
শেষ আপডেট: 7 January 2023 09:34
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ) ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে জয়লাভ করেছিল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। জনগণের রায়ে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতা চলে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাতে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ছিল না পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান সরকার ও পূর্ব পাকিস্তানের রাজাকারেরা।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। বজ্রকণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ, গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী আল বদর ও আল শামস বাহিনী শুরু করেছিল অপারেশন সার্চ লাইট। নারকীয় গণহত্যা চালানো হয়েছিল সেই রাতে। নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল প্রায় ৭০০০ মানুষকে। ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশের উত্তরে আছে ভারত সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। তারই একটি উপজেলা চর-রাজীবপুর। কুড়িগ্রাম সদরের সঙ্গে চর রাজীবপুরকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এই চর রাজীবপুরের কোদাখালি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অংশে আছে একটি গ্রাম। নাম তার শঙ্কর মাধবপুর। যে গ্রাম লিখেছিল মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অথচ সোনালি অধ্যায়।

১৯৫৭ সালে শঙ্কর মাধবপুর গ্রামে জন্মেছিলেন তারাবানু (Taramon bibi)। অল্পবয়সে হারিয়েছিলেন বাবা আবদুস সোহবান্কে।দরমার বেড়া দেওয়া কুঁড়ে ঘরে থাকতেন বিধবা মা কুলসুম বিবির সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল, তখন তারাবানুর বয়স মাত্র তেরো।
তারাবানুদের গ্রামটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরে। যে সেক্টরটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কমান্ডার আবু তাহের। তারাবানুদের গ্রামের পাশেই দশঘরিয়া এলাকায় ছিল মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প। এই ক্যাম্পটির প্রধান ছিলেন হাবিলদার মুহিব। কোনও এক সকালে হাবিলদার মুহিব এসেছিলেন তারাবানুদের বাড়ি। তারাবানুর মা কুলসুমকে বলেছিলেন, ক্যাম্পে রান্নার করার জন্য তারাবানুকে তাঁরা চান। পরিবর্তে তারাবানুকে দেওয়া হবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক।

হতদরিদ্র হলেও হাবিলদার মুহিবের প্রস্তাবে রাজি হননি কুলসুম। কারণ ক্যাম্পের সবাই পুরুষ। হাবিলদার মুহিব তখন বলেছিলেন,” আজ থেকে আমি আপনার মেয়ের ধর্ম বাবা। তার সব দায়িত্ব আজ থেকে আমার। ধর্ম মেয়ের কোনও ক্ষতি হতে দেব না আমি।” রাজি হয়েছিলেন কুলসুম। ধর্মবাবা হাবিলদার মুহিবের সঙ্গে দশঘরিয়ার ক্যাম্পে চলে গিয়েছিলেন তারাবানু।
দশঘরিয়া ক্যাম্পে তাঁর ধর্মমেয়ের নতুন নাম দিয়েছিলেন মুহিব। তারাবানুর নাম হয়ে গিয়েছিল তারামন। ক্যাম্পের অনেক মুক্তিযোদ্ধাই তারামনের বয়সি মেয়েকে বাড়িতে ফেলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তারামনকে তাঁরা খুব ভালোবাসতেন। তাঁদেরও ধর্মকন্যা হয়ে উঠেছিলেন তারামন। রান্নার কাজে সাহায্য করতেন তারামন। অবসর সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি পরিষ্কার করতেন।
পরিষ্কার করার পর কার্তুজহীন অস্ত্রগুলি তারামন তাক করতেন কোনও গাছের দিকে। যেন বোঝাতে চেষ্টা করতেন, সুযোগ পেলে আমিও উড়িয়ে দিতে পারি পাক হানাদারদের মাথার খুলি। ক্যাম্প কমান্ডার মুহিব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন তাঁর ধর্মমেয়ের আগ্রহ দেখে। এরপর তারামনকে বন্দুক চালানো শিখিয়েছিলেন মুহিব। কারণ সাবধানের মার নেই। বন্দুক হাতে থাকলে অন্তত নিজেকে রক্ষা করতে পারবে তাঁর ধর্মমেয়ে। তবে তারামনের পক্ষে ভারী এম-ফর্টি রাইফেল চালানো কঠিন। তাই অপেক্ষাকৃত হালকা স্টেনগান চালানো শিখিয়েছিলেন মুহিব। তারামনের নিঁখুত নিশানা দেখে স্তম্ভিত হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারাও।

