
গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 13 February 2025 15:37
'প্রেম লিখিতেছে গান কোমল আখরে, অধরেতে থরেথরে চুম্বনের খেলা...'
নিঃস্বার্থ ভাললাগা ব্যক্ত করার সহজাত প্রবৃত্তি হোক কিংবা ভালবাসার দখল নিতে অন্যের থেকে শিখে নেওয়া এক পন্থা... চুমুর কোনও বিকল্প আছে বলে জানা নেই। ঠোঁটের আলতো ছোঁয়া বা হামলে পড়া আস্ফালন—এক চুমুতেই তোলপাড় হতে পারে আসমুদ্রহিমাচল।
কিছু চুমু নতুন বইয়ের মতো, বারবার গন্ধ পেতে ইচ্ছে করে। কিছু চুমু বহু বছর হাত না পড়া পুরনো অ্যালবামের মতো, শুধু স্মৃতি রয়ে যায়। তবে অবহেলিত হলেও, তারাই হাসি ফোটায় অবেলায়, অনটনে। এক কথায়, প্রতিটা চুমুই এক-একটি অনুভূতি। কখনও যা প্রকাশ করা হয় না, আবার কখনও প্রকাশ করার সুযোগ মেলে না। কখনও আবার প্রকাশ করার ইচ্ছা হলেও আটকে যেতে হয়, বেখেয়ালে।
অনুভূতি প্রকাশের অভ্যাসে আরাম আছে। বৃষ্টিতে মাটির গন্ধ পাওয়ার মতো, গরমের বিকেলের আড্ডার মতো, মায়ের আদরের মতো। ঠোঁটের আলতো ছোঁয়ায় দিকভ্রান্ত হওয়া যায়, তবে নতুন দিশাও পাওয়া যায়। একটা চুমুতেই বিদ্রোহ হয়, একটা চুমুই আসক্তি বাড়ায়। সময়ে অসময়ে টোকা মারে বুকের ভিতরের জানলায়। 'অবনী বাড়ি আছে’ কিনা জানতে চায়। শুনতে চায় রবীন্দ্রনাথ।
চুমুর জন্ম নিয়ে অনেক লেখালেখি রয়েছে। ইতিহাস ঘাঁটতে গেলে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। তবে চুম্বনের গভীরতা নিয়ে হয়তো কোনও লেখালেখি হয়নি। আসলে অনুভূতিকে অক্ষর হিসেবে ফুটিয়ে তোলা বড্ড কঠিন। কারণ বলে ফেলা শব্দগুলোর থেকে নিশ্চুপ ভাষার ওজন সবসময়ই বেশি। তাই তো যখন বুক ভারী হয়, হাত-পা অবশ হয়, খাবার গিলতে কষ্ট হয়, জলে ডুবে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তখন সব তছনছ করে মাথা তুলে শ্বাস নেওয়ার বন্ধু হয়ে উঠতে পারে শ্বাস বন্ধ করা একটা চুমুই! এক ঝটকায় কাছে টেনে চামড়া ছুঁলেই লক্ষ্মীশ্রী হারিয়ে ফেলা হৃদয়টা লক্ষ্মীছাড়া হয়ে উঠতে সময় নেয় না।
তবে চুমু কি কেবলই ‘স্পর্শ কাতর’? চামড়ার সঙ্গে চামড়া ছুঁয়ে চুম্বনেই কি শুধু আবেগ থাকে? কক্ষনো না। তাই তো তেপান্তরের মাঠের ওপার থেকে যখন স্নেহের ছোঁয়া পাওয়া যায়, তখনই হয়তো ভাললাগা ভালবাসায় পরিণত হয়ে যায়। ভেঙে যায় সমস্ত ব্যারিকেড। যুদ্ধে আর ভয় লাগে না, বন্দুকের গুলি ফুলের পাপড়ি মনে হয়। একটা চুমুই হাতিয়ার হয়ে ওঠে সহস্র বাধা টপকানোর। প্রেমের অঙ্ক মিলে গেলে এক আকাশের চাঁদ দেখা যায় অযুত মাইল দূর থেকেও।
চুমু আদতে ভালবাসার প্রকাশ। মুখে না বললেও সহজেই তা বুঝিয়ে দেওয়া যায়। তবে নিজেকে নারায়ণ ভেবে উদিত হয়ে নয়, চুমুর আসক্তি থাক ভাললাগার মধ্যেই। দূরে থাকা অপরূপার জন্য উড়ে যাক, ভালবাসার সম্মানে বিদ্রোহী হয়ে উঠুক। স্নেহের মাধুর্যকে আরও গাঢ় করুক। সবরকম রূপে-রসে-গন্ধে-স্পর্শে অনুরণন ছড়িয়ে দিক প্রেমের তারে তারে।
কাউকে অপু ভেবে কোনও অপর্ণা যদি সিগারেটের বাক্সে লিখে রাখে, 'খাবার পরে একটা করে, কথা দিয়েছ', তাহলে সেটা স্নেহচুম্বনের থেকে কম কীসে...