
শেষ আপডেট: 23 January 2024 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের বুকে ল্যান্ডার বিক্রম কি আর জাগবে না?
চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার বিক্রমকে ডাক পাঠাল নাসার স্পেসক্রাফ্ট। চাঁদের চারপাশে চক্কর কাটছে নাসার এলআরও অরবিটার। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মানজিনাস গহ্বরের কাছে চন্দ্রযানের বিক্রমকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছে সে। ল্যান্ডারের থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার দূরে আছে এলআরও। নাসা জানাচ্ছে, এই এলআরও-তে আছে ছোট্ট রিফ্লেকটর যা দিয়ে বিক্রমের গায়ে লেসার আলো ফেলা হচ্ছে। বিক্রমের সিস্টেমে ‘পিং’ করার চেষ্টাও করছে নাসার এলআরও। বার বার বিক্রমের গায়ে লেসার আলো ফেলে ডাকাডাকি করছে নাসার লুনার অরবিটার।
ইসরো চন্দ্রযান-৩-এর দ্বিতীয় ইনিংসের যে স্বপ্ন দেখছিল, তা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। চাঁদে নিকষ কালো রাত নেমেছে। ঘুরঘুট্টি আঁধারে হাড়হিম ঠান্ডায় একেবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে বিক্রম-প্রজ্ঞান। চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার ও রোভারকে আর জাগানো সম্ভব নয় বলেই জানিয়ে দিয়েছে ইসরো। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের পর ১৪ দিন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছিল ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান। এর পর স্লিপ মোড রাখার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানের সঙ্গে। তারপর এখন নাসার অরবিটার চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে করতে বিক্রমকে দেখতে পেয়েই ডাকাডাকি শুরু করেছে।
নাসা জানাচ্ছে, হাই রেজোলিউশন ক্যামেরা ও সেন্সর আছে এই অরবিটারের। আকারে ছোট হলেও এই অরবিটার ভীষণই দক্ষ। দূর থেকেই ভারতের চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডারকে চিনতে পেরেছে সে। তাই বার বার সিগন্যাল পাঠিয়ে তার ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করছে। ল্যান্ডারের গায়ে লেসার রশ্মি ফেলছে। বিক্রমের যন্ত্রপাতিকে অ্যাকটিভ করা যায় কিনা সে চেষ্টা চলছে।
রাত গভীর হলেই চাঁদে হানা দিচ্ছে ধূমকেতুরা। তাদের দাপটে চাঁদের ধুলো বা রেগোলিথও উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আমাদের অনেক রকমের ঝড়, ঝাপটার হাত থেকে বাঁচায়। সূর্যের করোনা বা বায়ুমণ্ডল থেকে ধেয়ে আসে সৌরবায়ু, সৌরঝড়, করোনাল মাস ইজেকশানের মতো ভয়ঙ্কর সব শত্রুরা। বায়ুমণ্ডল না থাকলে যাদের দাপটে মানুষের টিকে থাকা কোনওভাবেই সম্ভব হত না। মহাজাগতিক শত্রুদের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচায় শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের আবরণীও। চাঁদে বায়ুমণ্ডল বা চৌম্বক ক্ষেত্র কিছুই নেই। তাই উল্কা, ধূমকেতু বা মহাজাগতিক রশ্মিরা চাঁদের মাটিতে সরাসরি হামলা চালায়।
নাসা জানাচ্ছে, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি বা অন্য কোনও মহাজাগতিক রশ্মি চাঁদের মাটিতে সরাসরি আছড়ে পড়ার সময় সূক্ষাতিসূক্ষ ধূলিকণাগুলিকে আঘাত করে। ফলে এগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি হয়। গরম হলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য ধূলিকণাগুলো তড়িৎ ঋণাত্মক কণা বা ইলেকট্রন ছাড়তে থাকে। তাপমাত্রার ফারাক এবং মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে বিরাট এলাকা জুড়ে ধুলোর ঝড় শুরু হয়। এমনই প্রতিকূল পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে ঘুমন্ত বিক্রম ও প্রজ্ঞান। তাদের ঘুম ভাঙানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে নাসার ছোট্ট অরবিটার।