
কেনার আগে ফুড প্যাকেজিং ভাল করে দেখে নিন
শেষ আপডেট: 21 March 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধরুন আপনি হাই কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন, অ্যানিম্যাল-বেসড (প্রাণী থেকে পাওয়া, বিশেষত ননভেজ) যে কোনও খাবার-সহ বেশিরভাগ জিনিসেই ডাক্তারের কড়া নিষেধাজ্ঞা। সুপারমার্কেটে বা অনলাইনে আপনি দেখছেন কী কী হেলদি খাবার পাওয়া যেতে পারে। আপনার চোখে পড়ল একটা প্ল্যান্ট-বেসড (বিশেষত ভেজ। পনীর, ঘি জাতীয় জিনিস ছাড়া) প্রোডাক্টের ওপর, সেখানে মাঝারি সাইজে লেখা ‘নো কোলেস্টেরল’। আপনি সঙ্গে সঙ্গে কার্টে তুলে নিলেন। কিন্তু আপনি জানলেনই না আসলে প্ল্যান্ট-বেসড কোনও প্রোডাক্টে কোলেস্টেরল থাকেই না। অথচ কোম্পানি কিন্তু আপনাকে মিথ্যে বলেনি। সবটাই শুধু মার্কেটিং-এর (Marketing) খেল।
ঝকঝকে একটা প্যাকেজিং (Packaging), কিছু বিভ্রান্তিকর (Misleading), লোক ঠকানো ট্যাগ দেখে বেশিরভাগ সময়ই মানুষ এমন সব মার্কেটিং-এর ফাঁদে পড়ছেন। মাঝখান থেকে বিক্রি বাড়ছে প্রোডাক্টের। সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা (Harsh Goenka) একটি ভিডিও পোস্ট (Social Media Post) করেছেন। ভিডিওর ক্যাপশন বলছে, ‘ফুড কোম্পানিগুলো আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে! এই সত্যিগুলো সামনে আসাটা ভীষণ অবাক করা।’
How our food companies are taking us for a ride! I was truly shocked by these revelations. pic.twitter.com/oRWTeVuYxw
— Harsh Goenka (@hvgoenka) March 19, 2025
ইউটিউবার রাজ শমানির (Raj Shamani) একটি ভিডিওর যে অংশ হর্ষ (Harsh Goenka) তুলে আনেন, সেখানে হেলথ ও নিউট্রিশন ইনফ্লুয়েন্সর (Influencer) রেবন্ত হিমতশিংকা (যিনি ‘ফুডফার্মার’ নামেও পরিচিত) বলছেন কীভাবে নানারকম স্ট্র্যাটেজি ধরে এগিয়ে ফুড কোম্পানিগুলি ক্রেতাদের ভুল দিকে নিয়ে চলেছে।
উদাহরণস্বরূপ ওই ভিডিওতে (Social Media Post) রেবন্ত বলেন, ক্রেতাদের একটা ধারণা থাকে যে আমন্ড-কাজু কুকিজে অন্তত ৫০-৬০% বাদাম থাকবে। কিন্তু তার বদলে সেখানে থাকে মাত্র ১.৮% আমন্ড আর ০.৪% কাজু। আবার একটা হোল-হুইট কুকিতে মাত্র ১৯.৫% আটা থাকে বাকিটা পুরোটাই থাকে ময়দা। যদি টম্যাটো কেচাপের কথা বলা হয়, সেখানে প্যাকেটের পেছনে একটা সাইন থাকে। এটা একটা ব্র্যান্ড নেম বা ট্রেডমার্ক (Brand name, Trademark) শুধু। তা দিয়ে প্রোডাক্টের আসল নেচার বোঝা যায় না’।
ফুডফার্মার (Food pharmer) আরও বলেন, ‘যে খাবারই আপনি নেবেন তার পেছনেই নানারকম বিভ্রান্তিকর মার্কেটিং-এর (Misleading marketing) খেলা চলছে। এটা একটা বড় ইস্যু, আমার মনে হয় এসব নিয়েই মানুষকে আরও সচেতন থাকতে হবে।’
আজকালের এই গতির যুগে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য, যেখানে বড় বড় ফুড কোম্পানিগুলি তাদের অসাধারণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি (Marketing strategy) নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছে। তার মধ্যেও কিছু জিনিস মেনে চললে হেলদি চয়েস (Healthy lifestyle choice) মেনে চলা সম্ভব হতে পারে। প্রসেসড খাবার (Processed food) একদমই খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হোল ফুড এবং প্ল্যান্ট-বেসড খাবারের দিকে নজর ঘোরালে সহজেই আমরা সুস্থ জীবনের দিকে এগোতে পারি। তাছাড়া যদি প্যাকেটজাত খাবার কিনতেই হয়, তাহলে ভাল করে লেবেল দেখে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তবেই কিনুন।
ভাল খান, সুস্থ থাকুন।