কঠিন চাপের মুখে স্রেফ খবরের কাগজে পড়া একটি তথ্য কাজে লাগিয়ে বড় প্রতারণার হাত থেকে পরিবারকে বাঁচায় ১৩ বছরের তন্ময়। নিজের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করবেন জেনে নিন।

‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’ নিজের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করবেন জেনে নিন
শেষ আপডেট: 11 April 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ ঘণ্টা ধরে বাড়ির এক কোণে মোবাইল ক্যামেরার সামনে ‘বন্দি’ মা-বাবা। ওপার থেকে ধেয়ে আসছে এনআইএ (NIA) অফিসার পরিচয়ে হ্যাকারদের হুমকি (Digital Arrest Scam)। ভয়ে কাঁপছেন ৫৫ বছর বয়সি ব্যবসায়ী সঞ্জয় সাক্সেনা ও তাঁর স্ত্রী (Bareilly Cyber Fraud)। বাবা-মা যখন কঠিন চাপের মুখে, সেই সময় স্রেফ খবরের কাগজে পড়া একটি তথ্য কাজে লাগিয়ে বড় প্রতারণার হাত থেকে পরিবারকে বাঁচায় ১৩ বছরের তন্ময়।
প্রচারেই বেড়েছে সচেতনতা
তন্ময়ে জানায়, কয়েকদিন আগেই সে খবরের কাগজে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন পড়েছিল। হ্যাকাররা যখন গয়না ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে, তখন সে নিশ্চিত হয় যে এটি কোনও তদন্ত নয়, বরং জালিয়াতি। এদিকে হ্যাকাররা একটু ভুয়ো 'অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট' দেখায় তাঁদের, তাতেই ভয় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু সমস্যার মুখে পড়ে তন্ময়, যখন আতঙ্কিত মা-বাবা কিছুতেই ফোন কাটতে রাজি হচ্ছিলেন না। তখন এক অসামান্য কৌশল বার করে সে (how to stay safe from digital arrest scam)।
তন্ময়ের ‘মাস্টারস্ট্রোক’
বাবার ফোনটিতে ‘ফ্লাইট মোড’ (Flight Mode) অন করে দেয় তন্ময়। সে বাবাকে আশ্বস্ত করে যে, এতে কল কাটবে না। কিন্তু আদতে ফ্লাইট মোড অন করতেই কলটি ড্রপ হয়ে যায় এবং হ্যাকারদের সঙ্গে নেটওয়ার্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (flight mode trick for cyber crime)।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার পরেই বরেলির প্রেম নগর থানায় এফআইআর করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজ করে দিয়েছে যাতে টাকা সুরক্ষিত থাকে। বরেলির এসএসপি অনুরাগ আর্য জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
নিজের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
এই ধরনের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ থেকে বাঁচতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন -
কীভাবে দানা বাঁধল জালিয়াতি?
তন্ময়ের বাবা ব্যবসায়ী সঞ্জয় সাক্সেনাকে ফোন করে জানানো হয় তাঁর মোবাইল নম্বরটি জঙ্গি কার্যকলাপ এবং ৩০০ কোটি টাকার একটি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। ভয় দেখাতে পাঠানো হয় একটি ‘ভুয়ো’ অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট। শুরু হয় ডিজিটাল অ্যারেস্ট। অর্থাৎ, ভিডিও কলে সারাক্ষণ নজরবন্দি থাকা। বাড়ির বড়রা যখন ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য শেয়ার করতে শুরু করেন, তখনই সন্দেহ জাগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তন্ময়ের মনে।
১৩ বছরের ছেলের উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই ভেস্তে যায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের বড়সড় চক্রান্ত।