চরম রক্ষণশীল, সংস্কারপন্থী, মধ্যযুগে পড়ে থাকা লোকজন সম্প্রতি স্বামী অনিরুদ্ধাচার্যর বক্তব্যকে সমর্থন করে নারী-কয়েদের পক্ষে পতাকা নেড়েছেন। আবার কেউ এ ধরনের বাবা-মায়ের সমালোচনা করে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছেন।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেয়ের উপর নজর রাখতে গোয়েন্দা নিয়োগ বাবা-মায়ের। একটি ভিডিওয় নিজের মেয়ের উপর সন্দেহপ্রবণ বাবা-মায়ের এই কীর্তিতে সাড়া পড়ে গিয়েছে নেট জগতে। চরম রক্ষণশীল, সংস্কারপন্থী, মধ্যযুগে পড়ে থাকা লোকজন সম্প্রতি স্বামী অনিরুদ্ধাচার্যর বক্তব্যকে সমর্থন করে নারী-কয়েদের পক্ষে পতাকা নেড়েছেন। আবার কেউ এ ধরনের বাবা-মায়ের সমালোচনা করে যাচ্ছেতাই গালমন্দ করেছেন।
ভিডিও ক্লিপটি হল তানিয়া পুরী নামে এক প্রাইভেট ডিটেকটিভের। ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে তাঁকে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে দেখা গিয়েছে। তারপরেই ঘনিয়ে উঠেছে চরম বিতর্ক। তানিয়াকে বলতে শোনা গিয়েছে, কীভাবে এক দম্পতি তাঁদের মেয়ের গোপন ছেলে বন্ধুদের বা সোজা কথায় প্রেমিকের বিষয়ে জানতে বেসরকারি গোয়েন্দা নিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের সন্দেহ ছিল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেয়ের কোনও প্রেমিক থাকতে পারে। তাই তাঁর উপর নজর রাখতে বেসরকারি গোয়েন্দা ভাড়া করেছিলেন তাঁরা।
একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তানিয়া গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ওই মেয়ের উপর গোপনে নজর রাখতে তাঁর কোম্পানিকে ভাড়া করেন এক দম্পতি। কিছুদিন ধরে তাঁদের লোকজন মেয়েটির অজান্তে তাঁর পিছন পিছন ঘোরে। কিন্তু, অস্বাভাবিক কিছুই লক্ষ্য করা যায়নি।
তানিয়া বলেন, তবে একদিন দেখা যায়, মেয়েটি জিটিবি নগর বা গুরু তেগবাহাদুর নগরের দিকে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি এমন একটি জায়গায় পৌঁছন যেখানে যৌনপাড়া ও যৌনকর্মীরা বাস করেন। গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন (সম্ভবত প্রমাণও সংগ্রহ করেন) যে, মেয়েটি দামি জামাকাপড় কেনা, হাতখরচ ও বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ের জন্য অতিরিক্ত রোজগারের আশায় এই পথ বেছে নিয়েছেন, বলেন তানিয়া পুরী।
এই পডকাস্ট ইন্টারভিউ দেখেই সাড়া পড়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, স্বামী অনিরুদ্ধাচার্যই ঠিক কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য, এক গুরু বলে দাবি করা অনিরুদ্ধাচার্য সম্প্রতি বলেন, ২৫ বছর বয়স হয়ে গেলে কোনও যুবতীর মধ্যে নৈতিকতা থাকে না। এককথায় তারা আর কুমারী থাকে না। ধর্মীয় তাত্ত্বিকের দাবি, মেয়েদের ১৪ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে তারা শ্বশুরঘরে মানিয়ে নিতে পারে সহজে।
যদিও অধিকাংশের মত, এ ধরনের মন্তব্য অপমানজনক। বহু লোক বাবা-মায়ের প্রবল নিন্দা করেছেন ডিটেকটিভ ভাড়া করার কারণে। একজন লিখেছেন, বাবা-মা মেয়ের উপর নজর রাখতে গোয়েন্দা লাগাতে পারেন। কিন্তু, বড় মেয়েকে উপযুক্ত হাতখরচ দিতে পারেন না? একজন ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আরেকজন লিখেছেন, ধোঁয়াশা রয়েছে...পরিবারটি এতই প্রাচীনপন্থী যে মেয়ের প্রেম করায় আপত্তি রয়েছে। তাকে হাল ফ্যাশনের পোশাক কেনা কিংবা আনন্দ করার জন্য হাতে টাকা দিতে পারে না। তারাই আবার বেসরকারি গোয়েন্দা লাগিয়ে মেয়ের কাজকম্ম জানছে গোপনে। আরেকজন লিখেছেন, এটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ। কারও অনুমতি ছাড়া তার পিছু ধাওয়া করা স্বাধীনতায় কাঁচি চালানোর শামিল।