হায়দরাবাদে বড় হওয়া জেপি এখন থাকেন তাঁর স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে অ্যাশবার্ন শহরে। বছরভর চাকরি করলেও, দু-তিন মাসের জন্য তাঁর জীবন ঘুরে দাঁড়ায় আমের গন্ধে।
.jpeg.webp)
জয়প্রকাশ গোলা, ম্যাঙ্গোওয়ালা
শেষ আপডেট: 17 June 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপে একটা গ্রুপ— নাম ‘ডিসি ইন্ডিয়ান ম্যাঙ্গোজ’ (DC Indian Mangoes)। আর সেই গ্রুপেই প্রতি বছর গরম পড়লেই গমগম করে ওঠে আলোচনায়, অপেক্ষায়— দেশি আম! গ্রুপের অ্যাডমিন, জয়প্রকাশ গোলা, যাঁকে সবাই 'জেপি গোলা' নামে চেনেন, তিনি একাধারে ভার্জিনিয়ার এক মর্টগেজ সংস্থায় প্রযুক্তি ও ব্যবসা-পরিচালনা করেন। আর অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে তিনিই হয়ে ওঠেন 'আমআদমি'।
হায়দরাবাদে বড় হওয়া জেপি এখন থাকেন তাঁর স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে অ্যাশবার্ন শহরে। বছরভর চাকরি করলেও, দু-তিন মাসের জন্য তাঁর জীবন ঘুরে দাঁড়ায় আমের গন্ধে— ভারত থেকে সরাসরি আম এনে তা আমেরিকার রাজধানী ঘিরে ‘ডিএমভি’ এলাকায় বিলি করেন নিজে হাতে।

মরশুমে সপ্তাহে দু’-তিনবার জেপি পৌঁছে যান ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কেশর, হিমসাগর, ল্যাংড়া, বানগানাপল্লে— কী নেই সেই বাক্সে! সেখানে আমেরিকান কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর, হোয়াটসঅ্যাপে ভেসে ওঠে বার্তা— "DC folks, fresh stock is here. Alphonso, Kesar, Rasalu ready. Thx!"
নিজের তৈরি গুগল ডকে অর্ডার দেন বুঝে শুনে, কোডে কোডে: ১এ মানে এক বাক্স আলফোনসো, ৩আর মানে তিন বাক্স রসালু। আম দেশের মাটিতে যেমনই হোক, বিদেশে এ এক 'রেস এগেনস্ট টাইম'। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি করে দিতেই হয় 'ফলরাজ', না হলে সেই আম ফ্যাকাশে হয়ে যায়, স্বাদ হারায়।
একটা ৪ কেজির বাক্সে ৯ থেকে ১১টা আম, দাম প্রায় ৫০ ডলার (ভারতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ)। দামকে থোড়াই কেয়ার করে লোকের ভিড় উপচে পড়ে। কেন না, এই আমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশীয় স্মৃতি, নস্টালজিয়া, শিকড়ের টান। তাই বড় দোকানে না থাকলেও, ছোট ছোট 'দিশি' দোকান আর গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করাই বেস্টসেলার হয়ে দাঁড়ায়।
ডেনভার থেকে এক সাব-কনট্রাক্টর ফোন করেন জেপিকে, বলে দেন “দু’টা বাক্স আমার চাইই চাই। একটা নিজের, অন্যটা হনুমানজিকে নিবেদন করার।” আমআদমি জেপি নিজে বেড়ে উঠেছেন হায়দরাবাদের বিএইচইএল টাউনশিপে। মাটির টান, মানুষের মন বুঝে, এবং ব্যবসায়িক কৌশলে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন 'ইউএস ম্যাঙ্গোওয়ালে' নামে (USMangoWale)।
সে দেশে প্যাটেল ব্রাদার্সের মতো বড় সংস্থা আছে বটে, যারা অনেক কমে আম বিক্রি করে, কিন্তু জেপির কথায়, “ওরা স্টক চলে না বুঝলেই ডিসকাউন্ট দেয়। আমি সেটা করি না। প্রতিটা বাক্স আমার কাছে জরুরি। খারাপ দিলে সম্পর্কটাই খারাপ হয়।”

জেপি বিশ্বাস করেন, আম আর তাঁর সংস্থা মর্টগেজের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু আম দিয়েই তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। এমনকি অনেকেই বলেন, এটা শুধু ব্যবসা নয়, জেপির কাছে আম বেচা একটা রীতি হয়ে উঠেছে।
হোক সে আলফোনসো কিংবা কেশর, এই আমের বাক্সে শুধু ফল নেই, আছে আমপিয়াসী জয়প্রকাশ গোলার ফেলে আসা গ্রীষ্মের ছুটির দিন, দাদুর বাড়ির ছাদ, মায়ের হাতে বানানো কাঁচা আমের আচার। যে কারণে শুধু পকেট ভরানোর জন্য নয়, মনে তাগিদ থেকে এই ম্যাঙ্গোওয়ালা ডালাস থেকে ডিসি পর্যন্ত ছুটে চলেন, এক ও একমাত্র তাঁর আম বেচবেন বলে।