের দোকানেই ছিলেন। হঠাৎ অনেক মানুষের চিৎকার শুনতে পান। ছুটে গিয়ে দেখেন, রেললাইনে রক্তারক্তি কাণ্ড। একসঙ্গে ট্রেনে কাটা পড়েছিলেন ২৪ জন। একটু অসাবধান হলেই রামরাজাতলার স্টেশনে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ৩৪ বছর আগের সেই দুর্ঘটনা তারই প্রমাণ। ট্রেন আসার খবর শুনেই রেললাইন পারাপার করছিলেন যাত্রীরা। আর তাতেই ট্রেনের চাকায় পিষে মৃত্যু হল বহুজনের।

দুর্ঘটনার (Rail Accident) স্মৃতি এখনও দগদগে। ওই ব্যক্তি বলেন, 'দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন গ্যালোপিন লোকালে ২৪ জন একসঙ্গে কাটা পড়ে। সেটা আমার মনে নাড়া দিয়েছিল। সেই থেকেই সব কাজ ফেলে রেখে মানুষকে বাঁচাই। আর গেটম্যানদের একটু সাহায্য করি।'  পথচারীদের প্রাণ বাঁচানোর দায়িত্ব নিজে কাঁধে তুলে নিয়েছেন লক্ষ্মীদা। এরজন্য কোনও পারিশ্রমিক বা বেতন পান না, পুরোটাই করেন মানবিকতার খাতিরে।

এই মানুষটির বাড়ি উলুবেড়িয়ায়। প্রতিদিন ভোর পাঁচটার ট্রেনে রামরাজাতলায় আসেন। দুপুর একটা পর্যন্ত ডাব বিক্রি করে বাড়ি ফেরেন। আর তার মাঝেই এই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। মুখস্থ করে ফেলেছেন সমস্ত ট্রেনের নাম-সময়। লক্ষ্মীদার কথায়, 'যতক্ষণ আমি এখানে থাকব, আমার এই এলাকায় কিছু হতে দেব না।' তার এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।


```