কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিডিও কলে আটকে রেখে হুমকি ও মানসিক চাপে ফেলা হয়। কথোপকথনের শেষে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক ধাক্কায় উধাও হয়ে যায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 19:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে (Mumbai) ৫৮ কোটি টাকার 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' (Digital Arrest) জালিয়াতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ (Maharastra Cyber Police) জানিয়েছে, প্রতারণার টাকার স্রোত সরাসরি পৌঁছে গেছে হংকং, চিন ও ইন্দোনেশিয়ায়।
ঘটনাটি তখন সামনে আসে যখন মুম্বইয়ের এক ৭২ বছরের ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান যে, তাঁকে ফোন করে সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED) আধিকারিক সেজে ভয় দেখানো হয়েছিল। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, তিনি নাকি এক অপরাধমূলক মামলার সঙ্গে যুক্ত, তাই ‘তদন্তে সহযোগিতা’ করতে হবে।
এরপর তাঁকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিডিও কলে (Video Call) আটকে রেখে হুমকি ও মানসিক চাপে ফেলা হয়। কথোপকথনের শেষে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক ধাক্কায় উধাও হয়ে যায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই অর্থ মুহূর্তের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির (Crypto Currency) মাধ্যমে দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনও পৃথক ঘটনা নয়, বরং গত এক বছর ধরে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের অংশ, যারা দেশজুড়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশের (Maharastra Cyber Police) দাবি, এই চক্র কমিশনভিত্তিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কাজ চালাত। প্রতিটি জাল ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ মামলায় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা অনলাইনে নেওয়া হত। প্রথমে সেই টাকা যেত ভারতে থাকা কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, সেখান থেকে মুহূর্তে তা রূপান্তরিত হত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে, এবং তারপর পাঠানো হত বিদেশি ডিজিটাল ওয়ালেটে। ফলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য একাধিকবার বদলে ফেলে ট্রেস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছিল।
এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘এই নেটওয়ার্ক প্রায় এক বছর ধরে সক্রিয় ছিল। প্রতিটি লেনদেনের পরে ক্রিপ্টোকারেন্সি একাধিক ওয়ালেটে স্থানান্তরিত হওয়ায় টাকার গতিপথ ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।’’
তদন্তে ধরা পড়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত বহু আইপি ঠিকানা ও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্ট চিন, হংকং এবং ইন্দোনেশিয়ার। ইতিমধ্যে বিদেশি সংস্থাগুলির কাছে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে মুম্বই সাইবার পুলিশ।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বহু ‘মিউল’ বা কমিশনভিত্তিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলি ভুয়ো পরিচয়ে খোলা হয়েছিল, যাতে টাকা বিদেশে পাঠানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হল - দেশে দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল প্রতারণা এবং ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে টাকার পাচার।