একদিন দুপুর বেলা মুক্তিযোদ্ধারা খেতে বসেছিলেন। তারামন একাই এলাকার ওপর নজর রাখছিলেন একটি উঁচু সুপারি গাছের ওপর থেকে। হঠাৎ তাঁর নজর পড়েছিল, ব্রহ্মপুত্রের স্রোত ঠেলে ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসতে থাকা এক পাকিস্তানি গানবোটের ওপর। দ্রুত গাছ থেকে নেমে, তীরের বেগে তারামন পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্যাম্পে। খাওয়া ফেলে রাইফেল, সাব-মেশিনগান, গ্রেনেড লঞ্চার হাতে তুলে নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। বালির চড়ায়, গাছের ফাঁকে পজিশন নিয়েছিলেন। নিজের স্টেনগান নিয়ে পজিশন নিয়েছিলেন তারামনও।

গানবোটটি দ্রুত এগিয়ে আসছিল চরের দিকে। রাইফেলের পাল্লায় আসামাত্র, কম্যান্ডার মুহিবের নির্দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে গিয়েছিল পাকিস্তানি গানবোটের দিকে। বোটের ওপরে লুটিয়ে পড়েছিল জনা দশেক পাক হানাদার।পরমুহূর্তেই আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে গানবোট থেকে ছুটে এসেছিল মেসিনগানের গুলি। ব্রহ্মপুত্রকে সাক্ষী রেখে শুরু হয়েছিল এক মরণপণ লড়াই।
দাঁতে দাঁত চেপে স্টেনগান থেকে অগ্নিবৃষ্টি করে চলেছিলেন কিশোরী বীরাঙ্গনা তারামন। তাঁর ও বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের বন্দুকের দাপটে, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল পাক হানাদারেরা। চরের আকাশ বাতাস মুখরিত হয়েছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে। তারামনকে নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এরপর তারামনকে মুহিব দিয়েছিলেন এক কঠিন দায়িত্ব। আশেপাশের গ্রামগুলিতে শত্রুসেনা পৌঁছানোর খবর এনে দিতে হবে তারামনকে। দুঃসাহসী তারামন কখনও পাগল, কখনও বোবা কালা, কখনও পঙ্গু ভিখারি সেজে ঘুরে বেড়াতেন আশেপাশের গ্রাম, গঞ্জ,খেয়াঘাট, এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও।
খালিয়াভাঙ্গা গ্রামে ছিল মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প। পাশেই ছিল একটি খাল। সেই খালের ওপারে থাকা ভেড়ামারি গ্রামে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প। অক্টোবর মাসের এক সকালে, সাঁতার দিয়ে খাল পেরিয়ে তারামন চলে গিয়েছিলেন ভেড়ামারি গ্রামে। তারপর নিজের মনে বিড় বিড় করতে করতে ঢুকে পড়েছিলেন পাকিস্তানি ক্যাম্পে। গোবর কুড়ানোর অছিলায়।
ছেঁড়া কাপড়, মাথার চুলে জট, চোখের কোণে পিঁচুটি, গায়ে গোবর মাখা অপ্রকৃতিস্থ কিশোরীকে দেখে হাসাহাসি করেছিল পাক সেনারা। তারামনকে রাগানোর জন্য অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালও দিয়েছিল। রেগে যাওয়ার ভান করে পাক সেনাদেরও গালাগাল দিতে শুরু করেছিলেন তারামন। কিছুক্ষণ পর নিজেদের কাজে মন দিয়েছিল পাক সেনারা। গোবর কুড়াতে কুড়াতে তারামন জরিপ করে নিয়েছিলেন পাক হানাদারদের ক্যাম্প।

দেখে নিয়েছিলেন, ক্যাম্পে কতজন পাক সেনা আছে। কী কী ধরণের অস্ত্রশস্ত্র, কত পরিমাণে মজুত আছে ক্যাম্পে। ক্যাম্পের কোথায় বসানো আছে মেশিন গান। ক্যাম্পের কোন দিক অসুরক্ষিত। কোন দিক থেকে আক্রমণ হানলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না পাক সেনারা। সমস্ত তথ্য মাথায় গেঁথে নিয়ে একই রকম ভাবে নিজের মনে বিড় বিড় করতে করতে পাক সেনার ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তারামন। তাঁর দিকে ফিরেও তাকায়নি পাকিস্তানিরা।
পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে অনেকটা দূরে গিয়ে, কনকনে ঠান্ডা খালের জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারামন। তাঁর দেওয়া গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পেয়ে ক্যাম্প কমান্ডার তৈরি করেছিলেন রণকৌশল। পরদিন ভোর রাতে, মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়েছিল পাকিস্তানি ক্যাম্প। প্রাণ হারিয়েছিল প্রচুর পাক সেনা।

