
শেষ আপডেট: 2 January 2024 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিগারেট যে কতটা ক্ষতিকর তা এখন ইন্টারনেটের দৌলতে ছোট বাচ্চাও জানে। কিন্তু সুখটানেই মজে জেন এক্স-জেন ওয়াই। দু'ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট গুঁজে আরাম করে টান না দিলে ঠিক যেন নিজেকে স্মার্ট লাগে না। এখন তো স্টাইল স্টেটমেন্টের অঙ্গই হয়ে উঠেছে স্মোকিং। ছেলেদের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে মেয়েরাও। ফুসফুস পুড়ছে, হার্ট ছাড়খাড় হচ্ছে, শ্বাসনালি জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে। তাও সুখটানেই নাকি সবচেয়ে বেশি সুখ।
নেশা করা যত সহজ ছাড়া ততটাই কঠিন। 'ছাড়ব ছাড়ব করছি, কিন্তু ছাড়তে পারছি কই'... এমন অবস্থা যদি আপনারও হয়, তাহলে চিন্তা নেই। উপায় আছে। এমন এক ওষুধ বেরিয়েছে যা নির্দিষ্ট ডোজে খেলে নাকি সিগারেটপ্রেমীরাও সিগারেট ভুলতে বাধ্য হবেন। সুখটান দেওয়ার ভাবনাও মাথায় আসবে না। দু’তিনটে পিল খেলে আর মনে হবে না, “পুড়ে যেতে হবে যেন তাই..অবশেষে সিগারেট, তুমি আমি সব্বাই।”
আর্জেন্টিনার বিজ্ঞানীরা এই ওষুধ তৈরি করেছেন। এর নাম সাইটিসিন (Cytisine)। ‘অ্যাডিকশন’ জার্নালে এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। আর্জেন্টিনার পোসাডাস ন্যাশনাল হসপিটালের টক্সিকোলজিস্ট ডা. ওমর দে শান্তি বলছেন, এই পিল এমনভাবে তৈরি হয়েছে যা নিকোটিনের নেশার প্রভাব কমাবে। খুব কম খরচে তৈরি হয়েছে ওই ওষুধ। উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে তৈরি হয়েছে এই পিল। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা বলছেন, গত ৫ বছর ধরে ১৫ হাজারের বেশি জনের ওপরে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। তাঁদের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। দেখা গেছে, সাইটিসিন ওষুধ বেশিরভাগেরই সিগারেটের নেশা কমিয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের নেশা করার প্রবণতা কমেছে।
বিশ্বজুড়ে সমীক্ষায় দেখা গেছে, মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি ধূমপানে আসক্ত তাঁদের মধ্যে নানারকম ক্যানসারের প্রকোপ বেড়েছে। ফুসফুস ক্যানসার থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার, মুখ ও গলার ক্যানসার এর মধ্যে বেশি। গবেষকরা বলছেন, মহিলাদের মধ্যে যাঁদের বিএমআই ইনডেক্স বেশি এবং ওবেসিটি রয়েছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন রয়েছে এবং অত্যদিক ধূমপান করেন তাঁদের মধ্যেই ক্যানসারের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। আবার পুরুষদের মধ্যে যাঁদের ব্লাড প্রেশার, হাইপারটেনশন, উচ্চ কোলেস্টেরল, সুগার, প্রস্টেটের সমস্যা রয়েছে এবং ধূমপানে আসক্তি বেশি, তাঁদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ বেশি। এর অর্থ হল শরীরের নানা রকম কোমর্বিডিটি থাকলে ধূমপান সেখানে ক্যানসারের অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
ধূমপানে বাড়ে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজের আশঙ্কা। অর্থাৎ পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্তবাহী ধমনিতে কোলেস্টেরলের প্রলেপ জমে রক্ত চলাচল কমে যায়। সব থেকে বেশি সমস্যা হয় পায়ে। ধূমপায়ীদের এই অসুখের আশঙ্কা অন্যদের থেকে ১৬ গুণ বেশি। তাই সিগারেট না ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা আছে।