এই প্রযুক্তি বাস্তবে তৈরি হয়নি, কিন্তু এর ভয়াবহ সম্ভাবনা দেখে এখন থেকেই সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই কৃত্রিম জীব একবার তৈরি হয়ে গেলে, তা মানুষ ও প্রকৃতির জীবনের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজ্ঞানের অগ্রগতি অনেক সময় আশীর্বাদ আবার কখনও অভিশাপ। এবার সেই ভয় ধরানো নতুন আবিষ্কারের নাম ‘মিরর লাইফ’ (Mirror Life) বা আয়নার মতো জীবন। এখনও পর্যন্ত এই প্রযুক্তি বাস্তবে তৈরি হয়নি, কিন্তু এর ভয়াবহ সম্ভাবনা দেখে এখন থেকেই সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই কৃত্রিম জীব একবার তৈরি হয়ে গেলে, তা মানুষ ও প্রকৃতির জীবনের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে।
‘মিরর লাইফ’ কী?
‘মিরর লাইফ’ এমন এক ধরনের কৃত্রিম জীবন যার DNA-র গঠন (DNA Structure) সাধারণ জীবদের থেকে একেবারে উল্টো (Synthetic Biology)। সাধারণভাবে পৃথিবীর সব জীবের DNA ডানদিকে পাক খায়, আর প্রোটিনের গঠন হয় বাঁদিকে। কিন্তু ‘মিরর লাইফ’-এ বিষয়টা একদম উল্টো- এখানে DNA বাঁদিকে পাক খায়, আর প্রোটিন ডানদিকে।
বাইরে থেকে এটা ছোট একটা পার্থক্য মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন গঠনের জীব যদি একবার তৈরি হয়, তবে তা পৃথিবীর বিদ্যমান জীববৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।
কেন ভয় বাড়ছে?
বিশ্ববিখ্যাত সিনথেটিক বায়োলজিস্ট জন গ্লাস, যিনি প্রথম কৃত্রিম কোষ তৈরি করেছিলেন, সতর্ক করে বলেছেন, এখনই এই প্রযুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। তাঁর মতে, যদি এই ধরনের কৃত্রিম জীব একদিন মানবদেহে প্রবেশ করে, আমাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধ ক্ষমতা সেটিকে চিনতে পারবে না। ফলে একবার সংক্রমণ ঘটলে, মানুষ সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়বে।
তাছাড়া, এই ‘মিরর ব্যাকটেরিয়া’ বা আয়না-জীব প্রাকৃতিক জীবাণুর মতো অন্য জীব দ্বারা ধ্বংস হবে না। তাই তারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে, নষ্ট করতে পারে ফসল, প্রাণী, বনজগৎ ও প্রকৃতি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন হলে কিছু জায়গা স্থায়ীভাবে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে এবং অনেক প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে।
তবে এই 'মিরর লাইফ'-এর কিছু ভাল দিকও তুলে ধরেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, ‘মিরর লাইফ’ থেকে তৈরি প্রোটিন ও ওষুধ মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে জন গ্লাসের মতে, আমাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন গবেষণা চালানো যাবে, আর কোনটা বন্ধ রাখতে হবে।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা চলছে, কিন্তু অনেক দেশ ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, যদি একবার এই গবেষণা ‘প্যান্ডোরার বাক্স’-এর মতো খুলে যায়, তাহলে মানবসভ্যতা চরম বিপদের মুখে পড়তে পারে।