কিশোরী রাঁধুনি তারামন, মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে হয়ে উঠেছিলেন মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সেরা গুপ্তচর। পাক সেনাদের খবর আনার জন্য ,কালবৈশাখীর রাতে কলার ভেলায় একলা পেরিয়েছেন উত্তাল ব্রহ্মপুত্র। রেশন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কলার ভেলায় চাপিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন, মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে। মুক্তিযোদ্ধারা অবাক হয়ে যেতেন ছোট্ট মেয়েটির সাহস দেখে।

কেতনদারি ক্যাম্পে থাকার সময়, এক রাতে আক্রমণ শানিয়েছিল পাকিস্তানি ফাইটার জেট। বৃষ্টির মত বোমা পড়েছিল ক্যাম্পের ওপর। আকস্মিক আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলেন তারামন। কারণ আকাশে ফাইটার জেটের আওয়াজ পেয়েই ঢুকে পড়েছিলেন বাঙ্কারে।
তারামন জানতেন পাকিস্তানিরা কী রকম নৃশংস। তিনি দেখেছিলেন, নৌকা করে পালাতে থাকা অসহায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের ওপর পাকিস্তানি ফাইটারকে বোমা বর্ষণ করতে। তিনি দেখেছিলেন, ব্রহ্মপুত্রের জলে শিলাবৃষ্টির মত পড়তে থাকা মাংসের টুকরোগুলিকে। সেদিন কিন্তু তারামনের চোখ জলে ভরে ওঠেনি। শক্ত হয়েছিল চোয়াল। দুই চোখে জ্বলে উঠেছিল বদলার আগুন ।
এরপর সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বীরাঙ্গনা তারামন। ততদিনে তিনি সব ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে ও দাঁতে পিন কেটে গ্রেনেড ছুড়তে শিখে গিয়েছিলেন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি, মোহনগঞ্জ, কোদালকাটি সহ বহু ঐতিহাসিক রণাঙ্গনে তাঁর রাইফেল ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছিল পাক সেনাদের শরীর।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, শেষ হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। এশিয়ার মানচিত্রে মাথা তুলেছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য, ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেটে তারামন বেগমকে বীরপ্রতীক সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল বঙ্গবন্ধুর সরকার। কিন্তু তারামনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাজার হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন বীরাঙ্গনা তারামন।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে, ১৯৯৫ সালে তারামন বিবিকে খুঁজে পেয়েছিলেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের অধ্যাপক বিমলকান্তি দে। কুড়িগ্রামের রাজীবপুর কলেজের অধ্যাপক আবদুস সবুর ফারুকি ও সোলায়মান আলির সাহায্যে। তাঁদের নিয়েই বিমলকান্তি চলে গিয়েছিলেন রাজীবপুরের কাছারিপাড়ায়। খুঁজে বের করেছিলেন তারামন বিবিকে।

একটি ভাঙাচোরা মাটির বাড়িতে স্বামী আব্দুল মজিদ, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন আটত্রিশ বছরের তারামন। সংসারের ছত্রে ছত্রে দারিদ্রের ছাপ। অধ্যাপকেরা তারামন বিবির স্বামীকে দেখিয়েছিলেন সরকারি দলিল। আকাশ থেকে পড়েছিলেন আব্দুল মজিদ। তিনি জানতেন না, কুড়ি বছর ধরে যাঁর সঙ্গে সংসার করছেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
এরপর ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল তারামন বিবিকে। ২৪ বছর অজ্ঞাতবাসে কাটিয়ে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তারামন। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তারামন বিবির হাতে বীরপ্রতিক পদক তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর তাঁকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল সম্মান।
কিন্তু সম্মান মনের কষ্ট দূর করে, পেটের খিদে নয়। তাই নিদারুণ দারিদ্রে দিন কাটতে থাকে তারামন বিবির। বন্যায় ভেসে যায় তাঁর কুঁড়ে। তাঁকে একটি পাকাবাড়ি করে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ রাইফেলস্-এর কর্নেল সুমন বড়ুয়া। সেই প্রথম মাথার ওপর ঢালাই ছাদ জুটেছিল তারামনের।

ক্ষমতায় আসার পর, তারামনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তারামন বিবি আক্রান্ত হয়েছিলেন যক্ষা রোগে। জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছিল হৃদপিণ্ডেও। রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছিল। সামরিকবাহিনীর হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনা হয়েছিল ঢাকায়। সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার জন্য।
কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তারামন ফিরে গিয়েছিলেন নিজের গ্রামে। কিন্তু স্বাধীনতার সূর্য ওঠানো হীরামন পাখির বুঝি উড়ে যাওয়ার সময় এসে গিয়েছিল। তাই ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর, সোনার বাংলাকে ফেলে রেখে, সোনালি ডানা মেলে নীল আকাশে উড়ে গিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের হীরামন পাখি তারামন বিবি।
