
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 23 January 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইতিহাসে দু'টি নাম একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত—সুভাষ চন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দ। যেমন শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের আর্শীবাদ ছাড়া নরেন্দ্রনাথ পূর্ণভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন না, তেমনি স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথ ছাড়া সুভাষ চন্দ্র বসু 'নেতাজি' হয়ে উঠতেন না। শঙ্করীপ্রসাদ বসু তাঁর গবেষণাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সুভাষ চন্দ্র ছিলেন একজন মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি প্রথম দিকে একটি নির্দিষ্ট পথে চললেও পরে ভারতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত হন। তাঁর জীবনে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকা ছিল অপরিসীম, ঠিক যেমন কৃষ্ণের ভূমিকা ছিল ধর্মযুদ্ধের ময়দানে অর্জুনের প্রতি।
কলেজে পড়ার সময়েই সুভাষের মনে দেশপ্রেম ও ত্যাগের চিন্তা জাগে। তিনি তখন এক প্রকৃত গুরু খুঁজছিলেন, যে তাঁকে সত্যের সন্ধান দিতে পারেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটে যায় তাঁর জীবনে। সুভাষ একদিন তাঁর দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের কাছে যান, সেখানে টেবিলে থাকা স্বামীজির কয়েকটি বইয়ে নজর যায়। সেগুলি পড়েন এবং তাঁর জীবনে এক নতুন দিক উন্মোচন হয়। নিজেই শিব জ্ঞান, জীব সেবায় উদ্বুদ্ধ হন। সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছেও জাগে তাঁর মনে।
সেসময় সুভাষ জানতে পারেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতে এমন কয়েকজন সন্ন্যাসী আছেন যারা তাঁকে সত্যের পথ দেখাতে পারেন। তিনি বাড়ি থেকে একটি ছোট পোষ্টকার্ড পাঠিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের তীর্থস্থানগুলো ঘুরে সন্ন্যাসীদের জীবন অনুসরণ করা। স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথে সুভাষ চন্দ্র শুরু করেন তাঁর পরিব্রাজক জীবন। হরিদ্বার, হৃষিকেশ, গয়া, মথুরা, বৃন্দাবন-সহ অনেক তীর্থস্থানে ভ্রমণ করে বারাণসী পৌঁছান।
সেখানে নেতাজি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সভাপতি স্বামী ব্রহ্মানন্দের সঙ্গে দেখা করেন, যিনি শ্রী রামকৃষ্ণের প্রিয় শিষ্য 'রাখাল' নামে পরিচিত ছিলেন। একটি লেখা সুভাষচন্দ্র বসুর পাওয়া যায়, যেখান থেকে জানা যায়, বারাণসীতে স্বামী ব্রহ্মানন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান, তাঁদের ভালই আলাপ ছিল। সেই সময়, নেতাজি তাঁর মনে দানা বাঁধা সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছা স্বামী ব্রহ্মানন্দের কাছে প্রকাশ করেন। কিন্তু স্বামী ব্রহ্মানন্দ তাঁকে সন্ন্যাস নেওয়ার পরিবর্তে দেশমুখী হয়ে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, 'দেশ তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করছে।'
স্বামী ব্রহ্মানন্দের বাণী সুভাষের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। তিনি ভাবেন সেসব কথা। মনকে শক্ত করেন। এরপর স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথে, ব্রহ্মানন্দের পরামর্শে সুভাষ চন্দ্র সন্ন্যাসী হওয়ার সঙ্কল্প ত্যাগ করে দেশের সেবা ও মুক্তির পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।