
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন মারিকা নীহোরি
শেষ আপডেট: 18 March 2025 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশ থেকে বা দেশের কোনও বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষায় ডিগ্রি পেলে ঝকঝকে ভবিষ্যৎ। মনের মতো চাকরি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। এমনটাই মনে করেন বেশিরভাগ মানুষ, এই স্বপ্ন দেখেই বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠাভরে পিএইচডি (PhD) করেন উজ্জ্বল ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক কী? সত্যিই কি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি থাকলেই চাকরির পথ মসৃণ?
সম্প্রতি, ইনস্টা-পাড়ায় নেটিজেনদের নজরে এসেছে ডক্টর মারিকা নীহোরির একটি পোস্ট। অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা মারিকা আরও হাজারো পড়ুয়ার মতোই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge) থেকে ফিজিক্সে পিএইচডি শুরু করেন। যথাসময়ে শেষও করেন পিএইচডি, ডক্টরেট ডিগ্রিও পান।
গত বছর অক্টোবরে সেই আনন্দ ইনস্টাগ্রামেই ভাগ করে নিয়েছিলেন সকলের সঙ্গে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর কেমব্রিজ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া মুখের কথা তো নয়! উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ যে দরজায় কড়া নাড়ছে, সেটাও সকলেই মনে করেছিলেন।
কিন্তু বাধ সাধল চাকরির বাজারের (Job market) বর্তমান পরিস্থিতি। যেখানে মারিকা ভেবেছিলেন, তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে মনের মতো একঝাঁক চাকরির প্রস্তাব, বাস্তবে মোটেও তেমনটা হয়নি। তাঁর মতো মেধাবী পড়ুয়ারও চাকরির পথে বারবার এল রিজেকশন (Rejection)। দু’টো-পাঁচটা নয়, পরপর ৭০ বার আবেদন খারিজ হয়ে যায় তাঁর!
তারপরেই তাঁর এই লাগাতার প্রত্যাখ্যানের কাহিনি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন তিনি। মারিকা লেখেন, 'আমি ভাবতে পারিনি চাকরি খোঁজা এতটা কঠিন হবে। বুঝতে পারিনি, যে আমাকে কেরিয়ার ব্রেকের (Career break) কথাও ভাবতে হতে পারে। আমি ভেবেছিলাম পিএইচডির পর আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও একটা স্বচ্ছতা আসবে। কিন্তু একদিকে ভালই হয়েছে এই সময়টা আমি পেয়েছি।’
View this post on Instagram
ওই পোস্টে তিনি বিস্তারিত লিখেছেন তাঁর পিএইচডি (PhD) পরবর্তী জীবনের ওঠাপড়া নিয়ে। যে সময়টায় তিনি এই দোটানাতে ভুগছিলেন, তিনি অনেকবার ভেবে দেখার চেষ্টা করেছেন যে তাঁর যেসব বন্ধুবান্ধব তাঁর মতো এই কেরিয়ার বেছে নেননি, তাঁরা এখন কী করছেন, কতটা সফল এই মুহূর্তে। বেশিরভাগই নিজেদের জীবনে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। এইসব দেখে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে, কী করবেন এরপর, পরবর্তী পরিকল্পনাই বা কী হতে পারে! এই চিন্তা থেকেই লন্ডনের মতো ঝলমলে শহরে চরম একাকীত্বের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।
কিন্তু এত খারাপের মধ্যেও, ইতিবাচক দিকটাই খুঁজে পেয়েছেন মারিকা। তিনি মনে করেন, নিজেকে এই সময়টা যে দিতে পেরেছেন, সবার সেই সুযোগ থাকে না। তাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও গুছিয়ে নিতে পেরেছেন নিজেকে। অবশেষে একটা বায়োটেক স্টার্টআপে যোগ দিয়েছেন তিনি।
ডক্টর মারিকার এই আবেগঘন পোস্ট সবার মন কেড়েছে। অনেকেই নিজেদের খুঁজে পেয়েছেন এই পোস্টের মধ্যে। একজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট ডিগ্রিধারীর চাকরি পাওয়ার পথে যদি এত প্রতিকূলতা আসতে পারে, তাহলে চাকরির বাজারের আসল অবস্থা কী, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, মারিকা কি ওভার কোয়ালিফায়েড? তাঁর উচ্চশিক্ষার কারণেই কি বারবার বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যাখান? উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত মারিকা যে নিজের মনের মতো কাজ পেয়েছেন, তাতেই অভিনন্দন জানিয়েছে নেট-পাড়া।