
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কম বাজেটে আরামদায়ক জার্নি (Journey) চাইলে অনেকেই ট্রেনের (Train) কথা ভাবেন। যখন অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে, তখন আগে খুঁজে দেখতে হবে গন্তব্যের সেই ট্রেনে টিকিট (Train ticket) আছে কিনা। অনেকের কাছে সেই টিকিটের দামও বেশি মনে হতে পারে। আবার টিকিট না কাটলে দিতে হতে পারে ফাইন।
কিন্তু যদি এমন হতো, ট্রেনে করে গন্তব্যে পৌঁছনোও গেল, টিকিটের দামও দিতে হল না, আবার ফাইনের কোনও ভয়ও নেই, তাহলে কী ভালই না হতো! তবে এমনটা কি আদৌ সম্ভব? ব্রিটেনের এড ওয়াইজ প্রমাণ করেছেন, দিব্য সম্ভব।
জানা যাচ্ছে, ট্রেনভাড়া না দিয়ে ট্রেনে যাত্রা করার জন্য মাথা খাটিয়ে একটা বুদ্ধি বের করেছেন এড। এই ‘অসাধারণ’ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে তিনি এক বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বাঁচিয়েছেন আবার আরামে জার্নিও করেছেন। মজার কথা হল, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ (Railways) পুরো চালাকিটা বোঝার পরেও এডের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
কীভাবে সম্ভব হল এমনটা?
২৯ বছরের এড ওয়াইজ, পেশায় একজন ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স রাইটার, খুব ধৈর্য ধরে ট্রেনের শিডিউল আর দেরি হওয়ার ধরন নিয়ে রীতিমতো পড়াশোনা করেছেন। সেইসব ট্রেনের তালিকা খুঁজে বার করেছেন, যেগুলো সময়ের চেয়ে দেরিতে (Train delay) চলার সম্ভাবনা থাকে আর পুরো টাকাও রিফান্ড (Refund price) পাওয়া যাবে।
সেইভাবে প্ল্যান করে, টিকিট বুক করে, ২০২৩ সালের প্রতি জার্নিপিছু তিনি টাকা রিফান্ড পেয়েছেন। এইভাবেই রেলের সিস্টেমকে বোকা বানিয়ে মাত্র তিন বছরেই তিনি ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা নিজের পকেটে পুরে ফেলেছেন।
ট্রেন লেট করার বিষয়ে ব্রিটিশ রেলের নিয়ম বলছে, প্রতি ১৫ মিনিট দেরিতে ২৫%, ৩০ মিনিটে ৫০%, এক ঘণ্টা দেরি হলে পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায়। এই সুযোগেরই সদব্যবহার করেছেন এড। কোন সময়ে ধর্মঘট হতে পারে, রক্ষণাবেক্ষণ চলে, আবহাওয়া খারাপ থাকতে পারে— সেই সব খুঁটিনাটি মাথায় রেখে এড তাঁর যাত্রার দিনক্ষণ ঠিক করতেন। এর ফলে অনেক সময়ে তিনি সর্বোচ্চ রিফান্ড পকেটস্থ করে নিতে পেরেছেন।
কিন্তু যদি ভাবেন ভারতেও এই একই জিনিস নিয়ে আপনি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাতে পারবেন, তাহলে একটু ভাবুন। কারণ ইন্ডিয়ান রেলওয়েজের (Indian railways) নিয়ম কিন্তু বলছে, ন্যূনতম ৩ ঘণ্টা দেরিতে আপনি আপনার টাকা ফেরত চাওয়ার দাবি জানাতে পারেন রেলের কাছে। এ জন্য কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে থাকলে ট্রেন দেরি হওয়ার পর দ্রুত কাউন্টারে যোগাযোগ করুন। আর যদি অনলাইনে কেটে থাকেন তাহলে সেই সাইটেই আপনি টাকা ফেরত পাবেন।
কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এই সব নিয়ম তখনই কার্যকর হবে, যখন আপনি রেলকে এটা প্রমাণ করতে পারবেন যে, শেষ পর্যন্ত আপনি ওই দেরি হওয়া ট্রেনে সফরই করেননি।