বনের নিয়মে শিকার-শিকারির এমন কত মুহূর্ত প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি খানিকক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।

চিতাবাঘের আস্তে আস্তে উঠে দুই পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ার মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 12 July 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘ আর সিংহের তুলনায় অনেক কম আলোচনায় থাকে তারা, কিন্তু চিতাবাঘ হল প্রকৃতির নিঃশব্দ, নিখুঁত শিকারি। আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারত, চিন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের দেখা মেলে।
ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস আধিকারিক পারভিন কাসওয়ান সাউথ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের একটি অসাধারণ মুহূর্তের ভিডিও তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। কুমানা ড্যামের কাছে একটি চিতাবাঘ রাস্তা পেরিয়ে শিকারের দিকে সন্তর্পণে এগিয়ে চলেছে।
হঠাৎ দেখা যায়, গুটিগুটি পায়ে চলতে চলতে সে পেছনের দু’পায়ে ভর দিয়ে বসে পড়ে। একদৃষ্টিতে তার খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে আস্তে আস্তে উঠে দুই পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে।
That leopard is looking at his food by standing on two legs. Leopards are one of the most versatile creatures on earth. From Kruger. pic.twitter.com/tNG74rt9R8
— Parveen Kaswan, IFS (@ParveenKaswan) July 12, 2025
বনের ভিতরে শিকার-শিকারির এমন কত মুহূর্ত প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি খানিকক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রচুর মানুষ, শেয়ার, লাইক করতে থাকেন।
বিশ্বে যেখানে জীববৈচিত্র্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে চিতাবাঘের অস্তিত্ব রক্ষা করাও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জরুরি।
চিতাবাঘ কিন্তু জাতে এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমাদের পরিচিত ‘বড় বিড়ালদের’ থেকে বেশ আলাদা। এটি এমন একটি প্রজাতি, যারা শহর সংলগ্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে গভীর বন, পাহাড়, শুকনো এলাকা বা বর্ষার বন - সব জায়গাতেই দিব্যি মানিয়ে নিতে পারে। এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণেই আজও তারা নানা জায়গায় টিকে রয়েছে, যেখানে অনেক অন্য বন্য প্রাণী হারিয়ে গেছে।
এদের সবচেয়ে বড় শক্তি হল নিঃশব্দ চলাফেরা। তারা এতটাই নিঃশব্দে আক্রমণ চালাতে পারে যে শিকার কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার শেষ। শুধু তাই নয়, নিজের থেকেও ভারী শিকার ধরলে সেটিকে গাছে তুলে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখে, যাতে হায়েনা বা শেয়ালের মতো লোভী প্রাণীরা তা ছিনিয়ে নিতে না পারে।
চিতাবাঘের শরীরে থাকে অসংখ্য গোল গোল ‘রোজেট’ বা গোলাপ-আকৃতির দাগ, এই দাগগুলিই তাদের নিখুঁত ছদ্মবেশে প্রকৃতির মধ্যে মিশে যেতে সাহায্য করে। চিতাবাঘ শুধুমাত্র ভাল শিকারি নয়, দারুণ গাছে উঠতেও পারে। অনেক সময় দিনের বেলায় তারা গাছের ডালে উঠে শুয়ে থাকে, সেখানে বিশ্রাম নেয় বা শিকার লুকিয়ে রাখে। এছাড়া তারা চমৎকার সাঁতার কাটতেও পারে—যা অনেক বড় বিড়ালের পক্ষে সাধারণ নয়।
সিংহ বা চিতার মতো দলবদ্ধভাবে চলে না চিতাবাঘ। তারা সম্পূর্ণ একাকী জীবনযাপন করে। একমাত্র প্রজননের সময় বা বাচ্চা লালন-পালনের সময় অন্য চিতাবাঘের সংস্পর্শে আসে। এই স্বভাবের কারণেই তারা অনেক সময় মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।